advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

ফিরিয়ে দিলো হাসপাতাল, রাস্তায় সন্তান প্রসব করলেন নারী

নিজস্ব প্রতিবেদক
৭ এপ্রিল ২০২০ ০৯:৫১ | আপডেট: ৭ এপ্রিল ২০২০ ১০:১৭
হাসপাতাল থেকে ফিরিয়ে দিলে রাস্তায় ছেলে সন্তান প্রসব করেন গৃহবধূ মিষ্টি। ছবি : সংগৃহীত
advertisement

গাইবান্ধার মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে এসেছিলেন মিষ্টি আকতার (২০) নামে এক গর্ভবতী। প্রসব ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে এলেও তাকে ভর্তি না নিয়ে ফেরত পাঠানো হয়। এর ১০ মিনিট পর রাস্তায়ই সন্তান জন্ম দেন তিনি।

গতকাল সোমবার রাত পৌনে ৮টার দিকে গাইবান্ধা মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র থেকে মাত্র ২০০ গজ দূরে মধ্যপাড়া সরকারি বিদ্যালয়ের সামনের রাস্তায় সন্তান প্রসব করেন মিষ্টি আকতার। তার স্বামীর নাম আব্দুর রশিদ। গ্রামের বাড়ি উপজেলার লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নে।

গাইবান্ধার মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের এমন ঘটনায় বিক্ষুব্ধ হন এলাকার লোকজন। পরে তারা প্রতিষ্ঠানটি ঘেরাও করেন।

মিষ্টির পরিবারের কাছ থেকে জানা গেছে, সোমবার প্রসব ব্যথা উঠলে আব্দুর রশিদ দ্রুত মিষ্টিকে গাইবান্ধা মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে নিয়ে যান। সেখানকার দায়িত্বরত কর্মী তৌহিদা বেগম কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই অন্তঃসত্ত্বা মিষ্টিকে অন্যত্র নিয়ে যেতে বলেন। পরিবারের পক্ষ থেকে একাধিকবার অনুরোধ করা হলেও বিষয়টি নিয়ে গুরুত্ব দেয়নি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

পরে সেখান থেকে ফেরার পথে হাসপাতাল থেকে ২০০ গজ দূরে মধ্যপাড়া সরকারি বিদ্যালয়ের সামনের রাস্তায় ছেলে সন্তান প্রসব করেন মিষ্টি। এতে সেখানকার উৎসুক জনতা বিক্ষুব্ধ হয়ে হাসপাতাল ঘেরাও করে। পরে বাধ্য হয়ে শিশু ও শিশুর মাকে চিকিৎসা দেয় শিশু কল্যাণ কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ।

গাইবান্ধা পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শহিদ আহমেদ ঘটনার পর সেখানে যান। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে মিষ্টি ও তার সন্তানকে যথাযথ চিকিৎসা প্রদানের নির্দেশ দেন। করোনাভাইরাসের আতঙ্কে যদি কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী রোগীদের সঙ্গে এ ধরনের আচরণ করেন তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে- এমন হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে গাইবান্ধা মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের চিকিৎসক ডা. সেকেন্দার আলী বলেন, ‘বিষয়টি খতিয়ে দেখে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মো. শাহরিয়ার বলেন, ‘বিষয়টিকে অত্যন্ত দুঃখজনক। নবজাতক ও তার মাকে চিকিৎসা দেওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষের প্রতি অনুরোধ জানাই।’

advertisement
Evall
advertisement