advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

গাজীপুর সাভারে খোলা ছিল শতাধিক পোশাক কারখানা

জাহিদুর রহমান সাভার ও আবুল হাসান গাজীপুর
৭ এপ্রিল ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৭ এপ্রিল ২০২০ ০০:৩৮
advertisement

করোনার ঝুঁকির মধ্যেও ঢাকার সাভার ও আশুলিয়া এবং গাজীপুরে গতকাল সোমবারও খোলা ছিল শতাধিক তৈরি পোশাক কারখানা। শ্রমিকদের বেতন দেওয়ার স্বার্থে কারখানা খোলার কথা বলা হলেও অধিকাংশ কারখানায় বেতন না দিয়েই ছুটি ঘোষণা করায় কোথাও কোথাও কারখানায় ভাঙচুর ও রাস্তায় নেমে সড়ক অবরোধ করেছে শ্রমিকরা। গাজীপুরে রাতদিন খোলা থাকা বেশ কিছু কারখানায় কাজ করছেন হাজার হাজার শ্রমিক। একই ফ্লোরে পাশাপাশি থেকে কাজ করতে হচ্ছে তাদের। মহামারী করোনা ভাইরাস সংক্রমণ থেকে সুরক্ষায় নেই তাদের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম। এ অবস্থায় নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন কর্মরত এসব শ্রমিকরা।

পিপিই এবং মাক্স উৎপাদনে থাকা কারখানা ছাড়া সব কারখানা আগামী ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।

সাভার ও আশুলিয়ায় ৭৩১টি পোশাক কারখানার মধ্যে সোমবার খোলা ছিল ১১৮টি। বিভিন্ন কারখানা ঘুরে দেখা গেছে শ্রমিকদের বেতন না দিয়ে তাদের অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়ে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে অধিকাংশ কারখানা। তবে ব্যতিক্রম ছিল সাভারের হেমায়েতপুরে একেএস গ্রুপের কারখানা। একেএইচ গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক ফরিদুল আলম জানান, শ্রমিকরা যাতে দীর্ঘ ছুটির সুযোগ নিয়ে গ্রামে ছড়িয়ে পড়তে না পারে সেটা মাথায় রাখার পাশাপাশি তাদের বেতন পরিশোধের জন্যই কারখানা খোলা রাখা হয়েছে।

এদিকে গাজীপুর সিটি করপোরেশনসহ বিভিন্ন উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকায় গড়ে ওঠেছে অন্তত সাড়ে তিন হাজার ছোট বড় পোশাক কারখানা। করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ-এর নির্দেশনায় ২য় দফায় ১১ এপ্রিল পর্যন্ত কারখানা সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে অন্তত ৯০ ভাগ কারখানার মালিক। কিন্তু বিজিএমইএ-এর এই আহ্বানের সাড়া না দিয়ে বেশ কিছু ছোটবড় প্রতিষ্ঠান এখনো তাদের কার্যক্রম চালু রেখেছে। এসব কারখানায় নেই প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য সুরক্ষা সরঞ্জাম, বালাই নেই সামাজিক দূরত্বের।

এ বিষয়ে কাশিমপুর এলাকার ডিবিএল কারখানার এক শ্রমিক বলেন, বিশেষজ্ঞরা যেখানে বলছেন, তিন ফুট দূরত্ব রেখে কাজ করার, সেখানে প্রতিটি ফ্লোরে এক ফুট দূরত্ব বজায় রেখে কাজ করার সুযোগ নেই। হাজার হাজার শ্রমিক শরীরের সঙ্গে শরীর, কাঁধের সঙ্গে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করছি। আমরা কিভাবে নিরাপদ থাকব। আমাদের হ্যান্ড গ্লাভস নেই, শুধু টয়লেটে হাত ধোয়ার জন্য হ্যান্ড ওয়াশের ব্যবস্থা করা হয়েছে। নিজেরা মাস্ক ব্যবহার করলেই কী করোনা থেকে মুক্ত থাকা যাবে।

করোনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র বলছেন, যারা কারখানা বন্ধের পর বাড়ি গেছেন এবং পুনরায় কর্মস্থলে ফিরে এসেছেন তাদের মধ্যে কেউ এ রোগে আক্রান্ত কী না তা বোঝা অত্যন্ত কঠিন।

advertisement