advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

ভয় সমাচার

আজহারুল ইসলাম অভি
৯ এপ্রিল ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৮ এপ্রিল ২০২০ ২০:২৪
advertisement

ভয় নিয়ে এ সমাজে প্রচলিত আছে অনেক কাহিনি। আবার এমন অনেক মানুষ আছে যারা ভয় পায় খুবই তুচ্ছ কিছু বিষয়কে, যা শুনলে আপনি হয়তো হেসেও দিতে পারেন সবার সামনে। ভয় নিয়ে সাজানো আমাদের এবারের আয়োজন নিয়ে বিস্তারিত জানাচ্ছেন আজহারুল ইসলাম অভি

লোহার চাবি দেখে অস্বাভাবিক আচরণ করতেন জার্মান সুরকার

অসাধারণ মেধা আর কর্মগুণে বিখ্যাতদের মাঝেও বিভিন্ন ধরনের ফোবিয়া আলোচিত ছিল। যেমন জার্মান সুরকার বিখ্যাত রবার্ট শুম্যান প্রায় সব সময়ই মেটালোফোবিয়ায় ভুগতেন। তার আতঙ্ক ছিল ধাতব জিনিসের প্রতি। বিশেষ করে লোহার চাবি দেখলেই তিনি অস্বাভাবিক আচরণ করতেন। ভয়ে কুঁকড়ে উঠতেন।

আমেরিকান অভিনেত্রী নাটালি উড পানি ভয় পেতেন

অসাধারণ মেধা আর কর্মগুণে বিখ্যাতদের মাঝেও বিভিন্ন ধরনের ফোবিয়া আলোচিত ছিল। যেমন আমেরিকান অভিনেত্রী নাটালি উডের কথাও বলা যায়। তিনি হাইড্রোফোবিয়ায় ভুগতেন। এ ধরনের ফোবিয়ায় সব সময় পানিতে ডুবে মরার ভয় তাড়া করে মানুষকে। তিনিও পানি দেখলেই আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়তেন।

নিজের মৃত্যু নিয়ে ভয়ে থাকতেন এডমন্ড ইয়েসি

কেউ কেউ অকালে মৃত্যুর ভয়ে ভীত থাকতেন। আতঙ্কগ্রস্ত বিখ্যাত ব্যক্তির তালিকার মধ্যে পড়েন ঔপন্যাসিক এডমন্ড ইয়েসি। তার একেবারেই বিচিত্র ধরনের ভয় ছিল। তিনি নিশ্চিতভাবে মারা গেছেন কিনা সেটা ভালোভাবে পরীক্ষা করা ও মৃত্যু নিশ্চিত করার জন্য ২০ গিনি ফি রেখে যান। তার নির্দেশ ছিলÑ তাকে কবর দেওয়ার আগে জুগুলার ভেইন কেটে ফেলার সময় যেন ডাক্তার যথেষ্ট সতর্কভাবে পরীক্ষা করে দেখেন তার সত্যি মৃত্যু হয়েছে কিনা।

অদ্ভুত কিছু ভয়

পাওয়া রোগ

লিওফোবিয়া

স্বাভাবিকভাবেই মানুষ সূর্যের আলোতে বাইরে বের হতে পছন্দ করে। কিন্তু হেলিওফোবিয়ায় আক্রান্তরা সূর্যের আলোর ভয়ে বাইরেই বের হতে চায় না। আর এর ফলে তাদের মধ্যে ভিটামিন ডি-এর অভাবজনিত রোগ দেখা যায়।

টোকোফোবিয়া

মা হওয়া প্রত্যেক বিবাহিত নারীর জীবনেই অনেক বড় একটি স্বপ্ন এবং মা হওয়ার অনুভূতি প্রত্যেক নারীর জন্যই শ্রেষ্ঠ একটি পাওয়া। কিন্তু এমন অনেকেই আছেন যারা গর্ভধারণে প্রচ- ভয় পেয়ে থাকেন। আর এই ফোবিয়াটির নাম হলো টোকোফোবিয়া। টোকোফোবিয়ায় আক্রান্ত নারীদের মধ্যে অনেকে সন্তান জন্মদানে, অনেকে আবার ‘ডেলিভারি’ শব্দটিতেই ভয় পেয়ে থাকেন।

পেডিওফোবিয়া

ছোট্ট শিশুদের অত্যন্ত পছন্দের একটি বস্তু হলো পুতুল। শুধু শিশুরাই নয়, একজোড়া সুন্দর চোখ ও মায়াবী চেহারার পুতুলকে কমবেশি সব বয়সের মানুষই পছন্দ করে থাকে। কিন্তু অবাক করা বিষয় হলো পেডিওফোবিয়ায় আক্রান্তরা পুতুলকে ভয় পেয়ে থাকে। তাদের ধারণা, পুতুলটি যে কোনো সময় জীবিত হয়ে উঠবে এবং তার ক্ষতি করে বসবে।

ডেইপনোফোবিয়া

পরিবারের সবার সঙ্গে ডিনার করার সময় স্বাভাবিকভাবেই সারাদিনের ঘটা বিভিন্ন ঘটনা নিয়ে আমরা কথা বলে থাকি। কিন্তু ডেইপনোফোবিয়ায় আক্রান্তরা ডিনারের সময় কথা বলতে ভয় পায়। তাই তারা খাবারের সময় চুপচাপ থাকে অথবা একা একাই খাবার খেয়ে থাকে।

স্পেকট্রোফোবিয়া

আয়নার নিজেদের চেহারা দেখতে কে না ভালোবাসে! কিন্তু এখন যদি বলা হয় যে, কেউ কেউ আয়নাকেও ভয় পেয়ে থাকে তা হলে তা কখনই বিশ্বাসযোগ্য হবে না। তবে অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, পৃথিবীতে এমন অনেক মানুষ আছে যারা আয়নাকে ভয় পেয়ে থাকে। তাদের ধারণা, আয়নার পেছনে অবস্থান করছে একটি ভৌতিক পৃথিবী, যা আয়নার দিকে তাকালেই তাকে নিজের দিকে টেনে নেবে। আয়নার প্রতি এই ভয়কে বলা হয়ে থাকে স্পেকট্রোফোবিয়া। স্পেকট্রোফোবিয়ায় আক্রান্তরা আয়নায় নিজেদের প্রতিবিম্বকেও ভয় পেয়ে থাকে। যদিও বা তারা জানে যে, তাদের এই ভয় একদম অযৌক্তিক, তবুও তারা সব সময় আতঙ্কগ্রস্ত থাকে। অনেক সময় তারা আয়নায় নিজেদের পেছনে মানুষের ছায়া বা মূর্তিও দেখে থাকে।

ভূতের ভয় আছে যেখানে

টাওয়ার অব লন্ডন : ইংল্যান্ডের সবচেয়ে ভুতুড়ে জায়গাগুলোর একটি টাওয়ার অব লন্ডন। ১০৭৮ সালে তৈরি হয় এটি। এখানে যেসব অশরীরী থাকার কথা শোনা যায় এর মধ্যে রাজা অষ্টম হেনরির স্ত্রী অ্যান বোলিনের ভূত সবচেয়ে বিখ্যাত। দুর্গের কামরাগুলোয় রহস্যময় দুটি ছোট শিশুকেও ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। আবার বিশাল এক ভালুকও হাজির হয় কখনো কখনো, যার বাস্তব কোনো অস্তিত্ব নেই।

বোর্গভেটেনেট : উত্তর সুইডেনের ছোট্ট এক গ্রাম এটি। ১৮৭৬ সালে তৈরি এক বাড়ির জন্যই বিখ্যাত গ্রামটি। ১৯২৭ সাল থেকে ভুতুড়ে ঘটনা ঘটতে শুরু করে ওই বাড়িটিতে। নানা ধরনের অদ্ভুত শব্দ কিংবা কোনো বস্তু আপনা-আপনি নড়াচড়া করার ঘটনা ঘটে। রহস্যময় নারী মূর্তি হাজির হয়, আবার অদৃশ্যও হয়ে যায়। বাড়িটির পুরনো ভাড়াটে লিন্ডগ্রেন চ্যাপম্যান দাবি করেন, চেয়ার থেকে মাঝে মাঝেই ছুড়ে ফেলে দেওয়া হতো তাকে। এখন দালানটি রেস্ট হাউস ও রেস্তোরাঁ হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

স্ট্যানলি হোটেল : আমেরিকার কলোরাডোয় ১৪২ কামরার এই হোটেলের ভৌতিক সব ঘটনায় অনুপ্রাণিত হয়ে স্টিফেন কিং লেখেন তার বিখ্যাত উপন্যাস ‘দ্য শাইনিং’। সাহসী পর্যটকরা এখানে রাত কাটান, অতিপ্রাকৃত কোনো অভিজ্ঞতার আশায়। হোটেলের পক্ষ থেকে গাইডসহ রাতে পর্যটকদের জন্য ট্যুরেরও আয়োজন করা হয়।

হ্যান্ডশেক করতে ভয় পেতেন আমিশা প্যাটেল!

অভিনেত্রী মার্লিন ডিয়েট্রিচের ফোবিয়াটি ছিল একেবারেই অন্যরকম। তিনি সব সময় শঙ্কিত থাকতেন কোনো লোকের সঙ্গে হ্যান্ডশেক করতে গিয়ে জীবাণুর দ্বারা আক্রান্ত হয়ে পড়তে পারেন। এ কারণে তিনি কোনোভাবেই কারও সঙ্গে কোনো কারণেই হ্যান্ডশেক করতেন না। বলিউড নায়িকা আমিশা প্যাটেলও ব্যাসিলো ফোবিয়ার রোগী। তিনি কারও সঙ্গে হ্যান্ডশেক করার পর প্রথম ডেটল, তার পর সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে ফেলেন।

সুন্দরী নারীকে

ভয়!

অনেক পুরুষ মানুষের মধ্যে ক্যালিজেইনফোবিয়া প্রকটভাবে থাকে। এ ধরনের ভয় প্রবল বলেই সুন্দরী নারীকে সাধারণ পরিচয় পর্ব থেকে শুরু করে প্রেমের প্রস্তাব দিতে পর্যন্ত মানুষ ভয় পায়। অকারণ অস্বস্তিতে ভুগতে থাকে তারা। কথা বললেই বা পরিচয় পর্ব থেকে বেশ খারাপ কিছু হতে পারেÑ এ ধরনের অমূলক ভবিষ্যতের দুশ্চিন্তায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়েন অনেকেই।

প্রিয় মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ হতে পারে যে ভয়ে

প্রিয় মানুষদের সান্নিধ্য ও ঘনিষ্ঠতা কার না ভালো লাগে! প্রিয় মানুষদের সঙ্গে কাটানো ঘনিষ্ঠ মুহূর্তগুলো আমাদের একটি ভালো সময় উপহার দেয়। কিন্তু আশ্চর্যজনক হলেও সত্য, মানুষদের ঘনিষ্ঠতাও কিছু কিছু মানুষের কাছে ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। অদ্ভুত ধরনের এই ফোবিয়াটির নাম হলো হেফিফোবিয়া। হেফিফোবিয়ার কারণে অনেক সময় আক্রান্তদের পারিবারিক ও ব্যক্তিগত সম্পর্কে জটিলতা দেখা দেয়। এ ছাড়া বৈবাহিক সম্পর্কেও ফাটল ধরার মতো ঘটনা ঘটে থাকে এই ফোবিয়ার কারণে।

যে রোগে রান্নাকে ভয় পায় মানুষ!

ম্যাগেইরোকোফোবিয়া একটি রোগের নাম। শব্দটি এসেছে গ্রিক শব্দ মাগেইরোকোস থেকে, যার অর্থ হলো রান্নায় দক্ষ একজন ব্যক্তি। এই ফোবিয়ায় আক্রান্তরা রান্না করতে ভয় পায়। শুধু তা-ই নয়, কিছু কিছু ক্ষেত্রে এরা ভালো রাঁধুনিদেরও ভয় পেয়ে থাকেন। রান্নাসংক্রান্ত সবকিছুই এরা এড়িয়ে চলেন।

advertisement