advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

উপসর্গ নিয়ে তবলিগ ফেরা বৃদ্ধসহ ১৪ জনের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক
৯ এপ্রিল ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৮ এপ্রিল ২০২০ ২২:৫৫
advertisement

করোনা ভাইরাসের লক্ষণ নিয়ে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ২২ বছর বয়সী এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল বুধবার সকালের দিকে চিকিৎসাধীন তার মৃত্যু হয়। হাসপাতাল সূত্র জানায়, তিনি দীর্ঘদিন ধরে শ^াসকষ্টজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে। ঢামেক হাসপাতালের নতুন ভবনের ওয়ার্ড মাস্টার মো. আবুল হোসেন জানান, ওই যুবক প্রথমে সার্জারি বিভাগে ভর্তি ছিলেন। সেখান থেকে তাকে আইসোলেশন ওয়ার্ডে নেওয়া হয়। তার শ্বাসকষ্টসহ করোনা ভাইরাসের উপসর্গ ছিল। চিকিৎসাধীন সকালে তার মৃত্যু হয়। বর্তমানে মৃতদেহ মর্গে রাখা হয়েছে। তার নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। রিপোর্ট এলেই মরদেহের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এ ছাড়াও করোনা ভাইরাস সন্দেহে দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রতিদিনের মতো আরও ১২ জন যোগ হয়েছেন মৃত্যুর মিছিলে। এর মধ্যে বৃদ্ধের সংখ্যাই বেশি, আছেন তবলিগ ফেরত সদস্য ও যুবকও। ঢাকার বাইরে নিজস্ব প্রতিবেদক, জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরে এ তথ্য জানা যায়।

রাজশাহী : তবলিগ

জামাত দলের সঙ্গে ৪০ দিনের চিল্লায় কুষ্টিয়া যান রাজশাহীর বাঘা উপজেলার মিলিকবাঘা গ্রামের এক বৃদ্ধ (৬২)। চিল্লা শেষে গত রবিবার তিনি গ্রামে ফেরেন। পরে নিজেই স্থানীয় মাদ্রাসায় কোয়ারেন্টিনে যান। গতকাল বুধবার ভোরে সেখানেই তার মৃত্যু হয়। এতে গ্রামে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। করোনায় মৃত্যু হয়েছে ভেবে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা তার মরদেহের কাছে কেউ যাননি। পরে দাফনের ব্যবস্থা করা হয়। এ তথ্য নিশ্চিত করে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. সাইফুল ফেরদৌস বলেন, ‘ঘটনা জানার পর করোনা পরীক্ষার জন্য মৃত ব্যক্তির নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। পরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে তিনি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ছিলেন কিনা।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া : নাসিরনগর উপজেলায় শ্বাসকষ্টে এক প্রবাসীর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে উপজেলার জেঠাগ্রামে শ্বশুরবাড়িতে তিনি মারা যান। করোনা ভাইরাস সন্দেহে বাড়িটি লকডাউন করে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ৩৫ বছর বয়সী ওই মালয়েশিয়া প্রবাসী ১৮ মার্চ দেশে ফেরেন। এর পর উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের নির্দেশে ১৪ দিন হোম কোয়ারেন্টিনে থাকেন তিনি। তবে তার মধ্যে করোনার উপসর্গ না পাওয়ায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। এদিকে শ্বাসকষ্ট নিয়ে গতকাল নবীনগর উপজেলায়ও ২০ বছরের এক তরুণের মৃত্যু হয় বলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসক মোশরাত ফারখান্দা জেরিন নিশ্চিত করেছেন। তার বাড়ি কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার বলিঘর গ্রামে।

গাজীপুর : ঠা-া, সর্দি, জ্বর ও শ্বাসকষ্টের উপসর্গ নিয়ে গাজীপুরের কাপাসিয়ায় এক যুবকের (২৮) মৃত্যু হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার আবদুস সালাম জানান, ওই যুবক নারায়ণগঞ্জে ফার্মেসিতে কাজ করতেন। ২১ দিন আগে জ্বর, সর্দি, কাশি নিয়ে বাড়িতে আসেন। গত মঙ্গলবার মধ্যরাতে তার মৃত্যু হয়। পরে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রটোকল অনুযায়ীই দাফন করা হয় তাকে। তার আগে মৃতের ও পরিবারের সবার নমুনা সংগ্রহ করা হয়। সেই সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের রাখা হয়েছে হোম কোয়ারান্টিনে। বাড়িতে লাল পতাকা টানিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসমত আরা।

নীলফামারী : করোনার উপসর্গ নিয়ে ভারতের সীমান্ত এলাকা নীলফামারীর ডোমার উপজেলায় এক বৃদ্ধের (৬৮) মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার গভীর রাতে নিজ বাড়িতেই তিনি মারা যান। এ ঘটনায় বাড়িটি লকডাউন করা হয়েছে। গতকাল দুপুরে মৃতের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. ইব্রাহিম।

পিরোজপুর : তবলিগ ফেরত পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার এক বৃদ্ধের (৭০) মৃত্যু হয়েছে করোনার উপসর্গ নিয়ে। গতকাল ভোরে নিজ বাড়িতেই তিনি মারা যান বলে নিশ্চিত করেছেন তার মেয়েজামাই। দেশের বিভিন্ন এলাকায় চার মাসের চিল্লা শেষে গত ২৬ মার্চ বাড়ি ফিরেছিলেন ওই বৃদ্ধ। মৃতের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। সেই সঙ্গে পুরো এলাকা লকডাউনের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. হাসনাত ইউসুফ জাকী।

মানিকগঞ্জ : সর্দি-কাশি ও হাঁপানিতে মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার গোলড়া এলাকায় ৬৫ বছরের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। গতকাল নিজ বাড়িতে মারা যাওয়া ওই বৃদ্ধের নমুনা সংগ্রহ করে আইইডিসিআরে পাঠানো হয়েছে বলে জানান উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মামুন উর রশীদ। পাশাপাশি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুল আলম জানান, সতর্কতা অবলম্বনের জন্য মৃতের ঘরসহ আশপাশের তিনটি বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে।

নোয়াখালী : জ্বর, সর্দি ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার একলাশপুর ইউনিয়নে এক বৃদ্ধের (৭০) মৃত্যু হয়েছে। নিহতের শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করে চট্টগ্রামে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে বলে জানান উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. অসীম কুমার দাস। সেই সঙ্গে নিহতের পরিবারের লোকজনকে হোম কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে।

শরীয়তপুর : করোনা সন্দেহে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের আইসোলেশনে থাকা এক ব্যক্তি মারা গেছেন। গতকাল বিকাল ৪টার দিকে মৃত্যু হওয়া ৩০ বছরের ওই যুবকের বাড়ি নড়িয়া উপজেলায়। সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মুনির আহমেদ জানান, ওই যুবক অনেক অসুস্থ ছিলেন। মরদেহ থেকে নমুনা সংগ্রহ করে আইইডিসিআরে পাঠানো হয়েছে। সেই সঙ্গে ডব্লিউএইচওর নিয়মানুযায়ী তার সৎকার হয়।

বাঞ্ছারামপুর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) : করোনার উপসর্গ নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরের রূপসদী ইউনিয়নে ৫৭ বছরের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। গতকাল দুপুরে শ্বাসকষ্টের সমস্যা দেখা দেওয়ায় তাকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার আল মামুন জানান, মৃত ব্যক্তি নানা রোগে ভুগছিলেন। তার নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এদিকে উপজেলার চরছয়ানী গ্রামের ৩৬ বছরের এক যুবকও সর্দি, কাশি, শ্বাসকষ্টে মারা গেছেন। তবে করোনার কারণে তার মৃত্যু হয়েছে কিনা, এ রিপোর্ট লিখা পর্যন্ত জানা যায়নি। তাকে ঢাকায় পাঠিয়ে দেওয়ায় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাও কিছু জানাতে পারেননি।

আগৈলঝাড়া (বরিশাল) : গোল্ডেন লাইন পরিবহনের এক সুপারভাইজার (৩৫) করোনা উপসর্গ নিয়ে বরিশালের আগৈলঝাড়ায় নিজ বাড়িতে গতকাল মারা গেছেন। এ ঘটনায় আশপাশের ১৬ বাড়ির প্রায় পাঁচশ পরিবারকে লকডাউন করেছে প্রশাসন। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম বাবুল ভাট্টি এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

করিমগঞ্জ (কিশোরগঞ্জ) : করোনার উপসর্গ নিয়ে কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলায় এক যুবকের (২৫) মৃত্যু হয়েছে। বুধবার দুপুরে নিজ বাড়িতেই মারা যাওয়া ওই যুবকের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। সেই সঙ্গে তার বাড়ি লকডাউন করে দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

প্রতিবেদন তৈরিতে সহায়তা করেছেন নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া এবং গাজীপুর, নীলফামারী, পিরোজপুর, মানিকগঞ্জ, নোয়াখালী, শরীয়তপুর, বাঞ্ছারামপুর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) ও আগৈলঝাড়া (বরিশাল) প্রতিনিধি

advertisement