advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

উদ্বিগ্ন পরিবেশবাদীরা
মেরে ফেলা হচ্ছে ডলফিন ভেসে আসছে সৈকতে

সরওয়ার আজম মানিক কক্সবাজার
৭ এপ্রিল ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৭ এপ্রিল ২০২০ ০০:৩১
advertisement

করোনা ভাইরাসের কারণে বিশ^ যখন টালমাটাল, তখন কক্সবাজার সৈকতে একের পর এক ভেসে আসছে মৃত ডলফিন। ভেসে আসা ডলফিনগুলোর দেহ ক্ষতবিক্ষত; আসছে মৃত কাছিমও। এতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পরিবেশবাদীরা।

সাগরপাড়ের জেলেরা জানান, গত এক সপ্তাহে কক্সবাজার সাগর উপকূলের বিভিন্ন পয়েন্টে ভেসে এসেছে অন্তত ১৫টি ডলফিনের মৃতদেহ। পাশাপাশি পাওয়া গেছে ৪টি কাছিমের মরদেহও। এর মধ্যে টেকনাফের শাপলাপুর সৈকতে ৪টি, দরিয়ানগর পয়েন্টে ৩টি, সান প্যারাস্যুট পয়েন্টে ৪টি ডলফিন ও দুটি কাছিমসহ বিভিন্ন পয়েন্টে ছোট-বড় ১৫টি ডলফিনের মৃতদেহ দেখা গেছে। এসব ডলফিনের শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে জানান তারা। উখিয়ার ইনানী

এলাকার জেলে আবদুল গফুর বলেন, এক সপ্তাহ ধরে মৃত ডলফিনগুলো ভেসে আসতে দেখেছি।

টেকনাফের বাহারছড়া এলাকার বোটমালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম বলেন, আমাদের ট্রলারগুলো ছোট। বড় বড় ট্রলারের জেলেদের জালে এসব ডলফিন আটকা পড়লে তাদের আঘাত করা হয়। কারণ ডলফিন জালে ঢুকলে তাদের মাছ আহরণে ব্যাঘাত ঘটে। কক্সবাজার ফিশিংবোট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন বলেন, ৭ থেকে ৮ বামের (৭-৮ মাইল) ভেতরে ডলফিনরা খেলা করে। এ সময় জালে আটকা পড়লে জেলেরা অনেক সময় তাদের হত্যা করে।

প্রাণ-প্রকৃতি রক্ষার আহ্বান জানিয়ে পরিবেশবিষয়ক সংগঠন এনভায়রনমেন্ট পিপলের প্রধান নির্বাহী রাশেদুল মজিদ বলেন, প্রাণ-প্রকৃতির ওপর এমন আঘাত মেনে নেওয়া যায় না। বিশ্বব্যাপী কোভিড ১৯-এর এমন ভয়াবহ দাপটেও আমরা থামছি না। এখনো আমরা কেন বুঝতে চাই না যে, অন্যান্য প্রাণী না থাকলে শুধু মানুষ নয়, পৃথিবীরই অস্তিত্ব থাকবে না। কক্সবাজার উপকূলে ডলফিনের এমন মৃত্যু চাই না। এটি আমাদের জন্য অশনিসংকেত। পরিবেশবিদ ফজলুল কাদের চৌধুরী বলেন, ডলফিনগুলোকে কারা হত্যা করছে তা দেখতে হবে। এসব ডলফিন মারা পড়লে আমাদের পরিবেশও হুমকির মুখে পড়বে।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক কামাল হোসেন বলেন, ডলফিন হত্যায় কারা জড়িতে সে বিষয়ে তদন্ত করছে জেলা প্রশাসন। কিছুদিনের মধ্যে এ রহস্য বেরিয়ে আসবে। এ ছাড়াও কয়েকটি এলাকাকে বিশেষ জোন ঘোষণা করে সব রকম মাছ আহরণ ও মানুষের চলাচল বন্ধ করা হবে। পরিবেশ আর প্রতিবেশ রক্ষার জন্য এ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

advertisement