advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

বঙ্গবন্ধুর খুনি মাজেদ প্রাণভিক্ষা চেয়েছেন

আদালত প্রতিবেদক
৯ এপ্রিল ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৮ এপ্রিল ২০২০ ২২:৫৫
advertisement

বঙ্গবন্ধু হত্যামামলায় গ্রেপ্তার ফাঁসির দ-প্রাপ্ত আসামি ক্যাপ্টেন (বরখাস্ত) আবদুল মাজেদ রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন করেছেন। গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় কারা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তিনি প্রাণভিক্ষার আবেদন জানান। এর আগে গতকাল দুপুরে এ ঘাতকের মৃত্যু পরোয়ানা জারি করেন আদালত।

প্রাণভিক্ষার আবেদনের বিষয়টি নিশ্চিত করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা বিভাগের সচিব শহীদুজ্জামান বলেন, আমরা আবেদন পেয়েছি। এটি রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

দেশের ইতিহাসের নৃশংসতম ওই হত্যাকা-ের ঘটনায় ২২ বছর আগে ঘাতকদের মৃত্যুদ- দেন আদালত। পলাতক থাকায় মাজেদের জন্য এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের নির্ধারিত সময় শেষ হয়েছে বহু আগে। ফলে দ- থেকে মুক্তি পেতে শুধু রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন জানানোর সুযোগই বাকি আছে। মঙ্গলবার ভোরে গ্রেপ্তার মাজেদ গতকাল এ আবেদন জানান। রাষ্ট্রপতি এ আবেদন নাকচ করলে নিয়ম অনুযায়ী দ- কার্যকরে সরকারের সামনে

আর কোনো বাধা থাকবে না।

এর আগে এদিন দুপুর দেড়টার দিকে ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ হেলাল চৌধুরী আসামি মাজেদের বিরুদ্ধে মৃত্যু পরোয়ানা জারি করেন। পরে বেলা সাড়ে ৩টার দিকে মৃত্যু পরোয়ানা লাল কাপড়ে মুড়িয়ে ঢাকার কেরানীগঞ্জে কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়। কোতোয়ালি থানার এসআই উজ্জ্বল বিশ^াস ও আদালতের সেরেস্তার কর্মচারী অমল কৃষ্ণ কর এটি কারাগারে নিয়ে যান। কারা কর্তৃপক্ষ পরোয়ানাটি পাওয়ার পর জেল কোড অনুযায়ী ২১ থেকে ২৮ দিনের মধ্যে মৃত্যুদ- কার্যকরের ব্যবস্থা নেবে।

গত মঙ্গলবার ঢাকা সিএমএম আদালত বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনি মাজেদকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। কারাগারে পাঠানোর ওই আদেশ বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার বিচারিক আদালত ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ আদালত পায় গতকাল। আদালতটি করোনা ভাইরাসজনিত ছুটিতে থাকায় এ বিষয়ে তারা হাইকোর্টের দিকনির্দেশনা চেয়ে চিঠি পাঠান। এতে হাইকোর্ট ঢাকার জেলা ও দায়রা জজের ছুটি প্রত্যাহার করে আসামি আবদুল মাজেদের বিরুদ্ধে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য আদেশ দেন। ওই আদেশ আসার পর ঢাকা জেলার পাবলিক প্রসিকিউটর খোন্দকার আবদুল মান্নান, মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর আবদুল্লাহ আবু ও বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার প্রসিকিউটর মোশারফ হোসেন কাজল আসামি মাজেদকে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো ও মৃত্যু পরোয়ানা জারির আবেদন করেন। ওই আবেদনের ওপর শুনানির পর প্রথমে আদালত আসামি মাজেদকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করার আদেশ দেন। আদেশ অনুযায়ী এদিন বেলা সোয়া ১টার দিকে মাজেদকে কারাগার থেকে কারা কর্তৃপক্ষ আদালতে হাজির করে। এরপর তাকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখান আদালত। এরপর মৃত্যু পরোয়ানা জারির বিষয়ে প্রসিকিউটররা শুনানি করেন। শুনানির সময় বিচারক আসামি মাজেদের বক্তব্যও শোনেন বলে জানা যায়। এরপরই মৃত্যু পরোয়ানা জারির আদেশ দিয়ে তাকে কারাগারে পাঠান আদালত। এ কার্যক্রম চলাকালে কোনো সাংবাদিককে আদালতকক্ষে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।

পরে প্রসিকিউটর কাজল সাংবাদিকদের বলেন, আদালত মৃত্যু পরোয়ানা জারির আবেদন মঞ্জুর করেছেন। এখন কারা কর্তৃপক্ষ জেল কোডের বিধান অনুযায়ী ২১ থেকে ২৮ দিনের মধ্যে মৃত্যুদ- কার্যকর করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। তিনি আরও বলেন, আদালত আদেশ দেওয়ার আগে আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। সেখানে আসামি বলেছেন, তিনি পলাতক ছিলেন। হত্যাকা-ের দিন তিনি ক্যাপ্টেন খায়রুলের সঙ্গে ডিউটিতে ছিলেন। হত্যার পর পুরস্কার হিসেবে পরবর্তীতে তাকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব করা হয় বলেও জানিয়েছেন তিনি। ১৯৯৬ সালে এ মামলার বিচার প্রক্রিয়া শুরু হলে তিনি পালিয়ে যান বলেও জানান।

গত সোমবার দিবাগত রাত পৌনে ৪টার দিকে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার পলাতক আসামি মাজেদকে গাবতলী বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে রিকশাযোগে যাওয়ার সময় আটক করা হয়। মঙ্গলবার তাকে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে ঢাকা সিএমএম আদালতে হাজির করে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিট। ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম এএম জুলফিকার হায়াত তাকে কারাগারে পাঠান।

মাজেদ গ্রেপ্তার হওয়ার পর বর্তমানে বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত ও মৃত্যুদ-প্রাপ্ত পলাতক আসামি রইলেন আরও ৫ জন। তারা হলেনÑ সাবেক সেনা কর্মকর্তা খন্দকার আবদুর রশীদ, শরিফুল হক ডালিম, মোসলেম উদ্দিন, এসএইচএমবি নূর চৌধুরী এবং এএম রাশেদ চৌধুরী। এরা বিভিন্ন দেশে পলাতক অবস্থায় আছেন। তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সরকার।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে পরিবারের বেশিরভাগ সদস্যসহ নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। এরপর এ হত্যাকা-ের বিচারে পদে পদে বাধা দেওয়া হয়। হত্যার পরপরই দায়মুক্তি (ইনডেমনিটি) অধ্যাদেশ জারি করা হয়। ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালের ১২ নভেম্বর দায়মুক্তি আইন বাতিল করে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার। ওই বছরের ২ অক্টোবর ধানমন্ডি থানায় বঙ্গবন্ধুর তৎকালীন ব্যক্তিগত সহকারী মহিতুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলা করেন।

১৯৯৮ সালের ৮ নভেম্বর তৎকালীন ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ কাজী গোলাম রসুল ১৫ জনের মৃত্যুদ-ের রায় দেন। নিম্নআদালতের এই রায়ের বিরুদ্ধে আসামিদের আপিল ও মৃত্যুদ- নিশ্চিতকরণের শুনানি শেষে ২০০০ সালের ১৪ ডিসেম্বর হাইকোর্ট দ্বিধাবিভক্ত রায় দেন। ২০০১ সালের ৩০ এপ্রিল হাইকোর্টের তৃতীয় বেঞ্চ ১২ আসামির মৃত্যুদ- বহাল রেখে তিনজনকে খালাস দেন। এরপর ১২ আসামির মধ্যে প্রথমে চারজন ও পরে এক আসামি আপিল করেন। কিন্তু এরপর ছয় বছর আপিল শুনানি না হওয়ায় আটকে যায় বিচার প্রক্রিয়া।

দীর্ঘ ছয় বছর পর বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে আপিল বিভাগে একজন বিচারপতি নিয়োগ দেওয়ার পর বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলাটি আবার গতি পায়। ২০০৭ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর আপিল বিভাগের বিচারপতি তাফাজ্জাল ইসলামের নেতৃত্বাধীন তিন বিচারপতির বেঞ্চ মৃত্যুদ-প্রাপ্ত পাঁচ আসামির লিভ টু আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেন। আপিলের অনুমতির প্রায় দুই বছর পর ২০০৯ সালের ১৯ নভেম্বর সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ পাঁচ আসামির আপিল খারিজ করেন। ফলে বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সদস্যদের নৃশংসভাবে হত্যার দায়ে হাইকোর্টের দেওয়া ১২ খুনির মৃত্যুদ-ের রায় বহাল থাকে। এর মধ্য দিয়ে ১৩ বছর ধরে চলা এ মামলার বিচার প্রক্রিয়া শেষ হয়।

২০১০ সালের ২৭ জানুয়ারি দিবাগত রাতে মৃত্যুদ-প্রাপ্ত সৈয়দ ফারুক রহমান, বজলুল হুদা, একেএম মহিউদ্দিন আহমেদ, সুলতান শাহরিয়ার রশিদ খান ও মুহিউদ্দিন আহমেদের মৃত্যুদ- কার্যকর করা হয়। ওই রায় কার্যকরের আগেই ২০০২ সালে পলাতক অবস্থায় জিম্বাবুয়েতে মারা যান আরেক আসামি আজিজ পাশা।

advertisement