advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

রাজশাহী জেলা লকডাউন

৭ এপ্রিল ২০২০ ০০:৫৫
আপডেট: ৭ এপ্রিল ২০২০ ০০:৫৫
advertisement

বলতে গেলে সারাদেশ থেকে একরকম বিচ্ছিন্নই রাখা হচ্ছে বন্দরনগরী চট্টগ্রাম, শিক্ষানগরীখ্যাত রাজশাহী ও শিল্পনগরী খুলনাকে। জরুরিসেবা, চিকিৎসা, ভোগ্যপণ্য ও রপ্তানি পণ্যবাহী গাড়ি ছাড়া আর কোনো চাকা চট্টগ্রাম শহরে যেমন চলবে না, তেমনি প্রবেশ ও বেরও হতে পারবে না। চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় এক জরুরি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। গতকাল রাত ১০টা থেকে এ নির্দেশ কার্যকরের লক্ষ্যে নগরীতে প্রবেশ ও বাহির হওয়ার পাঁচটি ফটকে পুলিশের তল্লাশিচৌকি বসানো হয়েছে।
চট্টগ্রামের পুলিশ কমিশনার মো. মাহাবুবর রহমান আমাদের সময়কে বলেন, ‘এটি চট্টগ্রামকে ঠিক বিচ্ছিন্ন করা নয়, তবে কঠোর নিয়ন্ত্রণের মধ্যে আনার ব্যবস্থা নেওয়া হলো। আমরা কাউকে অকারণে চট্টগ্রাম শহরে ঢুকতে কিংবা বের হতে দেব না। যারা আইন মানবে না, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
জানা যায়, গত দুদিনে সারাদেশে
করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা জ্যামিতিক হারে বেড়ে যাওয়ায় প্রশাসনেও উদ্বেগ বেড়েছে। চট্টগ্রামে নমুনা পরীক্ষায় দুজন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী পাওয়া গেছে। এর বাইরে উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন ৫ জন। ফলে চট্টগ্রাম শহর ও জেলাপর্যায়ে অন্তত ৩০টি বাড়ি লকডাউনে রয়েছে। এ অবস্থায় জনগণের চলাচল আরও সীমিত করার কথা ভাবছেন প্রশাসনের কর্মকর্তারা। তবে নগরীতে দিনের বেলা যানবাহন চলাচল একেবারে সীমিত হলেও সন্ধ্যা নামতে না নামতেই যথারীতি অলিগলিতে শুরু হয় তরুণদের আড্ডা। এটি কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভবÑ জানতে চাইলে পুলিশ কমিশনার মো. মাহাবুবর রহমান বলেন, ‘পুলিশ এরই মধ্যে আরও কঠোর অবস্থানে যাবে।’
এদিকে করোনা নিয়ে বাড়তি সতর্কতার অংশ হিসেবে রাজশাহী জেলা লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। গতকাল দুপুরে বিভাগীয় সমন্বয় কমিটির সভাশেষে এ কথা জানিয়েছেন রাজশাহী-২ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা। তিনি বলেন, ‘দেশে ধীরে ধীরে করোনার রোগী বাড়ছে। তাই বাড়তি সতর্কতা হিসেবে আমরা রাজশাহীকে লকডাউনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এ জেলার সঙ্গে আরেক জেলার যোগাযোগ আজ (সোমবার) থেকেই বন্ধ করা হয়েছে। তবে জরুরি খাদ্য ও ওষুধের মতো জরুরি পণ্যবাহী ট্রাক চলবে। জেলার সীমানায় পুলিশ থাকবে। তারা যানবাহন ও মানুষের চলাচলের বিষয়টি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করবে।’ পুলিশের এ কড়াকড়িকে জনস্বার্থে মেনে নিতে সবার প্রতি আহ্বানও জানান তিনি।
এ সময় সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, ‘বিভাগীয় সমন্বয় কমিটির সভায় পুরো চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা নিয়ে নানা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হয়েছে। রাজশাহী বিভাগের কেউ করোনায় আক্রান্ত হলে তার চিকিৎসা অথবা কেউ মারা গেলে দাফন প্রক্রিয়া কীভাবে হবে, এ বিষয়েও আলোচনা হয়েছে সভায়।’
এতে আরও উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার হুমায়ুন কবির খন্দকার, পুলিশের রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি একেএম হাফিজ আক্তার, রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জামিলুর রহমান, জেলা প্রশাসক মো. হামিদুল হক, বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. গোপেন্দ্রনাথ আচার্য্য ও সিভির সার্জন ডা. এনামুল হক।
করোনার সংক্রমণ প্রতিরোধে খুলনা মহানগরীতেও আসা-যাওয়া বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি) সোমবার রাতে এ ঘোষণা দেয়। এ বিষয়ে কেএমপির অতিরিক্ত উপকমিশনার শেখ মনিরুজ্জামান মিঠু জানান, সোমবার রাত থেকেই সরকার নির্ধারিত সুনির্দিষ্ট ব্যক্তি ও যানবাহন ব্যতীত অন্য সব মহানগরী এলাকা থেকে বের ও প্রবেশ বন্ধ থাকবে। ওষুধের দোকান ছাড়া অন্য সব দোকান বন্ধের ব্যাপারেও জেলা প্রশাসনের জারি করা গণবিজ্ঞপ্তিতে বর্ণিত সময় কার্যকর হবে। এ ঘোষণা বলবৎ থাকবে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত। এটি অমান্য করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

advertisement
Evall
advertisement