advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

ঈদ শপিং এবং করোনার ভয়াবহতা

ডা. এস.এস সহিদুল ইসলাম
১৮ মে ২০২০ ১৯:৪০ | আপডেট: ১৮ মে ২০২০ ১৯:৪০
advertisement

করোনাভাইরাস সংক্রমিত কোভিড-১৯ বর্তমান বিশ্বে সবচেয়ে আলোচিত এক নাম। যার আক্রমণে এখন পর্যন্ত সারা বিশ্বে প্রায় তিন লাখ মানুষ মৃত্যুবরণ করেছে। বাংলাদেশে দিন দিন এর বিস্তার বেড়েই চলেছে। সরকারি হিসেবে মৃত্যুর সংখ্যা ইতিমধ্যে ৩০০ ছাড়িয়ে গিয়েছে। রেড জোন হিসেবে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা নির্বাচিত। তার মানে ঢাকা বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি বিপজ্জনক এলাকা হিসেবে বিবেচিত।

ব্যবসায়ীরা তাদের ব্যবসার নিমিত্তে বিপণিবিতান খুলেছে, তার মানে কি এই সেখানে গিয়ে উপচে পড়া ভিড়ের মধ্যে আপনি কেনাকাটা করবেন। যেখানে বার বার বলা হচ্ছে শারীরিক, সামাজিক দূরত্ত্ব স্থাপনের জন্য, সেখানে আমরা কি করছি? মানছি, সামনে মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর। কিন্তু কোভিড-১৯ এ সংক্রমিত হওয়ার হাত থেকে কি আপনি বেঁচে যাবেন সেটা কি নিশ্চিত?

একবার ভেবে দেখুন তো আপনি যেই শপিং মল অথবা মার্কেটে যাচ্ছেন সেখানে প্রবেশের সময় আপনি নামমাত্র জীবানুনাশক ব্যবহার করে প্রবেশ করছেন আর বের হওয়ার সময়? সেখানকার রেলিং, কাপড়, ধাতব বস্ততে যদি করোনা জীবানু লেগে থাকে আপনি কিন্তু আপনার মনের অজান্তেই বয়ে নিয়ে যাচ্ছেন এই ভাইরাস। বয়ে নিয়ে বাসার সবাইকে আপনি সংক্রমিত করলেন।

এই ঈদে যদি নতুন জামা কাপড় না পরেন তাহলে কি ঈদ মাটি হয়ে যাবে? বরং আপনি অসুস্থ হলে অথবা আপনার পরিবারের কেউ অসুস্থ হলে তখন তাকে কিন্তু আইসোলেশনে রেখে আপনার ঈদ করতে হতে পারে অথবা আপনি নিজেও আইসোলেশনে চলে যেতে পারেন। তখন কি আপনার ঈদ মাটি হবে না? এ ছাড়া নতুন জামা কাপড় কিনেই বা আপনি কি করবেন বাইরে তো যেতে পারছেন না আর যদি বাইরে যান তাহলে তো আপনার সংক্রমিত হওয়ার হার আরও বেড়ে গেল।

চলুন না এবার ঈদে আমরা পরিবারের সদস্যের সঙ্গে একান্তে উদযাপন করি। আপনার বাবা, মা, ভাই, বোন, সন্তানদের সঙ্গে ঈদ কাটান। বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়ের সঙ্গে না হয় পরের বার কাটালেন। সুযোগ কিন্তু সব সময় আসে না। কোথাও যদি দেখতে পান অনেক মানুষের সমাগম হচ্ছে স্থানীয় প্রশাসনকে অবহিত করুন। আপনার পরিবারের নিরাপত্তার জন্য আপনাকে এই কাজ করতেই হবে।

সম্প্রতি রাস্তা উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। হয়তো অনেকে ভাবছেন কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত রোগীদের মৃত্যু সংখ্যা অনেক কম। আপনার জ্ঞ্যাতার্থে বলছি যেকোনো সময়ে এর পরিমাণ মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। সরকার বার বার ছুটি বাড়াচ্ছে তারপরও আমি, আপনি কেউ নিয়ম মানছি না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সাধারণ মানুষকে ঘরে রাখার জন্য প্রাণপণ চেষ্টা করে যাচ্ছেন, বিনিমিয়ে করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন। এতে কি আপনার হৃদয় এতটুকুও কাঁদে না? তারাও তো কারো না কারো বাবা, ভাই, ছেলে, তাই না?

সময় গেলে সাধন হবে না। দয়া করে ঘরে থাকুন। আর কয়েকটা দিন কষ্ট করে ঘরে থাকুন, পরিবারের সঙ্গে চমৎকার কিছু সময় কাটান। তাতে ভালো থাকবেন আপনি, ভালো থাকবে আপনার পরিবার, ভালো থাকবে আপনার মহল্লা, ভালো থাকবে আপনার শহর, ভালো থাকবে আপনার দেশ আর তাতেই আমরা আবার ফিরে পাবো কর্মময় এক পৃথিবী।

সবার সর্বোচ্চ সুস্বাস্থ্য কামনা করছি।

লেখক : ডা. এস এম সহিদুল ইসলাম, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ

advertisement
Evall
advertisement