advertisement
advertisement

উপসর্গ নিয়ে ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে ৮ মৃত্যু

আমাদের সময় ডেস্ক
৭ এপ্রিল ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৭ এপ্রিল ২০২০ ০০:৩১
advertisement

করোনা উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে আরও সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলায় ওইসব ব্যক্তি মারা যান।

নিজস্ব প্রতিবেদক জানান, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে করোনার উপসর্গ নিয়ে আবু হানিফ নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল ভোর ৬টার দিকে তিনি মারা যান। করোনা ভাইরাস পরীক্ষার জন্য তার নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে।

মৃত আবু হানিফের পুত্রবধূ হালিমা আক্তার জানান, তার শ^শুর আবু হানিফের অ্যাজমার সমস্যা আছে। শ^াসকষ্ট হলে গত রবিবার রাত ৯টার দিকে ঢামেক হাসপাতালে মেডিসিন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। পরিস্থিতির

অবনতি হলে তাকে হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে স্থানন্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এ ছাড়া বরিশাল, ফরিদপুর, চট্টগ্রামের আনোয়ারা, নেত্রকোনার কেন্দুয়া, ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট, হবিগঞ্জের চুনারুঘাট, সিরাজগঞ্জের তাড়াশে গতকাল আরও সাত ব্যক্তি মারা যান। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরÑ

বরিশাল : শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ভর্তির ২০ মিনিটের মধ্যে এক পুরুষ রোগীর (৫০) মৃত্যু হয়েছে। গতকাল বিকালে জ্বর, গলাব্যথা ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে ভর্তি হন ওই পুরুষ। মৃত ওই পুরুষ ব্যক্তি বরিশাল সদর উপজেলার তালতলী এলাকার রানীমহলের বাসিন্দা। আমাদের সময়কে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. বাকির হোসেন।

ফরিদপুর : মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে করোনার উপসর্গ নিয়ে আইসোলেশনে থাকা আবু সেক (৭০) নামের এক ব্যক্তি মারা গেছেন। সোমবার সকাল ৮টার দিকে তিনি মারা যান। আবু সেক জেলার মধুখালী উপজেলার জাহাপুর ইউনিয়নের চর মুরাদিয়া গ্রামের বাসিন্দা।

ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. সাইফুর রহমান জানান, গত ৪ এপ্রিল সর্দি, স্বাসকষ্ট ও জ্বর নিয়ে তিনি ভর্তি হন। তিনি কিডনি সমস্যায়ও ভুগছিলেন।

নেত্রকোনা : কেন্দুয়া পৌরসভাধীন ৯ নম্বর ওয়ার্ডের নল্লা গ্রামের বাসিন্দা রিকশাচালক খাইরুল ইসলাম (১৮) করোনার উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন। গতকাল সকাল সাড়ে ৬টার দিকে মারা যান। খাইরুল ইসলাম নল্লা গ্রামের রমজান আলীর ছেলে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিক্যাল টিম মৃত যুবকের নমুনা সংগ্রহ করে নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে পাঠায়।

আনোয়ারা (চট্টগ্রাম) : উপজেলার শিলাইগড়া গ্রামে শ্বাসকষ্ট ও গলাব্যথা নিয়ে মোহাম্মদ শরীফ (২০) নামে এক তরুণ মারা গেছেন। রবিবার সন্ধ্যায় করোনার উপসর্গ দেখে স্বজনরা তাকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে রাত সাড়ে ৯টায় তার মৃত্যু হয়।

হালুয়াঘাট (ময়মনসিংহ) : জ্বর, সর্দি ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে আব্দুল মজিদ (৮০) নামে এক বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে। রবিবার বিকালে উপজেলার কৃষ্ণনগর গ্রাম থেকে করোনা সন্দেহে হালুয়াঘাট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসার পথে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় সোমবার সকালে মৃত ব্যক্তির নমুনা সংগ্রহ করে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া মৃত ব্যক্তির বাড়িসহ আশপাশের বাড়িগুলো লকডাউন ঘোষণা করেছেন বলে জানান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম।

হবিগঞ্জ : চুনারুঘাট উপজেলার পানছড়ি আশ্রয়ণ প্রকল্পে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার সকাল ৯টায় তিনি মারা যান। ৬০ বছর বয়সী এই বৃদ্ধ শ^াসকষ্টজনিত রোগে ভুগছিলেন বলে পরিবারের দাবি।

চুনারুঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সত্যজিত রায় দাশ বলেন, উপজেলার শানখলা ইউনিয়নের এই আশ্রয়কেন্দ্রটিতে মোট ২৪২টি পরিবার বসবাস করে।

তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) : করোনা ভাইরাসের উপসর্গ জ্বর ও বমি নিয়ে ২২ বছর বয়সী জাহিদুল ইসলাম নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। তিনি মাধাইনগর ইউনিয়নের সরাপপুর গ্রামের আব্দুস সাত্তারের ছেলে। এ ঘটনায় বিকাল ৫টার দিকে তাড়াশ উপজেলা ৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের একটি মেডিক্যাল টিমের সদস্যরা মৃত ব্যক্তির নমুনা সংগ্রহ করেন। নমুনা সংগ্রহের বিষয়টি তাড়াশ হাসপাতালের স্বাস্থ্য প. প. কর্মকর্তা মো. জামাল উদ্দিন মিঞা শোভন নিশ্চিত করেছেন।

অপরদিকে তাড়াশ থানার ওসি মো. মাহবুবুল ইসলাম জানিয়েছেন, যুবকের মৃত্যুর কারণে ওই বাড়িসহ আশপাশের ৭-১০টি বাড়ি লকডাউন করে দেওয়া হয়েছে গতকাল।

প্রতিবেদন তৈরিতে সহায়তা করেছেন বরিশাল প্রতিনিধি, ফরিদপুর প্রতিনিধি, হবিগঞ্জ প্রতিনিধি, কেন্দুয়া প্রতিনিধি, হালুয়াঘাট প্রতিনিধি, তাড়াশ প্রতিনিধি, আনোয়ারা (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

advertisement