advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

ত্রাণ পৌঁছানো ও জনসচেতনতায় জোর দিচ্ছে প্রশাসন

দীপক চৌধুরী বাপ্পী ব্রাহ্মণবাড়িয়া
৯ এপ্রিল ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৮ এপ্রিল ২০২০ ২১:৪০
advertisement

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সরকারের নির্র্দেশনা অনুসরণ করে বিভিন্ন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক হায়াত-উদ-দৌলা খাঁন। তার নিরবচ্ছিন্ন তৎপরতায় এ জেলা এক সময় অনেকটা ঝুঁকির মধ্যে থাকলেও এখন সে অবস্থা অনেকটাই কাটিয়ে উঠেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়াবাসী।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসন, সদর উপজেলাসহ জেলার ৯টি উপজেলা-ইউনিয়ন পর্যায়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, বাজারদর স্থিতিশীল রাখা ও কর্মহীন অসহায়দের তালিকা করে বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে খাদ্যসামগ্রী। বিভিন্ন নদীর শাখা-প্রশাখায় জড়িয়ে থাকা ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার প্রায় প্রতিটি উপজেলাতেই বিভিন্ন চরে বাস করা বিভিন্ন সম্প্রদায়ের নিকটও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা নিজে উপস্থিত হয়ে তাদের মাঝে সহায়তা বিতরণ করছেন। সরকারের নির্দেশনাকে সামনে রেখে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের প্রতিটি কর্মকর্তা-কর্মচারী জনসাধারণের সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, বিদেশ ফেরতদের হোম কোয়ারেন্টিন নিশ্চিতকরণ, হোম কোয়ারেন্টিনদের নিয়মিত ফলোআপ নিশ্চিতকরণে কাজ করছেন। প্রায় প্রতিদিন বিকাল থেকে সন্ধ্যায় জনসচেতনতা ও করণীয় নিয়ে মাইকিং করা হচ্ছে। শহর-বন্দর-গাঁয়ে মানুষের জনসমাগম নিরুৎসাহিত করতে সেনাবাহিনী, পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাবের সঙ্গে জেলা প্রশাসক সঙ্গতিপূর্ণ সমন্বয় রেখে কাজ করে যাচ্ছে।

বাজারদর স্থিতিশীল রাখা, সামাজিক নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখার লক্ষ্যে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের নেতৃত্বে প্রতিদিন একাধিক ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। মানুষকে ঘরে রাখা এবং কেউ যেন অভুক্ত না থাকে, জেলা ও উপজেলা প্রশাসন ইতোমধ্যে তা নিশ্চিত করেছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক হায়াত-উদ-দৌলা খাঁন বলেন, ভাইরাস প্রতিরোধে জনসচেতনতায় প্রতিনিয়ত বিভিন্ন স্পটে মাইকিং, হ্যান্ডবিল, লিফলেট বিতরণ করা হচ্ছে। জেলার বাসিন্দারা যাতে ঘরে থাকে এবং অপ্রয়োজনে ঘরের বাইরে যাওয়া থেকে বিরত থাকে, সে জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসক বলেন, আমাদের এখন প্রমাণ করতে হবে যে আমরা সচেতন। করোনামুক্ত না হতে পারলে আমরাও মুক্ত হতে পারব না। করোনাকে জয় করে আমাদের প্রমাণ করতে হবে- সচেতনতাই ব্রাহ্মণবাড়িয়া কিংবা বাংলাদেশ এখন আর পিছিয়ে নেই। জেলা প্রশাসক বলেন, গ্রামপর্যায়ে প্রতিটি দুস্থ মানুষের কাছে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং তারা দিচ্ছেন। সরকারের হাতে প্রচুর খাদ্যসামগ্রী মজুদ আছে এবং বাজারেও পর্যাপ্ত খাদ্যসামগ্রী অছে। ডিসি বলেন- কর্মহীন ও হতদরিদ্রদের জন্য আমরা এখন পর্যন্ত ৯৫০ টন চাল এবং নগদ ৩৮ লাখ টাকা বরাদ্দ পেয়েছি। ৭ এপ্রিল মঙ্গলবারও নতুন করে আরও নগদ অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ১ লাখ ৫৭ হাজার ৪৭৫ কেজি চাল বিতরণ করা হয়েছে। আর নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়েছে ১১ লাখ ৭০ হাজার ৮৪০ টাকা। এখনো আমাদের কাছে ৪১৯ টন চাল মজুদ রয়েছে। ত্রাণের জন্য কাউকেই কষ্ট করতে হবে না। এ ছাড়া সরকারি তথ্য সেবা নম্বর ৩৩৩-এ ফোন দিয়ে খাদ্যদ্রব্য সংগ্রহ করা যাবে বলেও তিনি জানিয়েছেন।

চিকিৎসকদের জন্য পর্যাপ্ত পারসোনাল প্রটেক্টিভ ইকুইপমেন্ট (পিপিই) মজুদ রয়েছে জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, ইতোমধ্যে জেলায় প্রায় সব হাসপাতালেই পিপিই পৌঁছানো হয়েছে।

advertisement