advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

‘ত্রাণ দিচ্ছে মুখ চিনে চিনে’

শ্রীমঙ্গলে অনেক দরিদ্র পরিবারে পৌঁছেনি সরকারি খাদ্য সহায়তা

চৌধুরী ভাস্কর হোম মৌলভীবাজার
৯ এপ্রিল ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৮ এপ্রিল ২০২০ ২১:৪০
advertisement

করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধ ও জনসমাগম এড়াতে গত ২৪ মার্চ থেকে শ্রীমঙ্গলে চলছে অঘোষিত লকডাউন। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে সরকারি নির্দেশনা মেনে চলতে বাধ্য করায় খেটে খাওয়া মানুষ এখন কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। কিন্তু গত ১৫ দিন ধরে ঘরে বসে থাকলেও তারা পাননি কোনো ত্রাণ সহায়তা। তাদের অভিযোগ, সরকারি খাদ্যসমাগ্রী দেওয়া হচ্ছে মুখ চিনে চিনে। আর এতে করোনা মোকাবিলায় সামাজিক নিরাপত্তা খাতে সরকারি যে খাদ্য প্রণোদনা কর্মসূচি তা প্রশ্নের মুখে পড়েছে।

তবে শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম বলেছেন, ইউনিয়নগুলো থেকে তালিকা এসেছে। এতে দরিদ্র ও অসহায় কেউ বাদ পড়লে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শ্রীমঙ্গল সদর ইউনিয়নের অন্তর্গত উত্তর ভাড়াউড়ার পূর্ব ও পশ্চিম ধারে বসবাসরত বেশিরভাগ মানুষই দরিদ্র। পুরুষরা ব্যাটারিচালিত রিকশা-ভ্যানচালক, দিনমজুর, দোকান শ্রমিক, দর্জির কারিগর এবং মেয়েরা ইট ভাঙা, বাসাবাড়িতে ঝিয়ের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। এমন অর্ধশতাধিক পরিবার সরকারি সহায়তা না পেয়ে নিদারুণ দুঃখ-কষ্টের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।

গত ৩ এপ্রিল এলাকায় সরকারি সহায়তার ৪ টন চাল বরাদ্দ এলেও এসব হতভাগ্য মানুষের কপালে জোটেনি একদানা মোটা চাল।

সদর ইউনিয়ন কমপ্লেক্সের পূর্বদিকে মাটির রাস্তা ধরে কিছুদূর এগিয়ে যেতেই দেখা হয় মিনা বেগমের সঙ্গে। স্বামী, ২ ছেলে, নাতি, ১ মেয়ে ও মেয়েজামাই নিয়ে ভাড়া বাসায় বসবাস। বললেন, ‘এতদিন হলো স্বামী ছেলেরা বেকার ঘরে বসা, কাজ-কাম নাই। ৬ মাসের বকেয়া বাসা ভাড়া মাথায় নিয়ে চোখে-মুখে অন্ধকার দেখছি। সরকার থেকে কত জায়গায় চাল-ডাল দিচ্ছে, আমাদের কপালে একটা দানাও জুটল না।’

একই এলাকার ডেইজি বেগমও জানালেন কর্মক্ষম ছেলে, তাদের বউ নিয়ে এতটা দিন হলো কোনোমতে খেয়ে না খেয়ে দিন কাটানোর কথা। বলেন, ‘মেম্বার, চেয়ারম্যান কেউ আমাদের খোঁজ নিতে আসেনি।’ বিধবা মাসুক বেগমের রাজমিস্ত্রি ছেলে গেল ১১ দিন ধরে কাজের সন্ধানে মৌলভীবাজার গিয়ে আটকা পড়েছে। ঘরে ছেলেবউ আর প্রতিবন্ধী ছোট ছেলে নিয়ে বিপদের মধ্যে রয়েছেন। বললেন, ‘শুধু শুনলাম সরকার চাল, ডাল, আলু দিচ্ছে। চেয়ারম্যান মেম্বার আইডি কার্ডের ফটোকপি জমা নিয়ে রেখেছেন চাল দেবে বলে, কিন্তু তার আর খবর নাই। প্রতিবেশীদের সাহায্য সহায়তায় কোনোমতে বেঁচে আছি।’ পশ্চিম ধারের হাওরের রাস্তায় বসবাসকারী দিনমজুর কাউছার মিয়া বলেন, ‘চোখের সামনে ইউনিয়ন থেকে যাদের চলার সামর্থ্য আছে এমন অনেক মানুষকে চাল-ডাল দেওয়া হলো, অথচ আমরা গরিব মানুষ, আমরা কিছুই পেলাম না। মেম্বাররা মুখ চিনে চিনে চাল-ডাল দিছে।’

এ ছাড়া ভাড়াউড়া চা বাগানের ৫ নম্বর বস্তির অনিয়মিত চা শ্রমিক পরিবারের সুচিত্রা দাশ, সবিতা দাশ, শ্রীতম দাশ, চন্দন দাশ, দুরপতি দাশ ও অনিতা জানিয়েছেন তারা এ পর্যন্ত সরকারি কোনো খাদ্য সহায়তা পাননি।

এদিকে ইউনিয়নে সরকারি খাদ্য বিতরণ ও নিবন্ধিত কার্ডধারী সুবিধাভোগীদের তালিকায়ও রয়েছে নানা অসঙ্গতি। অভিযোগ আছে, প্রকৃত দুস্থ মানুষদের বঞ্চিত করে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছের লোকদের ভিজিএফ কার্ড ও খাদ্য সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয়রা বলেছেন, অনেক পরিবার বিভিন্ন কর্মসূচির আওতায় একাধিকবার সরকারি খাদ্য সুবিধা পেলেও অনেকে একেবারেই বঞ্চিত হচ্ছেন।

এ ব্যাপারে শ্রীমঙ্গল সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ভানু লাল রায় জানান, সদর ইউনিয়ন ছাড়া অন্য ইউনিয়নের ভোটারদের খাদ্য সহায়তা দেওয়ার কোনো নির্দেশনা নেই। ইউএনও অফিস থেকে সে রকম কোনো নির্দেশনা পাওয়া গেলে তাদেরকেও সহায়তা দেওয়া হবে।

advertisement