advertisement
advertisement

প্রণোদনা প্যাকেজ
সফলভাবে বাস্তবায়ন হোক

৭ এপ্রিল ২০২০ ০০:০০
আপডেট: ৭ এপ্রিল ২০২০ ০০:৩৬
advertisement

প্রধানমন্ত্রীর সময়োচিত ৭২,৭৫০ কোটি টাকার প্রণোদনার ঘোষণাটি করোনা ভাইরাসের আঘাতজনিত অর্থনীতিকে এক ধরনের স্বস্তির বার্তা দিচ্ছে। ছোট, মাঝারি এমনকি বড় কোনো ব্যবসায়ীও এই প্যাকেজের বাইরে নয়Ñ এটাই হচ্ছে প্যাকেজটির সৌন্দর্যের দিক। যারা এতদিন বলে আসছিলেন মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) তুলনায় প্রণোদনা প্যাকেজের আকার সম্মানজনক হওয়া উচিত, তাদের মুখও এখন বন্ধ। এই প্রণোদনা জিডিপির ২ দশমিক ৭৩ শতাংশ। উন্নত অনেক দেশ এই বৈশ্বিক খরা পরিস্থিতিতে এই আকারের প্রণোদনাই ঘোষণা করেছে। যা হোক শেষ পর্যন্ত আমাদেরও প্রণোদনা ঘোষিত হলো। ধন্যবাদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

কিন্তু আমাদের প্রশ্ন অন্য জায়গায়। এই প্রণোদনা ঠিকভাবে বাস্তবায়ন হবে তো! যারা প্রকৃতপক্ষেই ক্ষতিগ্রস্ত অর্থাৎ তুলনামূলক বেশি ক্ষতির শিকার, তারাই পাবেন তো এই প্রণোদনা? কারণ অতীতের অনেক ঘটনা আছে দুর্যোগের সময় একদল সুযোগসন্ধানী ওতপেতে থাকে সরকারি সুবিধা বাগিয়ে নেওয়ার জন্য। এবার যেন তা না হয়।

রাজনৈতিক যোগসাজশের মাধ্যমে অযোগ্য প্রতিষ্ঠান যেন সুযোগ নিতে না পারে। আবার প্রণোদনা পাওয়ার যোগ্য প্রতিষ্ঠান যেন বঞ্চিত না হয়। এ ক্ষেত্রে ব্যাংক খাতের ভূমিকাকে বড় করে দেখার সুযোগ রয়েছে। যেহেতু টাকা দেবে ব্যাংকগুলো এবং আবেদনের বাছাইয়ের কাজগুলো ব্যাংকগুলোই করবে। বাংলাদেশ ব্যাংক এ ব্যাপারে নির্দেশনা দেবে এটাই স্বাভাবিক। নির্দেশনার মধ্যে কিছু শর্তও যেন থাকে, যা বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো অনুসরণ করতে বাধ্য হয়। অর্থনীতিতে এমনিতেই নেতিবাচক আঘাত পড়েছে। করোনার ছোবলের প্রভাব কতটা প্রলম্বিত হয়Ñ তাও আমাদের অজানা। ফলে কিছু দুষ্ট লোকের কারণে প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত এই প্যাকেজটির উদ্দেশ্য যেন নষ্ট না হয়। এই প্যাকেজ সুষ্ঠুভাবে কার্যকর ও বাস্তবায়িত হলে অর্থনীতি সচল হবে। এখন যেমন প্রায় দমবন্ধ অবস্থা, রাস্তাঘাট, কলকারখানার চাকা চলছে না, উৎপাদন বন্ধ, উন্নয়ন কর্মকা- স্থবির, আমদানি-রপ্তানিতে নেতিবাচক ধ্বনিÑ এ সব কিছুই আবার প্রাণ ফিরে পাবে এই প্যাকেজ যদি সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়ন করা হয়।

ঐতিহাসিক এই প্রণোদনা প্যাকেজ সফলভাবে বাস্তবায়িত হোকÑ এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

advertisement