advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

একজন পোশাক কর্মচারীর ছেলে বলছি...

মো. সামিউল ইসলাম
৩ মে ২০২০ ২২:৫৭ | আপডেট: ৩ মে ২০২০ ২২:৫৭
advertisement

আমি একজন পোশাক কর্মচারীর সন্তান হয়ে কিছু লিখছি।। জানি না কতটুকু যৌক্তিক কথা বলছি। আজ আব্বুর সঙ্গে কথা বলে জানলাম, তাদের বেতন থেকে নাকি ৪০ শতাংশ কেটে নেওয়া হচ্ছে। তার কারণ দেখানো হয়েছে, গত মাসে ফ্যাক্টরি বন্ধ ছিল। ঠিক একই কথা শুনেছি গতকাল রাতে খুব কাছের এক বড় ভাইয়ের (বান্ধবির জামাই) কাছ থেকে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, এই মানুষগুলোর অপরাধ কোথায়?

বাংলাদেশের প্রতিটি গার্মেন্টস ও শিল্প-প্রতিষ্ঠানের যারা মালিক, তারা কি দুই মাস বিনা পারিশ্রমিকে শ্রমিকদের বেতন দিতে পারবেন না? তারা বছরের পর বছর মানুষরূপী (সকল পোশাক শ্রমিক ও বেসরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী) এই যন্ত্রগুলোর সাহায্যে হাজার হাজার কোটি টাকা আয় করে নিচ্ছে। অথচ তাদের বেতন ভাতা কতটুকু দেওয়া হয় তা মনে হয় কম-বেশি সকলেরই জানা। যেখানে একজন সরকারি চাকরিজীবীর স্কেল হয় ১৫-২২ হাজার টাকা, সেখানে একজন পোশাকশ্রমিকের স্কেল পাঁচ থেকে ছয় হাজার টাকার মতো।

আমার বাবার অফিস শুরু হয় সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা, আবার রাত ৯টা থেকে ২-৩টা পর্যন্ত। যেহেতু তিনি শিপমেন্টে সেকশনের দায়িত্বে আছেন। এ রকম ঠিক প্রতিটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী থেকে শুরু করে কর্মকর্তা সবারই ওভারটাইম কাজ করতে হয়। বিনিময়ে তারা না চেয়েছেন বাড়তি বোনাস ভাতা, না চেয়েছেন ক্ষমতা। তারা সব মেনে নিয়ে চাকরি করেন শুধুমাত্র তাদের পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য। তারপরও সমাজের সকল স্তরে তারা হেয় হন তথাকথিত উপর শ্রেণির বা প্রভাবশালীদের কাছ থেকে।

লকডাউনের সাধারণ ছুটি সকলের জন্য হলেও এই সকল শ্রমিক শ্রেণির মানুষদের জন্য তা নয়। সকল সু্যোগ-সুবিধা শুধুমাত্র সরকারি চাকরি আর বিত্তশালীদের জন্য, যারা কি না সোনার চামুচ নিয়ে এই দেশে জন্ম নিয়েছেন। দেখে মনে হয় তাদের মতো শিক্ষিত, জ্ঞানী আর কেউ নাই। তাহলে তাদের কী একটুও জ্ঞান হয় না যে, এই মহামারির মাঝে সকল কিছু সুষমভাবে হোক।

স্বাধীনতার ৪৯ বছরেও কেন এই বৈষম্যতা দূর হয়নি, তা আমার বোধগম্য নয়। আমরা স্বাধীনতার চেতনার কথা বললেও তা কতটুকু পালন করি, সেটা সমাজের বুদ্ধিজীবীদের কাছে আমার প্রশ্ন।

এবার আসি অন্য আরেকটি ব্যাপারে। সরকার পোশাক শিল্পের মালিকদের ৫ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্রদান করলেন, তা কিসের জন্য? ব্যাংকে জমিয়ে রাখার জন্য, নাকি পরিবার নিয়ে বিদেশ ভ্রমণ ও আরামপ্রদ জীবনযাপনের জন্য? কোথায় গেল এই টাকা, কাদের মাঝে খরচ করা হলো এই অর্থ?

আবার শুনলাম, সরকার ৭২ হাজার কোটি টাকা দিলেন মানুষের মাঝে, কোথায় সেই আলাদীনের গুপ্তধন। চলুন একটু হিসাব করি।

বাংলাদেশে যদি ১৮ কোটি মানুষ হয়, আর যদি তিনজন মানুষ করে একটি পরিবার হয়, তাহলে প্রতিটি পরিবার কমপক্ষে ১২ হাজার টাকা করে পাবেন (মাথাপিছু ৪০০০ হাজার টাকা)। তাহলে এই টাকা কি আমাদের সকলের ভোটার আইডি কার্ডের মাধ্যমে চিহ্নিত করে সুষ্ঠুভাবে বন্টন করা যায় না? দেশতো এখন সিঙ্গাপুর বা উন্নত আয়ের দেশে পরিনত হয়েছে, তথ্য প্রযুক্তিতেও এগিয়ে গেছে। তাহলে সমস্যাটা কোথায়? প্রতিবছর কত শিক্ষিত, জ্ঞানী মানুষ সরকারি মন্ত্রণালয়ে যোগদান করছে, তাহলে তাদের ভূমিকা কী?

সব সিদ্ধান্ত ও দায়িত্ব কি শুধুমাত্র মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নেবেন, উনিই সব বুঝিয়ে দিবেন। কেন ভাই, তাহলে আপনারা কী করেছেন। যদি দেশের মানুষের জন্য কিছু করতে না পারেন, তাহলে দেশের মানুষের ঘাম ঝরানো টাকা থেকে বেতন নেওয়ার দরকার নেই। পোশাক শ্রমিকদের সঙ্গে সঙ্গে আপনাদেরও বেতন কর্তন করা হোক।

আমি জানি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে এই ১৮ কোটি মানুষের দ্বারপ্রান্তে গিয়ে সহযোগিতা করা সম্ভব নয়। কিন্তু তার বিশিষ্ট লোকবলের উচিত ছিল সমাজের এই মানুষগুলোর কাছে যাওয়া। কিন্তু সেটা না হয়ে তারা বিভিন্ন সেলফি ব্রডকাস্টিং বা টকশো নিয়ে মগ্ন।

হুমায়ূন আজাদের একটা উক্তি মনে পড়ে গেল, ‘মানুষ সিংহের প্রশংসা করে, কিন্তু আসলে গাধাকেই পছন্দ করে।’

আমাদের সোনার বাংলার অবস্থা এখন কেমন, সেটা বিচার না হয় আপনারাই করুন...

মো. সামিউল ইসলাম : পিএইচডি গবেষক, হুয়াঝং এগ্রিকালচারাল বিশ্ববিদ্যালয়, চীন

advertisement
Evall
advertisement