advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

নিরাপদে থাকাই এবারের ঈদ

মো. জহির উদ্দিন
২২ মে ২০২০ ১৬:৩৭ | আপডেট: ২২ মে ২০২০ ১৬:৩৭
advertisement

মুসলিম উম্মাহর অন্যতম আনন্দের দিন ঈদুল ফিতর। ঈদ বলতেই আমরা বুঝি- বাহারি রকমের খাবার, নতুন জামা, ঈদের জামাত, সালামি, দল বেঁধে ঘুরে বেড়ানো, হই-হুল্লোর এবং উৎসবে মাতামাতিপূর্ণ একটি দিন।

বলা হয়, এই দিনে রাগ, হিংসা, ভেদাভেদ ভুলে সবাই এক কাতারে এসে করমর্দন এবং কুলাকুলি করে থাকে। মহানবী হযরত মোহাম্মাদ (সা.) মদিনায় হিজরতের পর সর্বপ্রথম এই ঈদুল ফিতর পালন করেন। তখন থেকেই এই দিনটি মুসলিম উম্মাহের জন্য একটি প্রানবন্ত উৎসবের দিন হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।

অধিকাংশ মানুষ প্রিয়জনদের সাক্ষাত পেতে এই দিনটির জন্য অপেক্ষা করেন। ঈদুল ফিতরের আগে নাড়ির টানে বাড়ি ফিরতে দেখা যায় মানুষের উপচে পরা ভিড়। কানায় কানায় ঘরমুখো মানুষে পরিপূর্ণ থাকে বাস, ট্রেন, লঞ্চ এবং এমনকি বিমান পর্যন্ত। এই মহাউৎসব থেকে নিজেকে বঞ্চিত করতে সবাই নারাজ।

কিন্তু আক্ষেপের বিষয় করোনাভাইরাস এবারের ঈদ আনন্দকে ফেলে দিয়েছে অনিশ্চয়তার দিকে। সাড়ে চার মাসের মধ্যেই এই ভাইরাস সারা বিশ্বের প্রতিটি রন্দ্রে রন্দ্রে ছড়িয়ে পরেছে এবং শব্দহীন আঘাত হানছে প্রতিনিয়ত।

এই ভাইরাস চিকিৎসা বিজ্ঞানকে সরাসরি চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়েছে। এই দুর্যোগে মানুষের সেবা নিশ্চিত করতে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন—চিকিৎসক, প্রসাশন, পুলিশ, সেনাবাহিনী, সাংবাদিক, স্বেচ্ছাসেবকেরা।

অন্যদিকে, সাধারণ মানুষ করোনা আতঙ্কে দিশেহারা। সাম্প্রতিক বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে আসছে, করোনার ছোবলে পৃথিবীর অধিকাংশ মানুষ মানসিকভাবে বিপর্যস্ত।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সারা বিশ্বে আক্রান্তের সংখ্যা ৪৯ লাখ ২৪ হাজার ৩৭২ এবং মৃতের সংখ্যা ৩২ হাজার ৮১৬। অন্যদিকে বাংলাদেশে আক্রান্তের সংখ্যা ৩০ হাজার ২০৫ এবং মৃতের সংখ্যা ৪৩২।

গত দুদিনের চিত্র অনুযায়ী, দেশের বিপনীবিতানগুলোতে এবং গ্রামের বাড়ি গিয়ে ঈদ করার জন্য নৌপথ, সড়ক পথে মানুষের, যে পরিমাণ উপচে পড়া ভিড় জমেছে; তা দেখে যে কেউ করোনার সংক্রমণ নিয়ে ভবিষ্যৎবাণী করতে পারবে।

প্রসঙ্গে আসা যাক, সর্বশেষ কখন মুসলিম উম্মাহ প্রাণহীন ঈদ পালন করেছে, বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত খুঁজেও এর খদিস পেলাম না। কিন্তু এটা নিশ্চিত যে, ভবিষ্যতে এই বিষয় নিয়ে খোঁজ করার আগে সহজেই যে কেউ তথ্য পেয়ে যাবেন। কারণ আসছে ঈদুল ফিতর বিশের প্রায় ২৪.১% মানুষ তথা ১৮০ মিলিয়ন মুসলিম উম্মাহ এক প্রাণবন্তহীন ঈদ পালন করতে যাচ্ছে।

এবারের অনুষ্ঠেয় ঈদের জামাতও হবে সীমিত আকারে, ঈদ সালামি, ঘোরাঘুরি এসবের কোনোটি থাকছে না এবার। রাগ, হিংসা, ভেদাভেদ ভুলে গেলেও, করমর্দন এবং কুলাকুলি করা হবে না। প্রিয়জনদের সাক্ষাত পেতে এই দিনটির জন্য অপেক্ষা করা অনেকেই চার দেয়ালের মাঝে পালন করবেন ঈদ।

বেঁচে থাকলে আবার মিলেমিশে ঈদ উদযাপন করা যাবে। ঘরে নিরপাদে থাকাটাই সবচেয়ে জরুরি। সবার জন্য ঈদের শুভেচ্ছা।

লেখক : মো. জহির উদ্দিন, গবেষক এবং টিম লিডার  ইচ্ছেঘুড়ি ফাউন্ডেশন।

advertisement
Evaly
advertisement