advertisement
advertisement

করোনা ভাইরাসের মহামারী প্রতিরোধে সামাজিক ভ্যাকসিন

ডা. সজল আশফাক
৭ এপ্রিল ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৭ এপ্রিল ২০২০ ০০:৩৬
advertisement

২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীন কর্তৃপক্ষ বিশ্বকে জানায় যে, এক ধরনের ভাইরাস তাদের এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। পরবর্তী কয়েক মাস এ ভাইরাসটি আরও কিছু দেশে ছড়িয়ে পড়ে। কখনো কখনো এ ভাইরাসের সংক্রমণ দ্বিগুণ হারে বাড়তে থাকে। ভাইরাসটির নাম দেওয়া হয় সিভিআর অ্যাকিউট রেস্পিরেটরি ডিস্ট্রেস সিনড্রোম রিলেটেড করোনা ভাইরাস টু সার্চ কভ টু। তার পর রোগটির নাম দেওয়া হয় কোভিড-১৯, যা সাধারণের কাছে করোনা ভাইরাস নামে পরিচিত। এখন আমাদের সবার জানা উচিত, এ ভাইরাসটি আমাদের শরীরকে কীভাবে আক্রমণ করে এবং আমাদের কী করা উচিত।

ভাইরাস হলো জিনসম্পর্কিত উপাদান এবং আমিষের একটি গঠন; বলা হয়ে থাকে, এটি জীবিত কোনো কিছু নয়। এটি শুধু জীবিত দেহের কোষে প্রবেশ করার মাধ্যমে বংশবিস্তার করতে পারে। তবে করোনা ভাইরাস জড় বস্তুর সাহায্যে ছড়াতে পারে। কেউই নিশ্চিত করে সুস্পষ্টভাবে বলতে পারছে না যে, এটি জড় বস্তুর ওপর কতক্ষণ বেঁচে থাকতে পারে। এ নিয়ে নানা রকম মত রয়েছে। এটি প্রধানত হাঁচি, কাশি ও থুতুর সময় ছিটকে বেরোনো ক্ষুদ্র জলকণার ড্রপলেট মাধ্যমে ছড়ায়। অসুস্থ মানুষের হাত থেকে ভাইরাসটি করমর্দনের মাধ্যমে সুস্থ মানুষের হাতে চলে আসতে পারে। তা ছাড়া এ ভাইরাসে সংক্রমিত কোনো ব্যক্তি যা কিছু স্পর্শ করেন, সবকিছুতেই তিনি ভাইরাস রেখে আসতে পারেন। ফলে ভাইরাস আক্রান্ত মানুষটি যে জিনিসগুলো স্পর্শ করেছেন, সেই জায়গাগুলো যখন সুস্থ মানুষ স্পর্শ করেন তিনিও তার হাতে করে সেই ভাইরাসটি বহন করে নিয়ে যান। এবার এই সুস্থ মানুষটি যখন তার ভাইরাসযুক্ত হাত দিয়ে নাক-মুখ-চোখ স্পর্শ করেন, তখন তিনিও এ ভাইরাসে সংক্রমিত হয়ে পড়েন। এভাবেই করোনা ভাইরাস মানুষের শরীরে তার যাত্রা শুরু করে। শরীরে ঢোকার পর এর মূল লক্ষ্যস্থল হচ্ছে ফুসফুস প্লীহা ও পরিপাকতন্ত্র, যেখানে সে তার কার্যক্রম বেশ ভালোভাবেই চালাতে সক্ষম হয়। মাত্র কয়েকটি ভাইরাস ফুসফুস মারাত্মক অবস্থায় নিয়ে যেতে পারে। আমাদের ফুসফুসের ভেতরের দিকটা কোটি কোটি আবরণী কোষের মাধ্যমে আবৃত থাকে। শরীরের আরও অনেক অঙ্গ আছে, যেগুলো এই আবরণীর মাধ্যমে আবৃত থাকে এবং যার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে শরীরকে রোগ থেকে রক্ষা করা। করোনা ভাইরাস এই আবরণী কোষের একটি বিশেষ রিসেপ্টরের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে সেখানে তাদের জেনেটিক তথ্য ঢুকিয়ে দেয়। দেহের কোষ কিছু না বুঝে নতুন তথ্য অনুযায়ী কাজ করতে থাকে। কাজটি হচ্ছে নিজেদের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং পুনর্গঠন। কোষের মধ্যে সংখ্যা বৃদ্ধি করতে করতে একটি ভাইরাস যখন চূড়ান্ত মাত্রায় পৌঁছায়, তখন সে কোষকে আত্মহত্যার নির্দেশ দেয়। নির্দেশনা পেয়ে কোষটি নিজেকে ধ্বংস করে ফেলে। ফলে ইতোমধ্যে তার ভেতরে বেড়ে ওঠা অসংখ্য করোনা ভাইরাস মুক্ত হয়ে অন্য কোষকে একইভাবে আক্রমণ করতে থাকে। এভাবেই দেহে সংক্রমিত কোষের সংখ্যা খুব দ্রুত বাড়তে থাকে। মোটামুটি ১০ দিনের মধ্যে শরীরের লাখ লাখ কোষ কোটি কোটি ভাইরাসের মাধ্যমে ফুসফুস আক্রান্ত হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় ভাইরাস শরীরের খুব একটা ক্ষতি করেছে বলা যাবে না। তবে এ অবস্থায় আসার পর ভাইরাস শরীরকে প্রকৃতপক্ষে ক্ষতিগ্রস্ত করার অস্ত্র প্রয়োগ শুরু করে। ভাইরাস আপনার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ধ্বংস করার কাজে লিপ্ত হয়। আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বিপদের কারণ হতে পারে। সে কারণে এটিকে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণের দরকার রয়েছে। রোগ প্রতিরোধী কোষগুলো যখন ভাইরাসকে মেরে ফেলতে ফুসফুসে আসে, তখন ভাইরাস তাদের মেরে ফেলে এবং তাদের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ায়। কোষের তো আর চোখ-কান থাকে না। তাই দেহের কোষগুলো নিজেদের মধ্যে সাইটোকাইনিন নামক প্রোটিন উপাদানের মাধ্যমে পারস্পরিক যোগাযোগ রক্ষা করে। প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাপনায় করে থাকে এই সাইটোকাইনিন। করোনা ভাইরাস শরীর রোগ প্রতিরোধব্যবস্থাকে আরও বিচলিত করে দেয়। সেই সঙ্গে আরও বেশি সক্রিয় হতে উৎসাহ জোগায়। মোট কথা, এটি প্রতিরোধব্যবস্থাকে যুদ্ধে অবতীর্ণ হতে বাধ্য করে। ফলে শরীর প্রয়োজনের চেয়ে অনেক বেশিসংখ্যক সৈন্যকোষকে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠায়। আর এভাবেই শরীর অকারণে সৈন্যকোষ হারিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দুই ধরনের প্রতিরোধী কোষ এ সময় ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। যাদের একটি দল হলো নিউট্রোফিল; যারা জীবাণু মারতে দক্ষ এবং আমাদের শরীরের কোষে এসে শরীরে জৈব রস নিঃসরণ করে, আবার শত্রুর সঙ্গে বন্ধুকেও ধ্বংস করে দেয়। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কোষ হলো টি-সেল বা প্রতিরোধী কোষ। এরা সংক্রমিত কোষকে আদেশ দেয় আত্মহত্যা করার জন্য। কিন্তু টি-সেল বিভ্রান্ত হয়ে শরীরের সুস্থ কোষকেও আত্মহত্যার নির্দেশ দেয়। এভাবে প্রতিরোধকারী কোষের উপস্থিতি যত বাড়তে থাকে, তারা তত বেশি শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে, ফুসফুসের তত বেশি সুস্থ কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই ক্ষতি এতটাই ভয়াবহ হতে পারে যে, যা জীবনে পূরণ করা আর সম্ভব নাও হতে পারে।

বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণ ফিরে পায়। তখন এটি সংক্রমিত কোষগুলোকে ধ্বংস করে এবং সুস্থ কোষকে আক্রমণ করার প্রচেষ্টায় নিয়োজিত ভাইরাসকেও মেরে ফেলে। এভাবেই শরীরের অভ্যন্তরীণ যুদ্ধক্ষেত্র ভাইরাসমুক্ত হয়ে ক্রমেই শান্ত হতে থাকে এবং পর্যুদস্ত শরীরটা সুস্থতার দিকে এগিয়ে যায়। কারণ আক্রান্ত অধিকাংশরাই ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে যায়। প্রথম দিকে এদের হয়তো জ্বর এবং সামান্য কাশির উপসর্গ থাকে। তবে কিছু কিছু রোগের ক্ষেত্রে অবস্থা জটিল ও সংকটাপন্ন হয়ে থাকে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যানুযায়ী, এ রোগে মৃত্যুর হার ৩ দশমিক ৪ শতাংশ। প্রকৃতপক্ষে এটিকে চূড়ান্ত পরিসংখ্যান বলে ধরে নেওয়া যাবে না। কারণ প্রকৃত অর্থে, এ রোগে আক্রান্ত সবাইকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তবে এটা সহজেই বলা যায় যে, ফ্লুয়ের তুলনায় করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের হার অনেক বেশি। সংকটাপন্ন রোগীর ক্ষেত্রে রোগীর ফুসফুসের আবরণী কোষ ব্যাপক অংশজুড়ে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। শেষ হতে আবরণী কোষের বাইরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও নষ্ট হয়ে যায়।

ফলে শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়ার জন্য ব্যবহৃত ফুসফুসের মধ্যকার অতিক্ষুদ্র, বহুবচনে যাকে আমরা বলি অ্যালভিওলাই। সেই আলোভেলাইতে সুযোগসন্ধানী ব্যাকটেরিয়ার অনুপ্রবেশ ঘটে। স্বাভাবিক অবস্থায় ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে হয়তো বড় কোনো সমস্যা হয় না। কিন্তু এ ক্ষেত্রে খুব সহজে ফুসফুসের প্রদাহ বা নিউমোনিয়া হয়ে যায়, রোগীর তীব্র শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। যার জন্য কোনো এক পর্যায়ে রোগীর কৃত্রিমভাবে শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যবস্থা করতে হয়। এদিকে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে শরীরের রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা ভাইরাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে করতে অ্যান্টিভাইরাল উপাদান প্রস্তুত করে। এদিকে ব্যাকটেরিয়া দ্রুতগতিতে বংশ বৃদ্ধি করতে থাকে। আর শরীরের রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতাও ক্লান্ত হয়ে দুর্বল থেকে দুর্বলতর হয়ে পড়ে। ফলে ব্যাকটেরিয়া রক্তের মধ্যে প্রবেশ করে। এ অবস্থায় মৃত্যু অনেকটা নিশ্চিতই বলা যায়।

করোনা ভাইরাসকে অনেকেই ফ্লুয়ের সঙ্গে তুলনা করে থাকেন। করোনা ভাইরাস ফ্লুয়ের চেয়ে অনেক বেশি বিপজ্জনক।

চলমান মহামারীতে প্রকৃতপক্ষে মৃতের হার নিশ্চিতভাবে এখনই নির্ধারণ করা কঠিন। তবে আমরা এতটুকু বুঝতে পারছি যে, এটি ফ্লুয়ের চেয়ে অনেক বেশি সংক্রামক এবং দ্রুত ছড়ায়।

করোনা ভাইরাসের মতো মহামারীর সামনে এখন দুটি পথ। দ্রুত ও ধীর।

কোন ভবিষ্যৎ আমাদের জন্য অপেক্ষায় আছে? এটা নির্ভর করছে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার শুরুর দিকে আমরা কী প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছি, তার ওপর।

দ্রুতগতির মহামারীর পরিণাম হবে ভয়াবহ, দুর্গতিপূর্ণ এবং এতে অনেক মানুষ মারা যাবে। আর ধীরগতির মহামারী হলে হয়তো তার নাম আর ইতিহাসের পাতায় বিশেষভাবে লেখা হবে না। যেহেতু দ্রুতগতির মহামারীর বিস্তার ধীর করতে তেমন কোনো পাল্টা ব্যবস্থা নেই, তাই এটা খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

তা হলে কেন এটি এত বেশি ভয়াবহ?

কারণ দ্রুতগতির মহামারীতে একই সঙ্গে অনেক মানুষ আক্রান্ত হয়ে পড়ে। এ সংখ্যা যদি খুব বেড়ে যায়, তখন কোনো দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থাই সেটিকে আর সামলাতে পারে না। হঠাৎ এমন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ কারও কাছেই থাকে না। থাকে না প্রয়োজনীয় সংখ্যক ভেন্টিলেটর, স্বাস্থ্যকর্মী, ব্যক্তিগত প্রতিরক্ষামূলক উপকরণ। ফলে মানুষকে যথাযথ চিকিৎসা ছাড়াই মৃত্যুবরণ করতে হয়। পাশাপাশি চিকিৎসক, নার্স, অন্য স্বাস্থ্যকর্মীরা যত অসুস্থ হয়ে পড়বে, স্বাস্থ্যব্যবস্থাও তত ভেঙে পড়বে। এ অবস্থায় কে চিকিৎসা পাবে, আর কে পাবে না, এমন নির্মম সিদ্ধান্তও নিতে হয়। এ প্রেক্ষাপটে মৃত্যুর হার আশঙ্কাজনকভাবে বাড়বে, সেটাই স্বাভাবিক। এটি এড়াতে বিশ্বকে মানে আমাদের এমন কিছু করতে হবে, যাতে কোভিড-১৯ একটি ধীরগতির মহামারীতে পরিণত হয়। সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে তা হলে যে কোনো মহামারীর গতি কমানো সম্ভব, বিশেষ করে প্রথম অবস্থায়। তাই প্রথম দিকে যিনি অসুস্থ হবেন, চিকিৎসা নেবেন। আর রোগীর সংখ্যা কম থাকায় হাসপাতালও তার চিকিৎসা দিতে পারে।

যেহেতু আমাদের মধ্যে এখনো করোনা ভাইরাসের কোনো ভ্যাকসিন নেই, তাই আমাদের সামাজিক আচরণ পরিবর্তন করতে হবে। বলা যেতে পারে, এটি এক ধরনের সামাজিক ভ্যাকসিন। এর মানে হচ্ছে দুটি। প্রথমত, নিজে সংক্রমিত না হওয়া। দ্বিতীয়ত, অন্যকে সংক্রমিত না করা।

যদিও মনে হতে পারে, এটি খুবই সামান্য কাজ। তবে এই মুহূর্তে এটি একটি শ্রেষ্ঠ কাজ হিসেবে বিবেচিত। সেটি হচ্ছে হাত ধোয়া। এ হাত সাবান দিয়ে ধুতে হবে। কারণ সাবান হচ্ছে এ ক্ষেত্রে একটি মোক্ষম অস্ত্র। কারণ করোনা ভাইরাস চর্বির একটি আস্তরণের মাধ্যমে আবৃত থাকে। সাবান সহজেই চর্বির আস্তরণ ভেঙে দিতে পারে। চর্বির অস্ত্রহীন ভাইরাস অন্যকে সংক্রমিত করার শক্তি রাখে না। তা ছাড়া সাবান হাতকে পিচ্ছিল করে। ফলে হাত ধোয়ার সময় ভাইরাসও ধুয়ে চলে যায়। এটি যথাযথভাবে করতে, এমনভাবে হাত ধুতে হবে, যেন আপনি মরিচ কাটার পর হাত দিয়ে চোখ স্পর্শ করবেন। সাধারণভাবে সাবান দিয়ে ২০ সেকেন্ড হাত ধুলেই তা যথেষ্ট।

পরবর্তী কাজ হলো, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা। আমরা জানি, এটি কোনো ভালো অভিজ্ঞতা নয়। তবে এই সময়ে এটি খুব দরকারি। তার মানে হচ্ছে, কোনো করমর্দন নয়, কোনো কোলাকুলি নয়। আর আপনি যদি ঘরে থাকতে পারেন, থাকুন। অন্তত যারা সমাজটাকে চালু রাখার জন্য কাজ করছেন, তাদের স্বার্থে একটি ভালো কাজ হবে। যেমন ডাক্তার, ক্যাশিয়ার থেকে শুরু করে পুলিশÑ সবাই। আপনারা সবাই এদের ওপর নির্ভরশীল। তারাও আপনার ওপর নির্ভরশীল তাদের সুস্থতার জন্য।

রাষ্ট্রীয়ভাবে কোয়ারেন্টিনের অন্য মানে হতে পারে যেমনÑ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা, ঘরে আটকে থাকার আদেশ। কোয়ারেন্টিনে থাকাটা কোনো ভালো অভিজ্ঞতা নয়; জনপ্রিয় তো নয়ই। কিন্তু যারা রোগ নিয়ে গবেষণা করেন, তারা এ সময়ে গবেষণায় মনোনিবেশ করার সুযোগ পাবেন। এ সময়ে তারা ভ্যাকসিন আবিষ্কার এবং ওষুধ নিয়ে গবেষণা করে থাকেন। কাজেই আপনাকে যদি ধরেন টেনে রাখা হয়, তা হলে বুঝতে হবে এটা আপনার এবং সবার ভালোর জন্যই করা হয়েছে। তাই এ সিদ্ধান্তকে সম্মান জানানো উচিত।

এসবের কোনোটাই মজার বিষয় নয়। কিন্তু বৃহৎ উদ্দেশ্যে এটা খুবই সামান্য কষ্ট। পৃথিবীতে এই মহামারী কীভাবে শেষ হবে, সেটা নির্ভর করে কীভাবে এটা শুরু হয়েছিল তার ওপর। যদি এর সংক্রমণের হার দ্রুত ওপরের দিকে বাড়তে থাকে, তা হলে তার পরিণাম হবে ভয়াবহ। আর যদি তা খুব ধীরগতিতে শুরু হয়ে থাকে, তখন সেটা খুব খারাপভাবে শেষ হবে না।

আশার কথা হচ্ছে, আধুনিক এই যুগে সবকিছুই এখন আমাদের হাতের মুঠোয়; কথার কথাই ভাবুন আর আক্ষরিক অর্থেই ভাবুন।

ডা. সজল আশফাক : জনস্বাস্থ্যবিষয়ক নিবন্ধকার ও চিকিৎসক

advertisement