advertisement
advertisement

দেশে আক্রান্ত ১০ জনে মারা যাচ্ছে একজন

পরীক্ষার হারেও খারাপ দেশের তালিকায়

সুমন মজুমদার
৭ এপ্রিল ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৭ এপ্রিল ২০২০ ০২:৩৮
প্রতীকী ছবি
advertisement

করোনা ভাইরাস মহামারীর জেরে বিশ্বজুড়ে মৃত ও আক্রান্তের সংখ্যা প্রতিদিনই হু হু করে বেড়ে চলেছে। আন্তর্জাতিক জরিপ সংস্থা ওয়ার্ল্ডোমিটার্সের তথ্যানুযায়ী, গতকাল সোমবার পর্যন্ত মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১২ লাখ ৯০ হাজার ও মৃতের সংখ্যা ৭১ হাজার ছাড়িয়েছে। এই মহামারীতে এখনো গোটা বিশ্বে প্রাণহানির হারে শীর্ষে আছে পশ্চিম ইউরোপের দেশ ইতালি।

গতকাল পর্যন্ত দেশটিতে মোট ১ লাখ ২৮ হাজারের বেশি আক্রান্ত ও মারা গেছে মোট ১৫ হাজার ৮৮৭ জন। অর্থাৎ শতকরা হিসেবে দেশটিতে মৃত্যুর হার এখন ১২.৩। করোনায় খারাপভাবে আক্রান্ত ইউরোপের অন্য দেশগুলোর মধ্যে মৃত্যুহারে এগিয়ে আছে স্পেন (৯.৭), যুক্তরাজ্য (১০.৩), ফ্রান্স (৮.৭) বেলজিয়াম (৭.৮) ও নেদারল্যান্ডস (৯.৯)। এ ছাড়া করোনার নতুন কেন্দ্র হয়ে ওঠা যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুহার এখনো ২.৯-এর মধ্যেই আছে।

তবে এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে মৃত্যুহারে এখন ইউরোপের দেশগুলোকে যেন পাল্লা দিচ্ছে বাংলাদেশ। সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) তথ্য অনুযায়ী, গতকাল পর্যন্ত দেশে মোট শনাক্ত করোনা রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২৩-এ, মারা গেছে মোট ১২ জন। অর্থাৎ শতকরা হিসেবে দেশে কোভিড-১৯ রোগে মৃত্যুহার এখন ৯.৮। আমাদের সময়ের প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ মার্চ থেকে ৬ এপ্রিল পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থানে করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে আরও ৬০ জন। এদের মধ্যে কতজন করোনা পজেটিভ ছিল তা এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। সেটা জানা গেলে নিশ্চিতভাবেই এই মৃত্যুহার আরও বাড়ত।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাত্র শতকের ঘর পার হওয়া শনাক্ত রোগীর মধ্যেও এত মৃত্যুহার মারাত্মক আশঙ্কার বার্তা দিচ্ছে। এ মহামারী মোকাবিলায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উচ্চপর্যায়ের একটি টেকনিক্যাল কমিটি কাজ করছে। একইসঙ্গে গৃহীত স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পর্যালোচনা ও সমন্বয়ে প্রতিটি বিভাগে একজন করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককে দায়িত্ব দেওয়া আছে। খোদ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে কাজ করছে একটি জাতীয় পর্যায়ে একটি কমিটি। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বাড়ানো হয়েছে করোনা পরীক্ষা কার্যক্রম। সরকারি কর্তাব্যক্তিরা বলেছেন, শনাক্ত হওয়া করোনা রোগীর চিকিৎসায় কোনো ত্রুটি রাখা হচ্ছে না। তার পরও দিনে দিনে মৃত্যুহার কেনো বাড়ছে তা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন।

পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর মধ্যে ভারতে গতকাল পর্যন্ত মোট করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে ৪ হাজার ৬৭ জন, মারা গেছে ১০৬ জন। অর্থাৎ শতকরা হিসেবে দেশটিতে মৃত্যুহার মাত্র ২.৬। পাকিস্তানে মোট ৩ হাজার ২৭৭ জন রোগীর মধ্যে মারা গেছে ৫০ জন; অর্থাৎ মৃত্যু হার ১.৫। এ ছাড়া শ্রীলংকা, নেপাল, মালদ্বীপে এই রোগে কোনো মৃত্যুই নেই। গোটা এশিয়ার মধ্যে মৃত্যুহারে বাংলাদেশের সঙ্গী কেবল ইন্দোনেশিয়া। মোট ২ হাজার ৪৯১ জন রোগীর মধ্যে দেশটিতে মারা গেছে ২০৯ জন। অর্থাৎ বাংলাদেশের ঠিক পেছনে ৮.৪ মৃত্যুহার নিয়ে অবস্থান করছে ইন্দোনেশিয়া।

এদিকে মোট জনসংখ্যা অনুযায়ী প্রতি ১০ লাখ মানুষে করোনা ভাইরাস পরীক্ষার হারে সবচেয়ে খারাপ দেশের তালিকায়ও নাম এসেছে বাংলাদেশের। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে আছে আফ্রিকার দেশ ইথিওপিয়া। ১০ কোটি ৫০ লাখ জনসংখ্যার দেশটিতে প্রতি ১০ লাখ মানুষের মধ্যে করোনা পরীক্ষা করা হয়েছে মাত্র ১৬ জনের। বাংলাদেশে প্রতি ১০ লাখ মানুষের মধ্যে পরীক্ষা হয়েছে ১৮ জনের। এর পরই অবস্থান আফ্রিকার আরেক দেশ নাইজেরিয়ার (১৯ জন)। ভারতে প্রতি ১০ লাখে করোনা পরীক্ষার হার ১০২ জন। ওয়ার্ল্ডোমিটার্সের পর্যালোচনায় এই তথ্য উঠে এসেছে।

পর্যালোচনায় দেখা যায়, প্রতি ১০ লাখ লোকে ৮ হাজার ৯৯৬ জনকে করোনা পরীক্ষা করে সবচেয়ে এগিয়ে আছে দক্ষিণ কোরিয়া। এর পরই আছে সিঙ্গাপুর (৬৬৬৬) ও মালয়েশিয়া (১৬০৫)। করোনার ভয়াবহ প্রাদুর্ভাবের মধ্যে থাকা শীর্ষ ৫ দেশে এই হার যুক্তরাষ্ট্রে ৫৩৬১, স্পেন ৭৫৯৩, ইতালি ১১৪৩৬, জার্মানি ১০৯৬২ ও ফ্রান্সে ৩৪৩৬ জন।

advertisement