advertisement
advertisement

মডেল হতে পারে চৌগাছার চাঁদপাড়া

আজিজুর রহমান চৌগাছা (যশোর)
৭ এপ্রিল ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৭ এপ্রিল ২০২০ ০৮:০৮
এভাবে হাত ধুয়ে প্রবেশ করতে হয় গ্রামে
advertisement

করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে মডেল হতে পারে চৌগাছা উপজেলার চাঁদাপাড়া গ্রাম। গ্রামবাসীর উদ্যোগে গ্রামের কর্মহীন পরিবারগুলোর তালিকা করে বাড়ি বাড়ি খাবার পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। রবিবারের মধ্যেই গ্রামের ২৯১ কর্মহীনের পরিবারে পৌঁছে গেছে দশ দিনের খাদ্যসামগ্রী। একই সঙ্গে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে গ্রামটিকে স্থানীয়ভাবে লকডাউন করা হয়েছে।

গ্রামে প্রবেশের পাঁচটি সড়কের মাথায় বসানো হয়েছে অস্থায়ীভাবে বাঁশ দিয়ে ব্যারিকেড। জরুরি প্রয়োজনে কেউ গ্রামের বাইরে গেলে এসব ব্যারিকেডে আটকানো হচ্ছে। হাত ধোয়ার পর তাকে গ্রামে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে। গ্রামবাসীর সম্মিলিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এসব কর্মসূচি চলছে। কর্মহীন অসচ্ছল প্রত্যেকের পরিবারে ১৫ কেজি করে চাল, ২ কেজি গোল আলু, ১ কেজি মসুর ডাল, ১ লিটার সয়াবিন তেল, একটি সাবান, ৫০০ গ্রাম লবণ ও ৫০০ গ্রাম করে পেঁয়াজ দেওয়া হয়েছে।

গত ১ এপ্রিল গ্রামবাসী সম্মিলিতভাবে বসে সিদ্ধান্ত নেন, ২ এপ্রিল থেকে আগামী ১১ এপ্রিল পর্যন্ত গ্রামে বাইরের কেউ আসবে না, গ্রাম থেকেও কেউ বাইরে যাবে না। গ্রামের কর্মহীন মানুষদের জন্য এ কয়দিনের খাদ্যসামগ্রীর ব্যবস্থা করবে গ্রামের অপেক্ষাকৃত সচ্ছল পরিবারগুলো।

চাঁদপাড়া চৌগাছা উপজেলার অন্যতম বৃহৎ গ্রাম। নারায়ণপুর ইউনিয়নের অন্তর্গত গ্রামটিতে প্রায় দেড় হাজার পরিবারের বসবাস। তিন হাজারের ওপরে রয়েছেন ভোটার।

গ্রামের বাসিন্দা ও নারয়াণপুর ইউপি চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদিন মুকুলকে সভাপতি ও চৌগাছা প্রেসক্লাবের সম্পাদক প্রভাষক অমেদুল ইসলামকে সম্পাদক করে ২১ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি গ্রামের কর্মহীন মানুষদের খাদ্য ও আনুসঙ্গিক বিষয়গুলো দেখছে।

ভাটা শ্রমিক নিজাম উদ্দিন। চার সদস্যের পরিবার তার। লকডাউনের কারণে কর্মহীন হয়ে ঘরেই আছেন। তার ছেলে রাহুল চৌগাছা শহরে একটি মুদি দোকানে কাজ করত। কয়েক দিন আগে সে কাজ ছেড়ে কখনো ভাটায়, কখনো দিনমজুরি করত। সে-ও কর্মহীন। পরিবারটির মোবাইলে ফোন দিলে প্রথমে রিসিভ করেন রাহুল।

চৌগাছা প্রেসক্লাবের সম্পাদক প্রভাষক অমেদুল ইসলাম বলেন, আমরা গ্রামের যারা বিভিন্ন শ্রেণির চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, প্রবাসী আছি। সবাই মিলে গ্রামের প্রায় তিনশ পরিবারের দশ দিনের খাদ্যসামগ্রী সরবরাহ করার সিদ্ধান্ত নিই। সে অনুযায়ী তালিকা করে রবিবারের মধ্যেই আমরা বাড়ি বাড়ি খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দিয়েছি।

advertisement