advertisement
advertisement

চীনের পক্ষ নিচ্ছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা হুমকি ট্রাম্পের

আমাদের সময় ডেস্ক
৯ এপ্রিল ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৮ এপ্রিল ২০২০ ২২:৫৫
advertisement

করোনা ভাইরাস ইস্যুতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) চীনের পক্ষ নিচ্ছে বলে মন্তব্য করে সংস্থাটিকে হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সংস্থাটিকে দেওয়া মার্কিন তহবিল বন্ধের হুমকি দেন তিনি। এ সময় যুক্তরাষ্ট্রে করোনা ভাইরাসে হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানির জন্যও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে দায়ী করেন ট্রাম্প। খবর : দ্য গার্ডিয়ান।

ট্রাম্প বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে বিপুল পরিমাণ তহবিল দেয় যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু তারা একের পর এক ভুল করেছে। তাদের তহবিল বন্ধের বিষয়ে আমরা চিন্তাভাবনা করব। তিনি আরও বলেন, তারা (ডব্লিউএইচও) বলছে, এটা ভুল, ওটা ভুল। আরও কয়েক মাস আগেই তাদের এগুলো বলা উচিত ছিল। তবে তারা সেটা করেনি। তারা বিষয়টি জানত এবং এটা তাদের

জানা উচিত ছিল। আমরা বিষয়টি দেখব। তাদের অর্থ ছাড় করার বিষয়টি আমরা আটকে দিতে যাচ্ছি।

ট্রাম্পের এমন মন্তব্যে এক সাংবাদিক জানতে চান, একটি মহামারীর মধ্যে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তহবিল বন্ধ করে দেওয়া কি ঠিক হবে? জবাবে ট্রাম্প বলেন, এটি বলছি না যে, আমি তহবিল বন্ধ করে দিতে যাচ্ছি। তবে আমরা বিষয়টা দেখছি। এ সময় আরেক সাংবাদিক বলেন, আপনি এটিই (তহবিল বন্ধ করে দেওয়া) বলেছেন। জবাবে ট্রাম্প বলেন, না, আমি এটি বলিনি। আমি বলেছিলাম, আমরা এ বিষয়টি দেখতে যাচ্ছি। এ নিয়ে আমরা তদন্ত করতে যাচ্ছি। তবে আমরা তহবিলের ইতি টানার বিষয়টি দেখব। তাদের সবকিছুই চীনের প্রতি পক্ষপাতদুষ্ট বলে মনে হচ্ছে। এটি ঠিক নয়।

ট্রাম্প বলেন, বহু বিষয়ে তারা (ডব্লিউএইচও) ভুল করেছে। প্রথম দিকে তাদের কাছে প্রচুর তথ্য ছিল। তাদের খুব চীনকেন্দ্রিক বলে মনে হয়েছে।

দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, করোনা পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে ২০২০ সালের ৩০ জানুয়ারি ‘পাবলিক হেল্থ ইমার্জেন্সি’ ঘোষণা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। এর প্রায় মাসখানেক পর ট্রাম্প টুইট করেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে করোনা ভাইরাস খুব ভালোভাবেই নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।’ তবে খোদ যুক্তরাষ্ট্রেই পরিস্থিতির অবনতি হতে শুরু করলে এ নিয়ে নিজের আগের অবস্থান থেকে সরে আসেন তিনি। নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের বাণিজ্য উপদেষ্টা পিটার নাভারো এক নথিতে জানুয়ারির শেষদিকে সতর্ক করেছিলেনÑ এই ভাইরাস লাখ লাখ আমেরিকানকে ঝুঁঁকিতে ফেলতে পারে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রিলিয়ন ডলার গচ্চা যেতে পারে। তবে মঙ্গলবারের সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প দাবি করেন, ওই সময়ে তিনি নথিগুলো দেখেননি। তবে নিজের বাণিজ্য উপদেষ্টার পরামর্শ অনুযায়ী তিনি চীন সফরে বিধিনিষেধ আরোপের মতো কমবেশি উদ্যোগ নিয়েছেন।

২ ফেব্রুয়ারি ট্রাম্পের ওই বিধিনিষেধ কার্যকর হয়। কিন্তু এর আগেই চীন থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি দেয় প্রায় ৪০ হাজার মানুষ। তবে ট্রাম্পের দাবি, পরিস্থিতি যে এতটা খারাপ হয়ে উঠবে তখনও তা স্পষ্ট ছিল না। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা সুসান রাইস ওয়াশিংটন পোস্টকে সতর্ক করে বলেছিলেন, ট্রাম্পের ভুল পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের লাখো মানুষের জীবন কেড়ে নিতে পারে।

ট্রাম্পের পক্ষ থেকে অবশ্য বরাবরই করোনা ভাইরাসকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত পরিস্থিতির দায় অস্বীকার করা হয়েছে। চীন, ওবামা প্রশাসন ও সংবাদমাধ্যমের ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা করেছেন তিনি।

advertisement