advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

এবারের ঈদে ছন্দপতন

সেলিনা হোসেন

সেলিনা হোসেন,কথাসাহিত্যিক
২৩ মে ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ২৩ মে ২০২০ ০৭:৪৫
advertisement

ঈদ আমার শৈশবে একটি অন্যরকম উৎসব ছিল। তখন আমরা বাবার চাকরিসূত্রে বগুড়ার করতোয়া নদীর ধারে গ-গ্রাম নামে একটি এলাকায় থাকতাম। জনবসতি কম ছিল বলে চারদিকের সবুজ মাঠঘাট-প্রান্তর চোখ জুড়িয়ে দিত। বড় একটা মাঠ ছিল, সেটি ছিল ঈদগাহ।

আমার এই ৭৩ বছর বয়সে এখনো শৈশবের ঈদগাহ আমার এক অসাধারণ স্মৃতির সঞ্চয়। ঈদের দিন নতুন জামা পরে বাবার সঙ্গে ঈদগাহে যেতাম। আশপাশের বাড়ির ছোট ছেলেমেয়েরা বন্ধু ছিল। সবাই মিলে বাবার

পিছে পিছে দৌড়াতাম। নামাজ শেষ হয়ে গেলে আমরা ছোটরা ঘাসের সঙ্গে ফুটে থাকা নানা ফুল ছিঁড়তাম। প্রজাপতি, ফড়িং ধরার জন্য দৌড়াদৌড়ি করতাম। অনেকক্ষণ এভাবে কাটিয়ে বাড়ি ফিরতাম। এমনই ছিল ঈদের আনন্দ।

এর পর রাজশাহীতে এসে এমন প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর ঈদগাহ আর পাইনি। কিন্তু ঈদের উৎসব হয়েছে জমজমাট। তখন বড় হয়ে গেছি। বাবার পিছে দৌড়িয়ে আর ঈদগাহে যাওয়া হতো না। বড় ভাইয়েরা নতুন জামা পরে রুমী টুপি মাথায় দিয়ে ঈদের নামাজ পড়তে যেত। মাঝে মাঝে ওদের সঙ্গে গিয়ে ঈদগাহে মানুষের নামাজে দাঁড়ানো দেখতাম। নামাজ শুরু হলে চলে আসতাম।

বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় নামাজ হয়ে গেলে আমার হিন্দু বন্ধুদের বাড়িতে ডাকতাম। ওরা আসত। আমার মায়ের জন্য শোলার মালা আর হাতপাখা নিয়ে আসত। বলত, এটা মাসির জন্য আমাদের উপহার। ওরা হোস্টেলে থাকত। বলত, আমাদের বাবা গ্রাম থেকে শোলার মালা আর পাখা পাঠায় ঈদের সময় কাউকে উপহার দেওয়ার জন্য। এত সুন্দর উপহার দেখে মুগ্ধ হতাম।

ঢাকায় আসার পর ঈদের আনন্দ অন্যরকম হয়েছে। বিশেষ করে পথশিশুদের জন্য আমার একটা টান আছে। আমার বাড়ির পাশে বেশ কয়েকজন এসে জড়ো হতো। বলত, আজ আমাদের জন্য কী আছে? সেমাই, জর্দা, পোলাও, মাংস? আমি হেসে বলতাম, হ্যাঁ, সবই তোদের খাওয়াব। ওরা পায়ে হাত দিয়ে সালাম করতে শুরু করত।

করোনা ভাইরাস ৭৩ বছর ধরে দেখা আমার ঈদের উৎসব নির্জীব করে দিয়েছে। মানুষের বিষণœ চেহারায় মিলিয়ে গেল উৎসবের আনন্দ। পথশিশুরাও জড়ো হলো না আমার বাসার সামনে। নিঃসীম শূন্যতায় ঈদের আনন্দ হারিয়ে যাবে। ঈদের জামাতও অনুষ্ঠিত হবে না। এভাবে ঈদের ছন্দপতন ঘটাল করোনা ভাইরাস।

advertisement
Evall
advertisement