advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

পাঠদান সম্প্রচারেও করোনার হানা

এম এইচ রবিন
৯ এপ্রিল ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৮ এপ্রিল ২০২০ ২২:২৬
advertisement

করোনা ভাইরাস সংক্রমণ এড়াতে সব ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ। ক্লাসের পাঠদান কিছুটা পুষিয়ে নিতে প্রাক-প্রাথমিক থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত সংসদ টেলিভিশনে রেকর্ড করা পাঠদান সম্প্রচার করছে কর্তৃপক্ষ। কিন্তু এ কার্যক্রমেও হানা দিয়েছে করোনা আতঙ্ক। এ কার্যক্রমে যুক্ত অনেকেই ঘর থেকে বের হতে চাচ্ছেন না। ফলে ক্লাস ধারণের জন্য দক্ষ শিক্ষক, কারিগরি সহায়তাকারী জনবল সংকটে টেলিভিশনে ক্লাস নিয়মিত সম্প্রচার করাও চ্যালেঞ্জ হয়ে ওঠার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, টিভিতে যে বিকল্প পাঠদান শুরু হয়েছে প্রয়োজনের তুলনায় তার পরিধি পর্যাপ্ত নয়। ২ এপ্রিল পর্যন্ত সব বিষয় পাঠদানের আওতায় আনা যায়নি। বিশেষ করে ওইদিন পর্যন্ত বাংলা বিষয়ের পাঠদান শুরু করা যায়নি। ষষ্ঠ শ্রেণিতে কেবল ইংরেজি, বিজ্ঞান, বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় এবং আইসিটি বিষয়ের ক্লাস হচ্ছে। সপ্তম শ্রেণিতে গণিত, বাংলা ও ইংরেজির মতো বিষয়ের পাঠদান এখনো শুরু করা যায়নি। অষ্টম শ্রেণিতে কেবল গণিত, ইংরেজি ও বিজ্ঞানের পাঠদান চলছে। আর নবম শ্রেণিতে পাঠদান হচ্ছে আইসিটি, গণিত, বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়, ইংরেজি এবং রসায়নের। বিভাগভিত্তিক এই শ্রেণির অন্য বিভাগের পাঠদানের কোনো খবর নেই। শুরুতে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদানের ব্যবস্থা করার কথা ছিল। কিন্তু এখন পর্যন্ত তা শুরু হয়নি। বাকি চারটি শ্রেণির প্রতিটির দৈনিক দুটি করে বিষয়ের ২০ মিনিট করে ৪০ মিনিট পাঠদান করা হচ্ছে। দ্বিতীয় রুটিনে ৫ থেকে

৯ এপ্রিলে প্রচারিত ক্লাসেও দেখা যায়, আগের বিষয়গুলোর পাশাপাশি নবম শ্রেণিতে বাংলা ও পদার্থবিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণিতে বাংলা, গণিত, ষষ্ঠ-অষ্টম শ্রেণিতে বাংলা যুক্ত হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার তৃতীয় রুটিন প্রকাশ করা হবে বলে জানা গেছে।

করোনা ভাইরাস প্রাদুর্ভাবের কারণে ঘরবন্দি হয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা অব্যাহত রাখতে সংসদ বাংলাদেশ টেলিভিশনের মাধ্যমে পাঠদানের এ উদ্যোগ নিয়েছিল সরকার। এর অংশ হিসেবে ২৯ মার্চ ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির পাঠদান সম্প্রচার শুরু হয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের (ডিপিই) উদ্যোগে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদেরও পাঠদান শুরু হয়েছে গত মঙ্গলবার থেকে।

মাধ্যমিকের ক্লাস প্রসঙ্গে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশিক্ষণ) অধ্যাপক ড. প্রবীর কুমার ভট্টাচার্য্য বলেন, আমরা প্রাথমিক পর্যায়ে সব বিষয়ে পাঠদানের মতো শিক্ষক পাইনি। তবে পরে কিছুটা পাওয়া গেছে। দুই শতাধিক লেকচার ইতোমধ্যে আমরা রেকর্ডিং করিয়েছি।

রুটিন অনুযায়ী, ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত দৈনিক ৪টি করে ক্লাস সম্প্রচার করা হচ্ছে। অন্যদিকে প্রাথমিকের প্রাক-প্রাথমিক থেকে ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত দৈনিক ৬টি ক্লাস সম্প্রচার হচ্ছে।

দক্ষ শিক্ষক ও কারিগরি জনবলের সংকটের কথা জানিয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. ফসিউল্লাহ আমাদের সময়কে বলেন, ক্যামেরার সামনে ক্লাস নেওয়ার মতো দক্ষ শিক্ষকের ঘাটতি আছে। অনেক শিক্ষক আছেন যারা রাজধানীর বাইরে। তারা আসতে পারছেন না। আবার কারিগরি সহায়তাকারী জনবলের একটা সংকট তো আছেই। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে কেউ ঘর থেকে বের হতে চান না। এর পরও আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি, দেখা যাক কত দূর যাওয়া যায়। নতুন পাঠদান না হলে রেকর্ডকৃত ক্লাসগুলো পুনঃপ্রচার করা হবে। এ ছাড়া তো উপায় নেই।

তিনি আরও বলেন, আমরা এখন পর্যন্ত প্রায় ৭৮টি ক্লাস রেকর্ড করেছি। প্রতিদিন ছয়টি করে ক্লাস প্রয়োজন। প্রথম রুটিন অনুযায়ী তিন দিনের ১৮টি ক্লাস হচ্ছে। এর পর নতুন রুটিন প্রকাশ করব।

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত সব ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

রাজধানীর তেজগাঁওয়ের একটি সরকারি মাধ্যমিক স্কুলের প্রধান শিক্ষক বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার মতো পরিস্থিতি আছে বলে মনে হচ্ছে না। শিক্ষার্থীদের এখন বাসায় থেকেই লেখাপড়া করতে হবে। যখন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলবে হয়তো পরীক্ষাগুলো নেওয়া হবে। ক্লাস নেওয়ার সময় পাওয়া যাবে না। অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান, সন্তানরা যেন বাসায় নিয়মিত লেখাপড়া চালিয়ে যায়।

advertisement