advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

শিশুর দায়িত্ব অভিভাবককেই নিতে হবে

ডা. ফারহানা আফরোজ সীমা
৯ এপ্রিল ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৮ এপ্রিল ২০২০ ২২:৫৫
advertisement

আজ যখন এ লেখাটা লিখছি, ঠিক তার কিছুক্ষণ আগে টেলিমেডিসিন সেবার মাধ্যমে কথা বললাম দুজন উদ্বিগ্ন মায়ের সঙ্গে। কোভিড-১৯ বিশ্বব্যাপী এক আতঙ্কের নাম। বাংলাদেশে কোভিড ১৯-এ আক্রান্ত প্রথম রোগী শনাক্ত হয় ৮ মার্চ ২০২০। এর পর থেকেই আমি মায়েদের মধ্যে একটা অস্থিরতা দেখতে পাই, অনুভব করি তাদের সন্তানদের কথা চিন্তা করে তারা কতটা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তাদের জন্য আজ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কথা বলব। হয়তো এগুলো আমরা সবাই জানি, তবু বারবার করে বলার উদ্দেশ্য হলো, এটা কতটা গুরুত্বপূর্ণ, সেটা অনুধাবন করা।

প্রথমত সন্তানের অভিভাবক হিসেবে আপনার প্রথম কাজ হলো, কোভিড-১৯ সম্পর্কে সন্তানদের একটা প্রাথমিক ধারণা দেওয়া। কিন্তু কোনোভাবেই এ ধারণা দিতে গিয়ে তাকে আতঙ্কিত করে ফেলা যাবে না। তাকে ধারণাটা এ কারণে দিতে হবে যে, আমরা কোভিড-১৯ থেকে সুরক্ষিত থাকতে যেসব ব্যবস্থা

গ্রহণ করব, সেগুলো পালন করা যে খুব দরকারি, সেটা বোঝানো। এখন আমরা শিশুদের কী কী করতে উৎসাহিত করবÑ

ঘন ঘন সাবান পানি দিয়ে ২০ সেকেন্ড ধরে হাত ধুয়ে নেবে। যেখানে সেখানে কফ, থুতু ফেলবে না। হাঁচি কাশির সময় নাক মুখ টিস্যু দিয়ে ঢেকে নেবে অথবা বাহুর ভাঁজে হাঁচি কাশি দেবে। ব্যবহৃত টিস্যু একটা মুখ বন্ধ বিনে ফেলবে এবং এর পর অবশ্যই হাত ধুয়ে নেবে। যেখানে বারবার হাত ধোয়ার ব্যবস্থা নেই, সেখানে হ্যান্ড স্যানিটাইজার অথবা অ্যালকোহল সলিউশন দিয়ে হাত পরিষ্কার করতে হবে। যেহেতু এখন স্কুল-কলেজ সব বন্ধ, তারা যেন বাসার বাইরে একদমই না যায়, সেটা নিশ্চিত করতে হবে।

শিশুদেরকে এ সাধারণ জিনিসগুলোয় ট্রেইনআপ করার দায়িত্ব অভিভাবকদেরই। পাশাপাশি সন্তানদের সুস্থ রাখার জন্য বাবা-মা এবং পরিবারের বড়দের আরও অনেক দায়িত্ব আছে।

বাসা-বাড়ি পরিষ্কার রাখা, বিশেষ করে দরজার হাতল, সুইচ বোর্ড, পানির কল, টিভির রিমোট ইত্যাদি নিয়মিত ডিটারজেন্টের পানিতে পরিষ্কার কাপড় ভিজিয়ে মুছে ফেলতে হবে অথবা ব্লিচিং পাউডার সলিউশন দিয়ে মুছতে হবে।

যাদের একান্তই বাসার বাইরে যেতে হয়, তারা অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করবেন। ফিরে মাস্কটি (যদি ডিসপোজেবল হয়) মুখ বন্ধ বিনে ফেলবেন আর কাপড়ের মাস্ক হলে ডিটারজেন্ট পানিতে ধুয়ে রোদে শুকাবেন।

কাশির শিষ্টাচার মেনে চলবেন। বাইরে থেকে ফিরে চশমা, চাবি, ব্যাগ ইত্যাদি ব্লিচিং পাউডার সলিউশন দিয়ে স্প্রে করবেন। বাইরের জুতা পরে ঘরে ঢুকবেন না এবং জুতার তলাও স্প্রে করুন। বাইরে থেকে ফিরে সরাসরি বাথরুমে ঢুকবেন এবং পরিধেয় কাপড় ধুয়ে একবারে গোসল করে বের হবেন। সামাজিক যোগাযোগ ফোন এবং সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে বজায় রাখুন। ফোনে আত্মীয়-স্বজনের খোঁজখবর নিন নিয়মিত। দীর্ঘদিন ধরে ঘরের চার দেয়ালের মধ্যে থেকে সন্তানদের মধ্যে মানসিক চাপ তৈরি হতে পারে। সে ক্ষেত্রে অভিভাবকদের উচিতÑ

সন্তানদের বেশি বেশি সময় দেওয়া এবং বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করা। সন্তানদের সঙ্গে ইনডোর গেমসে (লুডু, ক্যারম ইত্যাদি) অংশ নেওয়া। সন্তানদের বই পড়তে উৎসাহিত করা। সন্তানদের নিয়ে দিনের একটা নির্দিষ্ট সময় সামাজিক, পারিবারিক এবং ধর্মীয় ব্যাপারে আলোচনা করা। সন্তানদের মানসিকভাবে আশ্বস্ত করা। তাদের সঙ্গে কখনই রূঢ় আচরণ করা যাবে না। সন্তান যদি কোনো কারণে অসুস্থ হয়ে পড়ে, আতঙ্কিত না হয়ে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।

এখন পরিস্থিতি এমন যে, খুব সিরিয়াস অসুস্থ না হলে হাসপাতালে যেতে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে দেশে অনেকগুলো টেলিমেডিসিন সেবা চালু আছে। সরকারি উদ্যোগে স্বাস্থ্যবাতায়ন চব্বিশ ঘণ্টা রোগীদের টেলিমেডিসিন সেবা দিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি চিকিৎসকদের একটা সংগঠন এফডিএসআরের পক্ষ থেকে প্রায় একশ চিকিৎসক সম্পূর্ণ বিনা পারিশ্রমিকে টেলিমেডিসিন সেবা দিচ্ছে। ‘করোনা বার্তা’ নামে একটা ফেসবুক গ্রুপে নিয়মিত এ সম্পর্কে প্রচার করা হচ্ছে। সেখান থেকে নম্বর নিয়ে আপনারা চিকিৎসকদের কাছে পরামর্শ নিতে পারেন।

এ ছাড়া ভিজিট করতে পারেন এই ওয়েবসাইটটি ভফংৎঃবষবসবফ.পড়স।

সাধারণ জ্বর, সর্দি এবং কাশি বাসাতেই চিকিৎসায় সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে যায়। আর আশার কথা হলো বাচ্চারা কোভিড ১৯-এ আক্রান্ত হলেও বিশ্বব্যাপী এ রোগের শিশুদের ক্ষেত্রে সিভিয়ারিটি (তীব্রতা) কম। সব শিশুর ভালো থাকুক, সুস্থ থাকুক।

লেখক : ডা. ফারহানা আফরোজ সীমা, অ্যাসিসট্যান্ট প্রফেসর (শিশুরোগ বিভাগ), কুমুদিনী উইমেন্স মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল

advertisement