advertisement
advertisement

পবিত্র শবেবরাত
সংকট থেকে মুক্তি ও মঙ্গলময় হোক ভবিষ্যৎ

৯ এপ্রিল ২০২০ ০০:০০
আপডেট: ৮ এপ্রিল ২০২০ ২০:১৪
advertisement

আজ বৃহস্পতিবার রাতে পবিত্র শবেবরাত বা লাইলাতুল বরাত। সারাবিশ্বে মুসলমানরা এই রাতকে ভাগ্যরজনী হিসেবে পালন করে আসছেন। এই মর্যাদাপূর্ণ রাতে মহান আল্লাহতায়ালা বান্দাদের জন্য তাঁর অশেষ রহমতের দরজা খুলে দেন। ইসলাম ধর্মে শবেবরাতকে চারটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রজনীর অন্যতম হিসেবে বিবেচনা করা হয়ে থাকে। এ রাতে আল্লাহ পরবর্তী বছরের জন্য মানবজাতির রিজিক ও সবার ভাগ্য নির্ধারণ করেন এবং ধর্মপ্রাণ মুসলমানের সব পাপ ক্ষমা করে দেন। যারা পরবর্তী বছরে জন্মগ্রহণ ও মৃত্যুবরণ করবেন, তাদের তালিকা করা হয় এ রাতেই। এ কারণে রাতটি মুসলমানদের কাছে ভাগ্য নির্ধারণের রজনী হিসেবে বিবেচিত। এ রাতে মুসলমানরা আল্লাহর কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা করবেন। যারা রিজিক অনুসন্ধানকারী, তারা প্রার্থনা করবেন রিজিকের জন্য। বিপদ থেকে উদ্ধার পাওয়ার জন্য প্রার্থনা করবে বিপদগ্রস্ত মানুষ। ইসলামের নবী হজরত মুহাম্মদ (সা) এই রাতে নফল ইবাদত-বন্দেগিতে নিমগ্ন থাকতে মুসলমানদের নির্দেশনা দিয়ে গেছেন। এই রাতে আল্লাহতায়ালা তাঁর বান্দাদের জন্য উন্মুক্ত করে দেন রহমত ও দয়ার ভা-ার।

এবারের শবেবরাত এসেছে ভিন্ন প্রেক্ষাপটে। সারাবিশ্ব এখন করোনা ভাইরাসের করাল থাবায় জর্জরিত। প্রতিদিনই লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে মৃত ও আক্রান্তের সংখ্যা। সারাবিশ্বে এখন পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ৮২ হাজার ছাড়িয়েছে। বাংলাদেশেও এর সংক্রমণ চতুর্থ স্তরে পৌঁছেছে। এ সম্পাদকীয় লেখা পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ২০, আক্রান্ত ২১৮। সরকার ইতোমধ্যে সংক্রমণ রোধে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে স্কুল, কলেজ, অফিস, আদালত বন্ধ করাসহ ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন এলাকা লকডাউন করা। যেহেতু এখন কমিউনিটি ট্রান্সমিশন চলছে, সেহেতু আগামী ২-৩ সপ্তাহ আমাদের জন্য বেশি বিপজ্জনক।

মসজিদে জামাতের ক্ষেত্রেও সরকারের নির্দেশনা আছে। প্রতি ওয়াক্তের নামাজ ইমাম, মুয়াজ্জিন, খতিবসহ পাঁচজন নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে আদায় করবেন এবং জুমার নামাজ পড়তে পারবেন সর্বোচ্চ ১০ জন। তাই এবার শবেবরাতে নিজেকে ও অন্যকে নিরাপদে রাখতে ঘরে বসেই নামাজ আদায় করতে হবে। সারাবিশ্বে মানুষের জীবন সংকটময় হয়ে উঠেছে। নিজের জন্য প্রার্থনার পাশাপাশি আমরা দেশ ও বিশ্বমানবতার মঙ্গলেও সর্বশক্তিমান আল্লাহর করুণা প্রার্থনা করব। এই রাতের কল্যাণে সবার আগামী দিনগুলো সুন্দর হোক এবং এই রোগের প্রকোপ থেকে মুক্তি ঘটুক।

advertisement