advertisement
advertisement

অলিগলি জমজমাট পুলিশ এলে ফাঁকা

৭ এপ্রিল ২০২০ ০০:৫৪
আপডেট: ৭ এপ্রিল ২০২০ ০৯:২২
advertisement

করোনা ভাইরাসের বিস্তাররোধে সরকার ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে গা করছেন না রাজধানীর অনেকেই। ঘোষিত সাধারণ ছুটিকে অন্যান্য ছুটির মতো করেই কাটাতে চাইছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর টহলের সঙ্গে যেন চোর-পুলিশ খেলা খেলছেন তারা। এলাকায় পুলিশ এলেই সবাই দ্রুত বাসায় ঢুকছেন। পুলিশ চলে গেলেই আবার জমজমাট হয়ে উঠছে রাস্তা-অলিগলি। রাজধানীর অধিকাংশ পাড়া-মহল্লার চিত্র এমনই।

এদের অনেকেরই বাইরে বের হওয়ার কারণ খুবই তুচ্ছ- বাসায় বসে থাকতে ভালো লাগছে না, ধূমপান বা বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা। সকালে রাজধানীর মগবাজারের নয়াটোলা, আমবাগান, মধুবাগ ঘুরে দেখা যায়- এলাকার সরু রাস্তায় অনেক লোকের ভিড়। একটু পর পরই দুজন-চারজন মিলে দাঁড়িয়ে গল্প করছেন। জানতে চাইলে এমন আড্ডার একজন বললেন, বাসায় থাকতে থাকতে বিরক্ত হয়ে গেছি। তাই একটু বের হলাম। আমরা কিন্তু তিন ফুট দূরত্ব বজায় রেখেই দাঁড়িয়েছি।

শান্তিনগর, ইস্টার্ন প্লাস মার্কেট এলাকায় অনেক মানুষের মধ্যে সচেতনতা দেখা যায়। আবার অনেককেই গলির মধ্যে আড্ডা দিতেও দেখা গেছে।

দোকানের সামনে আড্ডা ও ধূমপান করতে দেখা গেছে। আবার খেটে খাওয়া মানুষদের রাস্তার মোড়ে মোড়ে বসে থাকতে দেখা গেছে। মিরপুরের উত্তর কাফরুল, নাহার বেকারি, ঝিলাপাড়, পূর্ব শেওড়াপাড়া, মাদবরের পুকুরপাড়, কাজীপাড়া, পুলপাড়, মিরপুর-১৩ ও ১৪ নম্বর এলাকায় রাস্তায় রাস্তায় চলছে আড্ডা। স্থানীয়রা বলছেন, এলাকায় পুলিশ এলে সবাই বাসায় চলে যায়। কিছুক্ষণ পর আবারও বের হয়। ইব্রাহিমপুর এলাকায় বিকাল হলেই চায়ের দোকানে আড্ডা জমে।

হাজারীবাগ এলাকার অলিগলিতেও সারাদিনই মানুষের আনাগোনা লেগে থাকে। স্থানীয়দের অনেকেই বলছেন, এ এলাকা দেখলে মনে হবে না মহামারী বলতে কিছু দেশে আছে। ঝিগাতলা এলাকার গলিগুলোরও একই অবস্থা। খিলগাঁও সি ব্লক, জোড়া পুকুর মাঠ ও পল্লীমা সংসদের গলিতেও নিয়মিত জমে আড্ডা। মিরপুরের মধ্য পাইকপাড়া, ৬০ ফিট এলাকায় অনেক মানুষকে রাস্তায় দেখা গেছে, যাদের কাজ নেই। নিকুঞ্জ এলাকায় গলির মধ্যেও আড্ডা দিতে দেখা যায় অনেককে।

আজিমপুর, পলাশী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, শাহবাগ, সেগুনবাগিচা, পল্টন ও খিলগাঁও এলাকার সরু গলিতে অনেককেই আড্ডা দিতে দেখা গেছে। তবে সন্ধ্যার পর কড়াকড়ি আরোপ করায় ভিড় কিছুটা কমে যায়।

বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, এসব এলাকার গলির মধ্যে বাচ্চারা খেলছে, ছেলেরা দলবেঁধে আড্ডা দিচ্ছে। পুলিশ আসে কিনা সেদিকে লক্ষ্য রেখেই আড্ডা দেয় ছেলেরা। তবে গতকাল সন্ধ্যার পর থেকে কড়াকাড়ি কিছুটা বৃদ্ধি পাওয়ায় মানুষ কম দেখা গেছে। কিন্তু দিনের বেলায় অনেক মানুষ রাস্তায় দেখা যায়।

হাজারীবাগ বিডিআর ১ নম্বর গেটের বাসিন্দা কামাল হোসেন জানান, তাদের এলাকাতে সারাদিন মহল্লায় কিশোর তরুণরা আড্ডা আর খোশগল্পে মেতে থাকছে। করোনা সংক্রমণের ক্ষেত্রে এরা ঝুঁকি তৈরি করছে বলে মনে করেন তিনি।

advertisement