advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

নিত্যপণ্যের মজুদ ও সরবরাহ ঠিক রাখতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ

আবু আলী
৯ এপ্রিল ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৮ এপ্রিল ২০২০ ২২:২৬
advertisement

করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় দেশের সর্বত্র সব ধরনের নিত্যপণ্যের সরবরাহ ও মজুদ ঠিক রাখার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। কোনোভাবেই যাতে চাল, ডাল, তেল, পেঁয়াজ চিনিসহ নিত্যপণ্যের স্বাভাবিক মজুদ ও সরবরাহ ব্যবস্থায় বাধা সৃষ্টি না হয় তা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। খবর বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রের।

সূত্র জানিয়েছে, গত ৩১ মার্চ বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করেছে। ওই নির্দেশনা ইতোমধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান, স্বরাষ্ট্র সচিব, নৌপরিবহন সচিব, নদীবন্দর কর্তৃপক্ষ, স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে,

করোনার প্রাদুর্ভাবজনিত প্রেক্ষাপটে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উৎপাদন, পরিবহন ও সরবরাহ চেইন অব্যাহত রাখতে হবে। চাল, ডাল, তেল, পেঁয়াজ, রসুন, মসলা, লবণ, চিনি, আদা, শিশু খাদ্য, ওষুধ সামগ্রী, মাস্ক, হ্যান্ডস সেনিটাইজার এবং সব ধরনের চিকিৎসাসামগ্রী এর মধ্যে থাকবে।

অন্যদিকে আসন্ন রমজান মাসে যাতে পণ্যমূল্য স্থিতিশীল থাকে সেদিকে কঠোর নজর রয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের। এ ক্ষেত্রে দেশের ব্যবসায়ী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, চারটি গোয়েন্দা সংস্থাসহ জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে কাজ করতে বলা হয়েছে বলে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় রাজধানীসহ সারাদেশে সাধারণ ছুটি চলছে। এ সময় বন্ধ রয়েছে সব ধরনের গণপরিবহন। নিম্ন আয়ের মানুষসহ সব শ্রেণিপেশার মানুষ ঘরে বসে আছেন। অনেকেই কয়েকদিনের খাদ্যসহ নিত্যপণ্য মজুদ করেছে। অনেকে মজুদ করেননি। সরকারের পক্ষ থেকে বরাবরই বলা হচ্ছিল, দেশে কোনো পণ্যেরই ঘাটতি নেই। তাই আতঙ্কিত হয়ে বেশি পরিমাণে খাদ্যসহ নিত্যপণ্য কিনে রাখা বা মজুদ করার প্রয়োজন নেই। সরকার সব ধরনের নিত্যপণ্যের স্বাভাবিক সরবরাহ ঠিক রাখতে বদ্ধ পরিকর। তবে ইতোমধ্যেই পরিবহন সংকটের কারণে রাজধানীসহ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে খাদ্যসহ নিত্যপণ্য সরবরাহে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। চালের দাম বেড়েছে, সরকারের কোনো কার্যক্রমই চালের দাম আগের অবস্থায় নিয়ে যেতে পারেনি। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে উৎপাদিত সবজি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ক্রেতা নেই। একই অবস্থা পোল্ট্রি পণ্যের। ডিম ও মাংস উভয়ের দাম কমেছে ক্রেতার অভাবে। খামারিরা ক্রেতার অভাবে গরুর দুধ বিক্রি করতে পারছে না। অবিলম্বে এই সংকট দূর করতে না পারলে সমস্যা ভয়াবহ হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, সংকট মোকাবিলায় পণ্যের সরবরাহ সিস্টেম ধরে রাখতে হবে। এ মুহূর্তে যে কোনো উপায়ে সাপ্লাই চেইনের উন্নয়ন ঘটাতে হবে।

এ ছাড়া রমজান ও ঈদের সময় এসব পণ্যের চাহিদা এমনিতেই বাড়ে। তাই যে কোনো কিছুর বিনিময়ে বাজারে নিত্যপণ্যের সরবরাহ ঠিক রাখার প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে টিসিবির কার্যক্রম আরও জোরদার করার জন্য বলা হয়েছে। সরকারের সব ধরনের সামাজিক নিরাপত্তা বলয়ের আওতাভুক্ত কার্যক্রম শক্তিশালী করার কথা বলা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সব ধরনের যানবাহন চলাচলের সুযোগ দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। এতে সাধারণ মানুষের আয়ের পথ খুলবে। পণ্য সরবরাহ স্বাভাবিক হবে। বাজারসহ সর্বত্র গোয়েন্দা মনিটরিং বাড়ানোরও পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি জানিয়েছেন, বাজার ব্যবস্থাপনার দিকে সরকারের নজর রয়েছে। যখন যা প্রয়োজন তাই করা হবে। রোজা ও ঈদে সব ধরনের নিত্যপণ্যের চাহিদা বাড়ে, সেদিকে নজর রেখে সরবরাহ বাড়ানোরও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, দেশের উত্তরাঞ্চলে এবার সবজি উৎপাদন হয়েছে প্রচুর। করোনার প্রভাবে সবকিছুর সঙ্গে কমে গেছে রাজধানীতে সবজি আসাও। এতে একদিকে কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, অপরদিকে সবজি সরবরাহে সমস্যা তৈরি হচ্ছে। ফলে বাড়ছে দাম। এভাবে চলতে থাকলে দাম দিয়েও প্রয়োজনীয় সবজি পাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। ইতোমধ্যে নিম্ন আয়ের মানুষ ও শ্রমিকরা কাজ হারিয়েছেন। এ অবস্থায় যদি নিত্যপণ্যের সরবরাহ ব্যাহত হয়, দাম বাড়ে তা হলে এ শ্রেণির মানুষদের দিন পার করাই কঠিন হবে। পোল্ট্রি খামারিরা বলছেন, ব্রয়লার মুরগি বিক্রির জন্য পাইকার বা ক্রেতা পাচ্ছেন না তারা। একই অবস্থা ডেইরি খাতেরও।

advertisement