advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

যশোরে শত কোটি টাকার ক্ষতি কৃষক-ব্যবসায়ীদের

করোনায় ফুলের বাজার বন্ধ

উত্তম ঘোষ যশোর
৭ এপ্রিল ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৭ এপ্রিল ২০২০ ০৭:৫৬
যশোরের একটি বাগান থেকে ফুল সংগ্রহ করছেন এক চাষী- আমাদের সময়
advertisement

যশোরের গদখালিকে বলা হয় ফুলের রাজ্য। দেশের সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজারও সেখানে। তাই প্রতিদিন ভোর থেকে এ বাজারে আনাগোনা শুরু হয় গদখালি-পানিসারার কয়েক হাজার ফুল চাষির। তাদের কাছ থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ছোট-বড় পাইকাররা ফুল কিনে নিয়ে যান। এর পর হাতবদল হয়ে পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতার মাধ্যমে ফুলের রঙ ছড়ায় নানা বয়সের মানুষের মনে। বিশ্বব্যাপী প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসে ছন্দপতন সর্বত্র। এর প্রভাব পড়েছে গদখালিতেও।

সরেজমিন গত শনিবার গদখালি বাজারে দেখা যায়, যেখানে পূর্ব আকাশে লাল সূর্য উঁকি দেওয়ার আগেই জমে উঠত ফুলের বাজার, সেটি এখন জনমানবশূন্য। দাম নিয়ে নেই আগের মতো তর্কাতর্কি। নেই কোনো হাঁকডাক। গুটিকয় দোকানি বসে আছেন দোকান খুলে। নষ্ট হয়ে যাওয়ায় বাগান থেকে ফুল কেটে ছাগল-গরু দিয়ে খাওয়াচ্ছেন চাষিরা।

গদখালি ফ্লাওয়ার সোসাইটি জানায়, ঝিকরগাছা উপজেলার গদখালি-পানিসারার প্রায় সাড়ে ৫ হাজার কৃষক এবার ৬ হাজার হেক্টর জমিতে ফুলের আবাদ করছেন। আবহাওয়া ভালো থাকায় ফুলের উৎপাদনও হয়েছিল রেকর্ড পরিমাণ। ছাড়িয়েছিল দামেও।

গদখালি বাজারে প্রায় ১২ রকমের ফুল বেচাকেনা হয়। প্রতিবছর জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত ভরা মৌসুম। কিন্তু করোনা ভাইরাসে ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস ও বাংলা বর্ষবরণ উৎসব ঘিরে ফুল চাষি ও ব্যবসায়ীদের অন্তত ১০০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি সংশ্লিষ্ট এ সংগঠনটির।

গদখালি এলাকার কৃষক শাহজাহান জানান, তিনি এবার আড়াই বিঘা জমিতে গোলাপ লাগিয়েছেন। করোনার কারণে ১২ দিন ধরে বেচাবিক্রি না থাকায় সেই ফুল এখন গরু-ছাগলে খাচ্ছে। প্রতিদিনই দেড় থেকে দুই হাজার গোলাপ কাটতে হচ্ছে। তা না হলে বাগান নষ্ট হয়ে যায়, নতুন করে আর কুড়ি আসে না। একদিকে ফুলের বেচাকেনা নেই, অন্যদিকে ফুল কাটার জন্য শ্রমিক খরচ গুনতে হচ্ছে। এতে তার প্রতিদিনই লোকসান গুনতে হচ্ছে দুই হাজার টাকা।

পানিসারা এলাকার ফুল চাষি শের আলী বলেন, ‘আড়াই বিঘা জমিতে গোলাপের চাষ করেছি। বাগানে বিনিয়োগ করা আছে কয়েক লাখ টাকা। বাংলা বর্ষবরণ উৎসব সামনে রেখে ফুল উৎপাদনের ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। ঠিক সে সময়ই করোনার এ দুর্যোগের কারণে ১২ দিন ধরে পরিবহন-দোকানপাট বন্ধ রয়েছে। ফুলের বাজার বসছে না। ক্ষেত থেকে প্রতিদিনই দেড় হাজারের বেশি গোলাপ ফুল কেটে ছাগল-গরু দিয়ে খাওয়াতে হচ্ছে। অত্যন্ত খারাপ অবস্থার মধ্যে আছি এ এলাকার হাজারো ফুল চাষি। অনেকে বাগানের রজনীগন্ধা, গ্লাডিওলাস, জারবেরা ফুল কেটেও গরু দিয়ে খাওয়াচ্ছেন।’

বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার সোসাইটির সভাপতি আব্দুর রহিম বলেন, ‘করোনা ভাইরাসের কারণে গদখালির পাইকারি বাজার ২৪ মার্চ থেকে বন্ধ রয়েছে। চাষিরা ফুল বিক্রি করতে পারছেন না। আবার ক্ষেতে ফুল রাখতেও পারছেন না। তারা এখন উভয় সংকটে। স্বাধীনতা দিবস ও পহেলা বৈশাখের উৎসব ঘিরে যশোর অঞ্চলে ফুল চাষি ও ব্যবসায়ীদের অন্তত ১০০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। এ ক্ষতি পুষিয়ে নিতে এখনই কৃষকদের খাদ্য সরবারাহ ও বিনাসুদে সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করতে হবে। এ দাবিতে আমরা কৃষিমন্ত্রী ও সচিবের কাছে একটি স্মারকলিপিও দিয়েছি। বিষয়টি জেলা প্রশাসক ও ঝিকরগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকেও জানানো হয়েছে মৌখিকভাবে।’

 

advertisement