advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

করোনাভাইরাস : বিশ্বজুড়ে প্রেক্ষাপট এবং আমাদের নাগরিক জীবন

জামান তুহিন
১ মে ২০২০ ১৭:১৮ | আপডেট: ১ মে ২০২০ ১৭:১৮
advertisement

বৈশ্বিক মহামারি এবং মহামারিকালে আমাদের করণীয় কী? এই প্রশ্নের উত্তর আমাদের কারও কাছেই হয়তো নেই। কারণ এর আগে এইরকম মহামারির সাক্ষী সারা বিশ্বের যারা হয়েছেন, তারা কেউই হয়তো বেঁচে নেই। প্রযুক্তির এই যুগেও, আমরা স্বাস্থ্য নিরাপত্তায় কতটা যে পিছিয়ে রয়েছি, এই কোভিড-১৯ একেবারে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিলো।

কোভিড-১৯ প্রাকৃতিকভাবেই এসেছে নাকি ল্যাবরেটরিতে সৃষ্টি করা হয়েছে, তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কিংবা বিশ্ব নেতাদের মতবাদ না হয় আলাদা করেই রাখলাম। আমরা শুধু দেখে যাই যে, মানবজাতি আজ কতটা অসহায় হয়ে পরেছে।

চিকিৎসা সামগ্রী নিয়ে পর্যন্ত ক্ষমতাধর দেশগুলো কত দিশেহারা! সেই প্রেক্ষাপটে আমাদের দেশ, দেশের নীতিনির্ধারকরা এবং সাধারণ জনগণ একটু যে দিশেহারা হবে না, সেটা আমি ব্যক্তিগতভাবে কখনোই বিশ্বাস করিনি।

হওয়ারই কথা, আমাদের দেশে ‘ডেঙ্গু’র অবস্থাই তো মহামারির মতো। শুধু কি অব্যবস্থাপনার দোষ দেবো? নাকি অদক্ষতার? নাকি সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভুল? সাধারণ নাগরিক হিসেবে আমি হয়তো পারি সবগুলোকেই দোষ দিতে, অথবা সবকিছুকেই মেনে নিতে। মজার কথা হলো, আমি দুটোর একটিও করছি না। বিগত একমাসের বেশি সময় ধরে দেশের প্রায় সব জনগণই কোভিড-১৯ নিয়ে প্যানিক হয়ে গেছে অথবা কেউ কেউ এটার ভয়াবহতা সম্পর্কে কিছুই জানে না।

গার্মেন্টস শ্রমিকদের জীবন নিয়ে তো প্রায় একটা উপহাসই করা হয়ে গেল। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় যখন বিগত ২৫ মার্চ সাধারণ ছুটির ঘোষণা দিলো। লোকজন ছুটি পেয়ে, বেড়াতে চলে গেল। বেড়াতে যাওয়ার পর, গণপরিবহন বন্ধ করে দেওয়া হলো। কিন্তু এপ্রিলের ৪ তারিখে পোশাকশিল্প মালিকরা বুঝতে পারলেন না, কী করবে বা বলবে? বিশ্বাস করুন একটা ক্ষুদ্র পরিসরের প্রতিষ্ঠানেও পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য এই অল্প সময়ে প্রস্ততি নেওয়াও সম্ভব নয়। সম্ভবত ঘটনাটা সেখানেই ঘটে গেছে, মানে কমিউনিটি ট্রান্সমিশন। এরপর আর বলার কিছু বাকি থাকে না, এরা আবার ফেরত গেল এবং ছড়িয়ে পরল।

কেউ কেউ থেকে গেলেন, কারখানা খোলা ছিল তাই। কেউ নামমাত্র মাস্ক, পিপিই বানাচ্ছিল, কেউ হাতের কাজগুলো শেষ করল। কোভিড-১৯ কিন্তু ছড়াতেই থাকল।  মানুষ ক্ষুধায় রাস্তায় নামল। সরকার শুধুমাত্র পোশাক শিল্পের জন্য প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করল। ৫ এপ্রিল থেকে অনেক কারখানা লে-অফ ঘোষণা করল। আইনে স্পষ্ট যেভাবে বলা আছে সেভাবেও, আবার কেউ আইনের সুষ্ঠুভাবে পালন না করেও। কারণ, ওই যে বললাম এই ধরনের পরিস্থিতির অভিজ্ঞতাই তো নেই সবার। এর ওপর এই বৃহৎ শিল্পের মালিকেরা শুধুমাত্র অডিট পাশ করার জন্যই লোক নিয়োগ দেয়, পর্যাপ্ত জ্ঞান এবং আইনের যারা চর্চা করে তারা কতটুকুই বা স্থান পায়, সেটা মালিকরা খুব ভালো করেই জানেন।

যাই হোক, এখন পর্যন্ত চলছে ধোঁয়াশা। সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, লে-অফ থাকছে না। বোনাস নিয়ে মিটিং পরে। কিন্তু প্যাঁচ অন্য জায়গায়। যেই শ্রমিকরা কাজ করেছে এবং যারা করেননি তাদের বেতন ভাতার শতাংশের হার নির্ধারণ কীভাবে এবং কতটা যুক্তিসঙ্গতভাবে করা হলো, সাধারণ মানুষ হিসেবে আমার হিসেবে মিলছে না। আর মিলছে না এই শ্রমিকদের বাইরে এই প্যান্ডেমিকে শুধুমাত্র সরকারি প্রণোদনা প্যাকেজ পাওয়ার জন্য যারা জীবনের মায়া ত্যাগ করে নিরলস কাজ করে, তফশিলি ব্যাংকগুলোতে কাগজপত্র জমা দিয়েছেন তাদের বেতন, চাকরি, কিংবা জীবনের নিশ্চয়তা বলতে যা কিছু আছে সেটা শ্রমিক ইউনিয়ন, বিজিএমিএ, কিংবা শ্রম মন্ত্রনালয়ের এর কারো চোখেই পরেনি।

এরা মালিক নন, শ্রমিক নন, এরা যে আসলে কী, সংবিধানের কোনো সংজ্ঞায় এদের পাওয়া যায় না। কোনো তফশিলে এদের পদের নাম মিলে না। অথচ আমার কাছে ছবি আসত, প্রতিদিন শুধু স্বাক্ষর করা কাগজ সংগ্রহের জন্য কিছু কিছু লোক হাজার লোকের ভিড়ে  ঠিকই দাঁড়িয়ে থাকত।

এদের নাম আমি দিয়েছি ‘শিক্ষিত গোলাম’। যারা রাস্তায় নেমে আন্দোলন করতে পারে না, কারও কাছে চাইতে পারে না। মালিক যদি বলে এখন ৬০% বেতন, এরা প্রতিবাদও করতে পারবে না। অথচ এরা এখনও মালিকের হুকুমে, ত্রাণ দিয়ে বেড়াচ্ছেন বিভিন্ন যায়গায়। হয়তো এসব কারণেই অনেকে বিবেক জলাঞ্জলি দিয়ে প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বেঈমানি করতে বাধ্য ও হয়।

আমাদের এই ছোট্ট দেশটার হয়তো এখন সবাই বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন। কিন্তু আমি ভাবছি অন্য কথা। রেমিটেন্স তো শুন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। গার্মেন্টস শিল্প কি হবে জানি না। কারণ যাদের জন্য কাপড় আমরা তৈরি করতাম, তারাই এখন নিজ নিজ সরকারের অনুদানে চলছে।

তবে আমাদের আছে উর্বর জমি। আমি একজন প্রফেশনাল হিসেবে আপাতত একটি খাদ্যে স্বনির্ভর জাতি দেখতে চাই। তরুণদের কাছে অনুরোধ, সুযোগ কেউ করে দিবে না। নিজেদের করে নিতে হবে। এই যে সামনে বেকারত্ব আসছে, এটাকে সামাল দিতে হবে। আসুন যার যার অবস্থান থেকে এগিয়ে আসি।

লেখক : জামান তুহিন, বোর্ড চেয়ারম্যান, বেঞ্জরুট ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড।

advertisement
Evall
advertisement