advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

করোনার প্রভাব হবে সুদূরপ্রসারী
স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা জরুরি

৯ এপ্রিল ২০২০ ০০:০০
আপডেট: ৮ এপ্রিল ২০২০ ২০:১৪
advertisement

করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে দেখা যাচ্ছেÑ যারা কঠোরভাবে লকডাউন পালন করতে পেরেছেন, তারা উপকৃত হয়েছেন। এদিক থেকে এই রোগের উৎপত্তি দেশ চীনের কথা সর্বাগ্রে বলতে হবে। দক্ষিণ কোরিয়া ও সিঙ্গাপুরও সম্ভাব্য ব্যাপক সংক্রমণের আশঙ্কা রোধ করতে পেরেছে। বিপরীতে ইউরোপের দেশ ইতালি, স্পেন ও ফ্রান্স এবং যুক্তরাষ্ট্র লকডাউনের কঠোরতা পালনে ব্যর্থ হওয়ায় এর খেসারত দিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট স্বয়ং ডোনাল্ড ট্রাম্প মনে করছেন, তার দেশে অন্তত ২ লাখ মানুষ প্রাণ হারাবে।

আমাদের দেশে দেশজ সংক্রমণ প্রথম দিকে না থাকায় লকডাউনে আমরা দেরিতে গিয়েছি। তবে এখনো দেশে সংক্রমণের হার সীমিত। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, মানুষ লকডাউন মানতে চাইছে না। অনেকটা ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর দখলদারি এড়িয়ে বিকল্পপথ অনুসরণ করে নাগরিক জীবন অব্যাহত রাখার প্রক্রিয়াই অনুসরণ করছে সাধারণ মানুষ। তারা পুলিশ, র‌্যাব ও সামরিক বাহিনীর পাহারাদারি সহজেই এড়িয়ে চলছে। ফলে বড় রাস্তায় চলাচল কম হলেও বিকল্প গলিপথে মানুষের যাতায়াত অব্যাহত রয়েছে। তা ছাড়া সাধারণভাবে এ দেশের মানুষ বিজ্ঞানসম্মতভাবে চিন্তা করতে অভ্যস্ত নয়। তারা অনেকাংশে দৈব বা ভাগ্যের ওপর নির্ভরশীল। অনেক সময় স্রষ্টার ওপর সবটা দায়িত্ব চাপিয়ে নিজেরা দায়িত্বহীনভাবে চলাচল করতে থাকে। এখনো ওই মনোভাবের প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। এবারই প্রথম ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও প্রতিষ্ঠিত মওলানাদের সম্মতিতে মসজিদে সমাবেশ নিষিদ্ধ করা সম্ভব হয়েছে। ভারতের দিল্লি, মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর কিংবা পাকিস্তানের ইসলামাবাদে এই ধরনের মুসল্লি সমবেশ থেকেই ব্যাপক সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছিল। ফলে সংক্রমণের ব্যাপকতা এড়াতে এ ধরনের পদক্ষেপ প্রয়োজনীয় ছিল। মহামারীতে সতর্কতামূলক সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণের বিধান ধর্মীয়ভাবেও স্বীকৃত রয়েছে।

আমরা এখনো আশাবাদী, বাংলাদেশ সীমিত প্রাণহানি ও ভোগান্তির মাধ্যমে এই বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে পারবে। আমাদের দেশে তাপমাত্রা বাড়তে শুরু করেছেÑ যা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে অন্তত আগামী ৪-৫ মাস থাকবে। তা ছাড়া নিরক্ষীয় অঞ্চলে প্রবল বৃষ্টিতে সাধারণত ভাইরাসজনিত রোগের প্রাদুর্ভাব কমে আসে। এদিক থেকে প্রকৃতি ও আবহাওয়া আমাদের সহায়ক হবে বলে মনে হয়। ইউরোপ ও পশ্চিম গোলার্ধে মাত্র বসন্তকাল শুরু হওয়ায় দীর্ঘ শীতের পর রোদের দেখা পেয়ে সাধারণ মানুষ অভ্যাসবসত পার্ক, রেস্তোরাঁ ও অন্যান্য মুক্ত স্থানে যাতায়াত শুরু করেছে। ফলে তাদের পক্ষে করোনার প্রাদুর্ভাব সামলানো বেশ কঠিন হবে বলে মনে হয়। উন্নত বিশ্ব সংকট কাটিয়ে উঠতে না পারলে আমাদের অর্থনীতির সংকট চলতে থাকবে। এটি সামলানোর মতো অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক কাঠামো এখনো তৈরি হয়নি। ফলে দেশে করোনা সংক্রমণ দমিয়ে রাখা সম্ভব হলেও অর্থনীতির জন্য স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়ন অপরিহার্য।

advertisement