advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

চিকিৎসা পায়নি ঢাবিছাত্র করোনা আক্রান্ত না হয়েও মৃত্যু করোনার জন্য!

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
৭ এপ্রিল ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৭ এপ্রিল ২০২০ ০০:৩১
advertisement

‘আমার করোনা হয়নি, অথচ পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে করোনার জন্য আমার মরে যেতে হবে’Ñ গত ২৬ মার্চ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন একটি স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সুমন চাকমা। ঠিক তার ১০ দিন পর গতকাল সোমবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে গ্রামের বাড়ি খাগড়াছড়িতে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের এ শিক্ষার্থী থাকতেন জগন্নাথ হলে।

জানা যায়, ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন সুমন চাকমা। সম্প্রতি তার ফুসফুসজনিত রোগও বেড়ে গিয়েছিল। কয়েকদিন ধরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন হাসপাতালের দ্বারাস্থ হন তিনি; কিন্তু চিকিৎসা নিতে পারেননি। পরে অসুস্থতা নিয়ে গ্রামের বাড়ি খাগড়াছড়ি চলে যান। সেখানেই তিনি গতকাল মারা যান। বিষয়টি নিশ্চিত করে সহপাঠী অনন্যা অনু বলেন, ‘সুমন দীর্ঘদিন ধরে একটা জটিল রোগে আক্রান্ত ছিল। ভারতেও তার চিকিৎসা করানো হয়েছে। সম্প্রতি ফুসফুসে পানি বেড়ে যাওয়ায় তার অসুস্থতা বেড়ে গিয়েছিল। চিকিৎসার জন্য অনেক দিন হাসপাতালের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছে সে; কিন্তু করোনাভীতিতে ঢাকায় কোনো হাসপাতালই তাকে ভর্তি নেয়নি। পরে তাকে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত বিনাচিকিৎসায় মারা যেতে হয়েছে।’

এদিকে তার মৃত্যুর সংবাদটি ছড়িয়ে পড়ে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপে। এতে রাষ্ট্রের চিকিৎসা অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করে বিভিন্ন ধরনের মন্তব্য করেন অনেক শিক্ষার্থী। সুমনের ব্যাচমেট ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক আখতার হোসেন বলেন, ‘আমার করোনা হয়নি, অথচ পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে করোনার জন্যই আমাকে মারা যেতে হবে’Ñ ১০ দিন আগে ফেসবুকে এমনটা লিখেছিল সে। কে জানতো এ কথাই সত্য হবে? ফুসফুসের অসুখ নিয়ে হাসপাতালের দ্বারে দ্বারে ঘুরতে ঘুরতে সে হারিয়ে গেছে। করোনার ভয়ে তার চিকিৎসা থেমে ছিল। কোনো মেডিক্যাল তার চিকিৎসা করায়নি।’ আক্ষেপের সুরে আখতার বলেন, ‘এ দুঃখবোধ তার পরিবার কেমনে সইছে জানি না। আর আমি ভাবছিÑ কতো অল্প বয়সেই তাকে চলে যেতে হলো। বিশ্ববিদ্যালয়ে আমরা একই সেশনের ইয়ারমেট। চলে যাবার আগে তার বলে যাওয়া কথাটি আরও কতজনের জন্য যে সত্য হয়ে উঠবে কে জানে?’

কানেতা ইয়া লাম লাম নামে সুমনের বিভাগের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘করোনার ধাক্কায় হয়ত অনেকেই হারিয়ে যাবে। কারণ ফুসফুসে পানি ওঠায় করোনার ভয়ে সুমনকে কোনো হাসপাতাল চিকিৎসা দিতে চায়নি; কিন্তু এগুলো মৃত্যু, না হত্যা? একটা আদিবাসী সম্প্রদায়ের পাহাড়ি অসচ্ছল পরিবারের সন্তানকে শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অবধি আসতে কত সংগ্রাম করতে হয়েছে, তা কি জানে রাষ্ট্র?’

advertisement