advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

বাসায় নামাজ আদায় ও প্রার্থনার নির্দেশনা সরকারের

নিজস্ব প্রতিবেদক
৭ এপ্রিল ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৭ এপ্রিল ২০২০ ০০:৩১
advertisement

দেশে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে সাধারণ নাগরিকদের মসজিদ ও উপাসনালয়ে না গিয়ে বাসায় থেকে নামাজ আদায় ও প্রার্থনা করার নির্দেশনা দিয়েছে সরকার। এ নির্দেশনা অমান্য করলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়। সৌদি আরবসহ বিশ্বের বিভিন্ন মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশে মসজিদ বন্ধের সিদ্ধান্ত আসার পর দেরিতে হলেও বাংলাদেশ সরকার একই ধরনের নির্দেশনা দিল।

গতকাল সোমবার ধর্ম মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. সাখাওয়াৎ হোসেন স্বাক্ষরিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘গত ২৯ মার্চ ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ডাকে দেশের শীর্ষস্থানীয়

আলেমরা মিলিত হয়ে মসজিদে মুসল্লিদের উপস্থিতি সীমিত রাখার বিষয়ে সর্বসম্মত আহ্বান জানিয়েছিলেন। এর পর থেকে পরিস্থিতি দ্রুত ভয়ঙ্কর অবনতির দিকে যাচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে সর্বোচ্চ পর্যায়ে সবার সঙ্গে পরামর্শক্রমে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মসজিদের ক্ষেত্রে খতিব, ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেম ছাড়া অন্য সব মুসল্লিকে সরকারের পক্ষ থেকে নিজ নিজ বাসস্থানে নামাজ আদায় এবং জুমার জামাতে অংশগ্রহণের পরিবর্তে জোহরের নামাজ আদায়ের নির্দেশ দেওয়া যাচ্ছে।

মসজিদে জামাত চালু রাখার প্রয়োজন হলে প্রতি ওয়াক্তে খতিব, ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেমসহ সর্বোচ্চ পাঁচজন এবং জুমার জামাতে সর্বোচ্চ ১০ জন শরিক হতে পারবেন।

এ ছাড়া অন্যান্য ধর্মের অনুসারীদের উপাসনালয়ে সমবেত না হয়ে নিজ নিজ বাসায় উপাসনা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সারাদেশে কোথাও এখন ওয়াজ-মাহফিল, তাফসির মাহফিল, তাবলিগ তালিম বা মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা যাবে না। সবাই ব্যক্তিগতভাবে জিকির ও দোয়ার মাধ্যমে মহামারী থেকে মুক্তির প্রার্থনা করবেন। অন্য ধর্মের অনুসারীরা এ সময়ে কোনো ধর্মীয় বা সামাজিক আচার-অনুষ্ঠানে সমবেত হতে পারবেন না।

সব ধর্মের মূল নীতির আলোকে এবং জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার স্বার্থে এ নির্দেশনা জারি করা হলো জানিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, উল্লিখিত নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটিকে অনুরোধ জানানো হল। কোনো প্রতিষ্ঠানে সরকারি নির্দেশে লঙ্ঘিত হলে প্রশাসন সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বাধ্য হবে।

জামাতের বিষয়ে সরকারি নির্দেশনা শরিয়াহসম্মত : আহমদ শফী

মসজিদে জামাত ও জুমায় মুসল্লির উপস্থিতিকে সীমিত রাখার সরকারি নির্দেশনা শরিয়াহর দৃষ্টিকোণ থেকে সঠিক ও যথার্থ বলে জানিয়েছেন হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফী। করোনা ভাইরাসের ব্যাপক বিস্তার ঠেকাতে মসজিদে আপাতত না যাওয়ার যে নির্দেশনা দিয়েছে সরকার, তাতে সমর্থন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘জীবন বাঁচাতে বর্তমান সংকটময় মুহূর্তে সরকারের দেওয়া সব নির্দেশনা পালন করুন। সরকার কর্তৃক জারিকৃত নির্দেশনাকে মূল্যায়ন করা এবং তা উত্তমরূপে গ্রহণ করা মানবতার কল্যাণে আমাদের অপরিহার্য কর্তব্য।’ গতকাল সোমবার এক বিবৃতিতে তিনি এ কথা বলেন।

পবিত্র কোরআনের সূরা বাকারাহ ও সূরা নিসা থেকে দুটি আয়াত উদ্ধৃত করে আহমদ শফী বলেন, ‘ইসলাম নিজের বা অন্যের ক্ষতির কারণ হওয়াকে সমর্থন করে না; বরং নিষেধ করে। সর্তকতা ও সচেতনতা ইসলামের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। যে কোনো আশু ক্ষতি থেকে সতর্ক থাকা ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিধান।’

চলমান সংকটময় পরিস্থিতির বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘বিশ্ব আজ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত। আমাদের দেশও বর্তমানে বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। বর্তমান চিত্র ভয়াবহরূপ নিয়েছে। এই অবস্থায় সবাই ঘরে থাকুন, সরকারের নির্দেশনা যথাযথভাবে প্রতিপালন করুন। আল্লাহ সবাইকে এই মহামারী থেকে নাজাত দান করুন।’

advertisement