advertisement
advertisement

ফরমালিন দিয়ে মাছ বিক্রি করলে ৭ বছরের জেল

নিজস্ব প্রতিবেদক
৭ এপ্রিল ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৭ এপ্রিল ২০২০ ০০:৩৩
advertisement

রপ্তানি বা দেশের বাজারে ফরমালিনসহ ক্ষতিকর রাসায়নিক দিয়ে মাছ বা মৎস্যপণ্য বাজারজাতে শাস্তির মেয়াদ ও আর্থিক জরিমানা বাড়ানো হয়েছে। গতকাল সোমবার এ সংক্রান্ত মৎস্য ও মৎস্যপণ্য আইন (পরিদর্শন ও মাননিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০২০-এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে তার কার্যালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকটি হয়। পরে দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলনকক্ষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম সাংবাদিকদের এ কথা জানান।

আনোয়ারুল ইসলাম জানান, রপ্তানি বা অভ্যন্তরীণ বাজারে ক্ষতিকর রাসায়নিক দিয়ে মাছ বা মৎস্যপণ্য বাজারজাত করলে শাস্তি এক বছর বাড়িয়ে সাত বছর করা হয়েছে। তবে সেটি পাঁচ বছরের নিচে নয়। কারাদ-ের পাশাপাশি পাঁচ লাখ টাকা অর্থদ- ও উভয় দ- নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া ধারা ৩১, ৩২ ও ৩৪-এ অপরাধ ও দ-ের বিধান রয়েছে। ধারা ৩৩-এ পচা বা দূষিত মাছ বিক্রি করলে প্রশাসনিক জরিমানার বিধান রয়েছে অনধিক ৫০ হাজার টাকা।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, বর্তমান প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের মাছ ও মৎস্যপণ্যের বর্তমান রপ্তানি বাজার ধরে রাখা ও নতুন বাজারে অনুপ্রবেশ এবং মানসম্পন্ন মাছ ও মৎস্যপণ্য আমদানির জন্য অধ্যাদেশটি প্রয়োজনীয় সংশোধন, পরিবর্ধন, পরিমার্জন ও রহিতক্রমে করে বাংলাভাষায় আইনের খসড়া প্রস্তুত করা হয়। প্রস্তাবিত আইনটিতে ৯টি অধ্যায়ে ৫০টি ধারা রয়েছে। ধারা ২-এ প্রাসঙ্গিক ও প্রয়োগযোগ্য বিবেচনায় ‘অপদ্রব্য, অনাপত্তি, আঞ্চলিক উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ, কেন্দ্রীয় উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ, কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স ম্যানেজার,

ট্রেসিবিলিটি, পরিদর্শক, পরিদর্শনকারী, কর্মকর্তা, মিথ্যা সনদ বা দলিল, স্বাস্থ্যকরত্ব সনদ, স্থাপনার নতুন সংজ্ঞা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এলন আর লাইসেন্স ছাড়া কোনো ব্যক্তি মাছ ও মৎস্যপণ্য রপ্তানি, কারখানা বা স্থাপনা প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনা করতে পারবেন না। আইনে এসব পণ্যের মান নির্ধারণের এখতিয়ার উপযুক্ত কর্তৃপক্ষকে দেওয়া হয়েছে (ধারা-৩)। সরকার মান পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনে পরীক্ষাগার স্থাপন করতে পারবে। লাইসেন্সের শর্তভঙ্গসহ অসত্য তথ্য দেওয়া বা গোপন, একাধারে তিন বছর লাইসেন্স নবায়নে ব্যর্থতা, লাইসেন্স হস্তান্তর বা বিক্রি ইত্যাদি কারণে তা বাতিল করা হবে মর্মে বিধান করা হয়েছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পরিদর্শনকালে কারখানা বা স্থাপনায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং প্রক্রিয়াজাতকরণে মানের ব্যত্যয় পেলে অনধিক পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করতে পারবেন (ধারা ১৪)।

বাংলাদেশ রেফারেন্স ইনস্টিটিউট ফর কেমিক্যাল মেজারমেন্ট আইন ২০২০-এর খসড়াও গতকাল চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। বৈঠকের ভিডিও ফুটেজে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম, বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশিকে উপস্থিত থাকতে দেখা গেছে। বৈঠকে সবাই মাস্ক পরে ছিলেন এবং আলাদা আলাদা টেবিলে বসার ব্যবস্থা ছিল।

advertisement