advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

‘ব্যক্তিগত’ গাড়িতে ঈদযাত্রায় ছাড়

তুলে নেওয়া হলো ঢাকার প্রবেশপথের চেকপোস্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক
২৩ মে ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ২২ মে ২০২০ ২৩:৩৯
advertisement

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে কিছুদিন আগে ঘোষণা এসেছিল সবাইকে যার যার অবস্থানে থেকে ঈদ করতে হবে। ঈদের মাত্র দুদিন আগে গতকাল সে সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে সরকার। আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না হলেও ব্যক্তিগত গাড়িতে গ্রামে যাওয়ার ক্ষেত্রে গতকাল শুক্রবার থেকে ছাড় দেওয়া হয়েছে। সরকারের এ সিদ্ধান্তের পর সকালে পুলিশ

ঢাকার প্রবেশপথগুলোয় স্থাপিত চেকপোস্টও প্রত্যাহার করে নিয়েছে। সকাল থেকে ব্যক্তিগত গাড়িতে ঢাকা ছাড়তে ও প্রবেশে পুলিশকে বাধা দিতে দেখা যায়নি। সরকারের নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি আরও বাড়বে বলে মনে করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

গতকাল সকালে মাঠপর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা সরকারের নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করছেন। শুধু ঢাকার প্রবেশ মুখ নয়, সকাল থেকে এক জেলা থেকে অন্য জেলাতেও ব্যক্তিগত বাহনে গন্তব্যে পৌঁছতে বাধা না দেওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারের নতুন এ সিদ্ধান্তের ফলে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি আরও বাড়বে। গতকাল দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত অনলাইন স্বাস্থ্য বুলেটিনে জনসাধারণের উদ্দেশে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিটি করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধাবস্থা। এই অবস্থায় প্রতেক্যেই যোদ্ধার মানসিকতা ধারণ করুন, লড়াইয়ের মানসিকতা ধারণ করুন। যে যেখানে আছেন, সেখানেই অবস্থান করুন। শহর থেকে গ্রামের দিকে যাবেন না। ‘যে প্রিয় আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে মিলিত হতে শহর থেকে গ্রামে যেতে চাচ্ছেন, আপনার কারণে সেই প্রিয়জন যেন ঝুঁকিতে না পড়ে।’

পুুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, করোনা ঝুঁকি উপেক্ষা করে গ্রামের বাড়িতে স্বজনদের সঙ্গে ঈদ করতে গত ১৪ মে থেকে মানুষের ঢল নামে শিমুলিয়া ও পাটুরিয়া ফেরিঘাটে। ৩ দিন শত শত মানুষকে গদাগাদি করে ফেরিতে পদ্মা পার হতে দেখা যায়। এ অবস্থায় গত ১৭ মে থেকে রাজধানীতে প্রবেশ ও বের হওয়ার পথে হঠাৎ চেকপোস্ট জোরদার করে পুলিশ। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঢাকায় প্রবেশ বা বের হতে চাইলে বাধার মুখোমুখি হতে হয় মানুষকে।

পুলিশের আইজিপি ড. বেনজীর আহমেদ ছুটিতে গ্রামে না যেতে কঠোর হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, গ্রামে গিয়ে কেউ মৃত্যুদূত হবেন না। এরপরই ওই দুই ঘাটে ফেরিতে যাত্রী পরিবহন বন্ধ করে দেওয়া হয়। এ সময় ঘাটে আটকা পড়েন নারী ও শিশুসহ দক্ষিণ বঙ্গগামী হাজার হাজার মানুষ। একপর্যায়ে পুলিশ বাস ভাড়া করে আটকাপড়াদের আবার ঢাকায় ফেরত আনে। এ অবস্থার মধ্যেই ঈদের মাত্র দুদিন বাকি থাকতে ব্যক্তিগত পরিবহনে বাড়ি ফেরার সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত আসে সরকারের পক্ষ থেকে।

পুলিশ সদর দপ্তরের এক কর্মকর্তা আমাদের সময়কে বলেন, বুধবার রাতে গাইবান্ধায় ঝড়ের মধ্যে ট্রাক উল্টে ১৩ জনের মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে আলোচনার পর ব্যক্তিগত গাড়িতে ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত আসে। তিনি বলেন, যেখানে মানুষ চুরি করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পণ্যবাহী গাড়িতে বাড়ি ফিরছেন তাতে একদিকে বাড়ছে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি, অন্যদিকে মৃত্যুর ঘটনা। এ অবস্থায় অন্তত একটা মাধ্যম খোলা রাখতে ব্যক্তিগত বাহনে বাড়ি ফিরতে ছাড় দেওয়া হয়েছে।

ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন সরদার গতকাল আমাদের সময়কে বলেন, সরকারের সিদ্ধান্ত মোতাবেক গতকাল শুক্রবার সকাল থেকে আমরা ব্যক্তিগত গাড়িতে বাড়ি ফিরতে মানুষকে আর বাধা দিচ্ছি না।

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাতে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে পুলিশের কাছে সিদ্ধান্ত আসে ব্যক্তিগত গাড়িতে যারা গ্রামের বাড়িতে ঈদ করতে যেতে চান তাদের যেতে দিতে হবে। এরপরই পুলিশ শুক্রবার সকালে গাবতলী, পোস্তাগোলাসহ ঢাকার সব প্রবেশপথে বসানো চেকপোস্ট তুলে নেয়।

হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক মল্লিক ফখরুল ইসলাম বলেন, বাড়িতে গিয়ে যারা ঈদ করতে চেয়েছেন, সরকার তাদের ব্যাপারে সম্মতি দিয়েছে। কিন্তু গণপরিবহন বন্ধ থাকবে। পুলিশ সড়কে নিরাপত্তা দেবে, তবে সবাইকে নিজস্ব পরিবহনে যেতে হবে।

করোনা ভাইরাস মহামারীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় গঠিত ‘জাতীয় টেকনিক্যাল পরামর্শক কমিটির’ সদস্য ভাইরোলজিস্ট অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেন, ঢাকায় ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বেশি। সারাদেশের সব জেলায় ততটা নয়। এখন ঢাকা থেকে মানুষ যদি নিজস্ব পরিবহনেও যায়, ভাইরাসটা তো সারাদেশে ছড়িয়ে গেল। এতে ঝুঁকি আরও বাড়ল।

advertisement
Evall
advertisement