advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

এই ঈদে অর্থনীতির উল্টোযাত্রা

নিজস্ব প্রতিবেদক
২৩ মে ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ২৩ মে ২০২০ ০৭:৪২
advertisement

ঈদ ঘিরে প্রতিবছর চাঙ্গা হয় দেশের অর্থনীতি। বাজারে বাড়ে টাকার প্রবাহ। অর্থের বড় জোগান আসে সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবীদের বোনাস, গতিশীল হয় অভ্যন্তরীণ বাজার, জাকাত ও ফিতরা থেকে। অন্যতম একটি উৎস রেমিট্যান্সও। রাজনৈতিক নেতা, এমপি, মন্ত্রীরা যান গ্রামে। এ সময় নিম্নআয়ের মানুষের হাতেও টাকা যায়। এতে তাদের ক্রয়ক্ষমতাও বাড়ে। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী থেকে শুরু মৌসুমি ব্যবসায়ীরা ঈদ কেন্দ্র করে পরিকল্পনা সাজায়। প্রতিবছর দেড় থেকে দুই লাখ কোটি টাকার লেনদেন হয়।

তবে করোনা এবার অর্থনীতির চাকা পুরোপুরি থামিয়ে দেয়নি; বরং উল্টোযাত্রা হয়েছে। করোনার প্রাদুর্ভাবে বোনাস নয়; বরং বেতন পেতেই হিমশিম খাচ্ছেন কর্মীরা। আবার গোদের ওপর বিষফোঁড়া হিসেবে এসেছে ঘূর্ণিঝড় আম্পান। এর প্রভাবে দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতি এখন ত্রাণনির্ভর হয়ে দাঁড়িয়েছে।

করোনার প্রভাবে সাধারণ ছুটিতে কৃষি, শিল্প ও সেবা খাতে গড়ে মোট অনুমিত চলতি ক্ষতির পরিমাণ দিনে কমপক্ষে ৩ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। এ হিসাবে ২৬ মার্চ থেকে ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত ৩১ দিনের অবরুদ্ধ অবস্থায় অনুমিত ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়ায় কমপক্ষে ১ লাখ ২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। মে মাস শেষে অনুমিত ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়াবে ২ লাখ ১৭ হাজার ৮০০ কোটি টাকা, যা গত অর্থবছরের দেশীয় উৎপাদনের প্রায় ৯ শতাংশ।

এ বিষয়ে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, এবারের ঈদ হবে আমাদের অর্থনীতির জন্য নিরাশার। যদিও সরকার স্বাস্থ্যবিধি মেনে অল্পসংখ্যক দোকান খোলার অনুমতি দিয়েছে, কিন্তু বিক্রি হচ্ছে খুবই সীমিত পর্যায়ে। ঈদ ঘিরে ইতোমধ্যে যে বিনিয়োগ হয়েছে, তাও উঠে আসবে না। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বিপণিবিতানগুলো। এ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে আরও কয়েক বছর লেগে যাবে।

দোকান মালিক সমিতির সভাপতি ও এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সহসভাপতি মো. হেলাল উদ্দিনের হিসাবে জাকাত ও ফিতরার প্রায় ৭০ হাজার কোটি টাকা, তৈরি পোশাকের ৩৫ হাজার কোটি, ভোগ্যপণ্যের বাজার ২৫ হাজার কোটি এবং ঈদ বোনাস, পরিবহন ও অন্যান্য মিলিয়ে প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা সরাসরি ঈদকেন্দ্রিক লেনদেন হয়। এ ছাড়াও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির ২৭ হাজার কোটি টাকার কিছু অংশ ঈদকেন্দ্রিক লেনদেন হয়ে থাকে। সব মিলিয়ে ১ কোটি ৮০ লাখ টাকার আর্থিক লেনদেন হয়।

কিন্তু চলতি বছরে করোনার প্রাদুর্ভাবে এর কোনোটাই হয়নি। বরং অন্য সময়ের চেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে। ঈদ অর্থনীতি ব্যতীত সাধারণ সময়ে দৈনিক ৩ হাজার কোটি টাকার পণ্য কেনাবেচা হতো। কিন্তু করোনার প্রভাবে গত এপ্রিলে মাসে দৈনিক বিক্রি পরিমাপ করা হয়নি।

এ ছাড়া অন্য সময়ে প্রতিবছর ৮০ হাজার কোটি টাকা ঈদ পোশাকসহ অন্য সাজসজ্জায় বিক্রি হতো। কিন্তু চলতি বছরে ঈদে মাত্র দুই সপ্তাহ আগে কেনাবেচার অনুমোদন পাওয়া যায়। আর অনুমোদন পাওয়া গেলেও পাইকারি পণ্যের সরবরাহ না থাকায় বিক্রি হাজার কোটি টাকাও না হওয়ার আশঙ্কা করছেন দোকান মালিক সমিতির নেতারা।

তবে এবার ঈদ উপলক্ষে রেকর্ড গতিতে দেশের অর্থনীতিতে জমা হচ্ছে প্রবাসীদের রেমিট্যান্স। শুধু মে মাসের ১৯ দিনে ১০৯ কোটি ১০ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে, যা গত বছরের একই সময়ের প্রায় সমান এবং আগের মাস এপ্রিলের পুরো সময়ের চেয়েও বেশি।

ব্যাংকিং খাতে লেনদেন কমার পাশাপাশি ঈদের কেনাকাটায় এটিএম বুথের ব্যবহার কমেছে। এ ছাড়া দেশের অভ্যন্তরে ঘুরে বেড়ানো, বিভিন্ন আনন্দ-বিনোদন বাবদ আরও দেড় হাজার থেকে ২ হাজার কোটি টাকা খরচ হতো অন্য ঈদে, যা এ বছর হবে না বলে জানান পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে জড়িতরা।

গবেষণা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের (বিআইডিএস) অর্থনীতিবিদ ড. নাজনীন আহমেদ বলেন, ঈদ ঘিরে অর্থনীতি ব্যবস্থাকে সচল করতে গিয়ে আমরা স্বাস্থ্য খাতকে কতটা ঝুঁকিতে ফেললাম সেটি আগামী দুই-তিন সপ্তাহের মধ্যে বোঝা যাবে। অর্থনীতির দিক থেকেও এ বছর ঈদ স্বাভাবিক হবে না।

advertisement