advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

করোনা যোদ্ধাদের ঈদ মানবসেবায়

আহমদুল হাসান আসিক
২৩ মে ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ২২ মে ২০২০ ২৩:৩৯
advertisement

গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন আবদুস সালাম সরকার। দায়িত্ব পালন করতে গিয়েই তিনি করোনায় আক্রান্ত হন। তবে করোনা জয় করে আবার ফিরেছেন কাজে। এবার তার ঈদের দিন কাটবে কর্মস্থলে। আবদুস সালাম বলছিলেন, সৃষ্টিকর্তা সবাইকে মানুষের সেবা করার সুযোগ দেন না। মানুষের সেবা করতে গিয়েই আমি করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলাম। এই উপজেলায় আমার

আরও ৩১ জন সহকর্মী আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৩০ জন করোনা জয় করে আবার কাজে ফিরেছেন। সৃষ্টিকর্তা আমাদের দ্বিতীয় জীবন দান করেছেন। এই জীবন মানুষের সেবায়ে উৎসর্গ করতে চাই। এবার আর পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করা হচ্ছে না। করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসা ও তাদের সুস্থ হতে সহযোগিতা হবে আমাদের ঈদ উদযাপন।

শুধু কাপাসিয়া উপজেলার ৩১ চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মীই নন, সারাদেশে স্বাস্থ্য বিভাগে কর্মরত সম্মুখসারির করোনাযোদ্ধারা এবার পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করছেন না। দেশের ক্রান্তিকালে তারা মানুষের সেবা করে রোগীদের সঙ্গে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করে নেবেন। সাধারণ মানুষকে ঘরে রাখা এবং নিরাপত্তা বিধানে মাঠে থেকে দায়িত্ব পালন করবেন পুলিশের ২ লাখেরও বেশি সদস্য। র‌্যাব ও আনসার সদস্যরাও মাঠে থেকে দায়িত্ব পালন করবেন। স্বাস্থ্যকর্মী, পুলিশ ও র‌্যাবের অনেক সদস্য করোনায় আক্রান্ত হয়ে আইসোলেশনে আছেন। অনেকেই আছেন আবার কোয়ারেন্টিনে। তাদের ঈদ কাটবে আইসোলেশন এবং কোয়ারেন্টিনে। প্রশাসনের মাঠ পর্যায়ের অধিকাংশ কর্মকর্তাও এবার ঈদে কর্মস্থলেই থাকছেন।

এদিকে করোনার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে গিয়ে প্রায় চিকিৎসক, নার্স, টেকনোলজিস্টসহ প্রায় ২ হাজার স্বাস্থ্যকর্মী আক্রান্ত হয়েছেন। পুলিশে এরই মধ্যে তিন হাজার ২০০ জন সদস্য করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে যারা সুস্থ হচ্ছেন, তারা আবার করোনার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে মাঠে নামছেন। যারা সুস্থ হননি তারা কেউ কেউ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন অথবা আইসোলেশনে আছেন। এবার যে যেখানেই আছেন সেখানেই ঈদের আনন্দ খুঁজে নিতে হবে।

এদিকে করোনাযুদ্ধে চিকিৎসক এবং নার্সরা ১০ দিন বা ১৫ দিন হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করার নির্দিষ্ট সময়ের জন্য কোয়ারেন্টিনে চলে যাচ্ছেন। এসব স্বাস্থ্যকর্মীর জন্য হোটেল, কমিউনিটি সেন্টারসহ গেস্টহাউস বরাদ্দ করা হয়েছে। ঈদের সময় একদল চিকিৎসক ও নার্স থাকবেন হাসপাতালে। আরেক দল থাকবেন কোয়ারেন্টিনে। সুতরাং কারও আর পরিবারের সঙ্গে ঈদ কাটানোর সুযোগ থাকছে না।

কাপাসিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা আব্দুস সালাম বলেন, দেশে এখন ক্রান্তিকাল চলছে। এমন পরিস্থিতিতে আমাদের ঘরে থাকার সুযোগ নেই। ঈদের সময় সাধারণত ২-৩ দিন ছুটি থাকে। কিন্তু এবার আর ছুটি নেই। আর আমরাও এমন পরিস্থিতিতে ছুটি চাই না। এই মুহূর্তে পরিবারের সঙ্গে ঈদ করার চেয়ে করোনায় আক্রান্ত মানুষকে সুস্থ করাই আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। একজন করোনা রোগী যখন সুস্থ হয়, তখন পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদযাপনের চেয়ে বেশি আনন্দ পাই। তা ছাড়া ঈদে তো আর নমুনা সংগ্রহ এবং তা ল্যাবে পাঠানো বন্ধ করা যাবে না। আমাদের যে কোনো মূল্যেই এখন মাঠে থাকতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই।

‘মানুষের মুখে হাসিই আমার ঈদ আনন্দ’ : র‌্যাব ১১-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আলেপ উদ্দিন করোনার হটস্পট নারায়ণগঞ্জে তিনি দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি রাতের আঁধারে বিভিন্ন মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে খাবার পৌঁছে দেন। মহাসড়কের পাশে বসে থাকা অনাহারি মানুষ তার অপেক্ষায় থাকেন, তিনি কখন খাবার পৌঁছে দেবেন। করোনা সংকটে এরই মধ্যে তিনি একজন মানবিক পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে সাধারণ মানুষের আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছেন। আলেপ উদ্দিন আমাদের সময়কে বলেন, এবারের ঈদ একটি বিশেষ পরিস্থিতিতে আমরা উদযাপন করছি। দেশের এই পরিস্থিতিতে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হিসেবে বসে থাকার সুযোগ নেই। সাধারণ মানুষকে ভালো রাখতে কর্মস্থলেই ঈদ উদযাপন করব। চেষ্টা থাকবে সাধারণ মানুষের মুখে যেন হাসি ফোটাতে পারি। মানুষের মুখের হাসিই হচ্ছে, এবার আমার ঈদ আনন্দ।

এদিকে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক কনস্টেবল এ কেএম হারুন অর রশীদ খান মাঠে কাজ করতে গিয়ে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হন। তিনি গত ১৯ মে করোনামুক্ত হওয়ার রিপোর্ট হাতে পান। এখন তিনি রাজধানীর একটি কমিউনিটি সেন্টারে আইসোলেশনে আছেন। সেখানে তাকে আরও ১০ দিন আইসোলেশনে থাকতে হবে। তিনি আমাদের সময়কে বলেন, আমার গ্রামের বাড়ি জামালপুর। করোনামুক্ত হওয়ার পর ইচ্ছে ছিল গ্রামের বাড়িতে স্ত্রী-সন্তানদের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করব। কিন্তু এবার ঈদ হবে আইসোলেশন সেন্টারে।

গাজীপুর মহানগর পুলিশের (জিএমপি) গাছা জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) আশরাফ উল ইসলাম করোনামুক্ত হয়ে চার দিন আগে আবার কাজে যোগ দিয়েছেন। তিনি বলেন, আমি করোনাজয়ী একজন পুলিশ সদস্য। এবার আমি ঈদের সময় কর্মস্থলে থাকব। সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি করোনার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতেই মাঠে দায়িত্ব পালন করব।

advertisement
Evall
advertisement