advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

ধর্মীয় সেবকদের পাশে থাকার শ্রেষ্ঠ সময়

মো. আব্দুল কাদের খান
২০ মে ২০২০ ১৬:০৩ | আপডেট: ২০ মে ২০২০ ১৬:০৭
advertisement

মসজিদের ইমামরা সমাজের ধর্মীয় নেতা, আধ্যাত্মিক গুরু। স্বাভাবিকভাবে সমাজের অন্য আট ১০জন সম্মানিত মানুষের ন্যায় তাদের সম্মান ও মর্যাদা কোনো অংশে কম নয়। তবে সময়ের প্রবহমান ধারায় কোনো কোনো ক্ষেত্রে তারা আজ আর্থিকভাবে সংকটাপন্ন। এমনটাই মনে করছেন দেশের বিজ্ঞমহল।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকার ইতিমধ্যে করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক ক্ষতি মোকাবিলায় ও অর্থনৈতিক কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখার প্রয়াসে প্রায় ৭২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকার প্রণোদনা ঘোষণা করেছে সরকার। দেশের নিম্ন আয়ের ৫০ লাখ পরিবারের জন্য নগদ অর্থ সহায়তা বিতরণের কার্যক্রম শুরু হয়েছে, ৬ হাজার ৯৫৯টি কওমি মাদরাসাকে ৮ কোটি ৩১ লাখ ২৫ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা, দেশের সব মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিনের জন্যও সহায়তার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশে মসজিদের সংখ্যা প্রায় দুই লাখ ৬০ হাজার এবং প্রতিটি মসজিদে কমপক্ষে একজন করে  ইমাম ও মুয়াজ্জিন রয়েছে। এসব মসজিদের বড় একটা অংশের ইমাম ও মুয়াজ্জিন নামে মাত্র বেতন বা ভাতা নিয়ে দিনাতিপাত করে তারা অধিকাংশ সময় যেভাবে চলুক না কেন রমজানে মাসে একটা ভালো বেতন বা ভাতা বা সন্মানি পেয়ে থাকেন যা দিয়ে তারা বছরের একটা সঞ্চয় করেন বা পরবর্তীতে পারিবারিক কাজে ব্যয় করে।

করোনার প্রভাবে রমজানের প্রথমদিকে দেশের সব মসজিদ বন্ধ ছিল পরবর্তীতে সরকারের নির্দেশনায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে মুসজিদ চালু করা হয়েছে কিন্তু সার্বিক অবস্থার প্রেক্ষাপটে সচেতন নাগারিকের বড় একটা অংশ এখনও মসজিদে গিয়ে তারাবি বা নিয়মিত নামাজ আদায় করছে না। ইমাম ও মোয়জ্জিন ও খাদেমরা ধারণা করছেন, তাদের অনেকের প্রত্যাশিত বেতন ও সম্মানি পেতে অনেকটা কস্টসাধ্য হবে। এমন অবস্থায় একজন সচেতন নাগরিক হিসাবে তাদের পাশে থাকার শ্রেষ্ঠ সময় । এ ক্ষেত্রে তিনটি উপায়ে আমারা এ সমাস্যা সমাধান করতে পারি-

* আমরা যেভাবে আগের বছর সহযোগিতা করে এসেছি সে অনুযায়ী সবার অর্থ দিয়ে সহযোগিতা করা।

* মসজিদের নিজেস্ব ফান্ড থাকলে তা হতে বরাদ্দ প্রদান করা।

* সরকার মসজিদ প্রতি ননুতম একটা বরাদ্দ প্রদান করতে পারে যদিও প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে উপহার হিসেবে নগদ অর্থ প্রদান করা শুরু করেছেন তা করোনাকালীন সময় পর্যন্ত নিয়মিত করা প্রয়োজন ও এর আওতায় মসজিদের খাদেমদেরকে নিয়ে আসা।

এখানে উল্লেখ্য যে, রমজানের কারণে এবং বাংলাদেশ মুসলিম প্রদান দেশ হওয়াতে ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের বিষয়টি আলোচনা করা হলো অনুরূপভাবে অন্যান্য ধর্মের সেববকদের বিষয়েও তেমন ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে ।

এতিম ও এতিমখানা

ঐতিহ্যগতভাবে বাংলাদেশের জনগণ অবহেলিত দুঃস্থ এতিম শিশুদের প্রতিপালনের দায়িত্ব গ্রহণে বদ্ধপরিকর। বাংলাদেশের সকল ধর্মীয় জনগনই এতিম শিশুদের লালনপালনের জন্য বেসরকারিভাবে এতিমখানা পরিচালনা করে আসছে। সমজাকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ বেসরকারি এতিমখানায় লক্ষাধিক এতিম রয়েছে তবে প্রকৃত তথ্য হয়ত আরও অনেক বেশি। এ সব এতিমখানায় যে সব শিক্ষক ও ছাত্র রয়েছে তার খরচের বড় একটা যোগান আসে যাকাতের টাকা থেকে এছাড়া এতিমখানার ছাত্ররা রমজানমাসে বিভিন্ন মসজিদ ও মহল্লায় তারবির নামাজ ও খতম দিয়ে বড় একটা অর্থ পেয়ে থাকে যা দিয়ে তারা বছরের অধিকাংশ সময়ের খরচের যোগান দিয়ে থাকে। আমরা সবাই অবগত আছি যে, কুরবানির চামড়ার বড় একট অংশও তাদের আয়ের উৎস্য কিন্তু গত কোরবানিতে চামড়ার দাম না পাওয়া তারা ধরে নিয়েছিল তার ঘটতি কিছুটা হলেও যাকাত থেকে পুষিয়ে নিবে। বিষয়টি এখন এমন পর্যায়ে গিয়েছে যে এতিমদের আগামীতে এ সমাজে টিকে থাকাটা অনেকটা অসম্ভ হয়ে পরবে। এতিমদের জন্য সরকার ও আমরা যা করতে পারি-

* সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রায় ৬২ হাজার এতিম শিশুকে ক্যাপিটেশন গ্রান্ট প্রদান করা হচ্ছে তা ধারাবাহিকতা বজায় রাখা ও এর সংখ্যা আরো বাড়ানো।

* আমরা যারা এতদিন যাকাতের অর্থ প্রদান করে আসছি তার ধারবিহকতা বজায় রেখে তাদের এতিমদের সাথে থাকা ।

* মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনের ন্যায় এতিমখানার শিক্ষকদের নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করা।

এখানে উল্লেখ না করলেই নয় যে, আমি মাত্র ইমাম ও মুয়াজ্জিন এবং এতিমদের পাশে থাকার এবং তাদের প্রয়োজনীয় সহায্য করার ও এসমাজ ব্যবস্থায় টিকে থাকার একটা ধারণা দেওয়ার চেষ্টা মাত্র করেছি। এ বিষয়ে আমাদের যে সব ধর্মীয় চিন্তাবিদ রয়েছেন বা সরকারের মন্ত্রণালয় রয়েছে তারা হয়তো এর চেয়ে আরও অনেক ভালো কিছু করে তাদের পাশে দাঁড়াতে পারে।

লেখক : মো. আব্দুল কাদের খান। উন্নয়নকর্মী, পরামর্শক ও গবেষক।

 

advertisement
Evaly
advertisement