advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

এবার কোলাকুলি মানা

বায়তুল মোকাররমে ঈদের পাঁচ জামাত

ইউসুফ আরেফিন
২৩ মে ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ২২ মে ২০২০ ২৩:৩৯
advertisement

করোনা মহামারীর মধ্যে ঈদের নামাজ পড়তে হবে নিকটস্থ মসজিদগুলোতে। অন্য বছরের মতো এবার খোলা মাঠে বা ঈদগাহে বড় পরিসরে ঈদের নামাজ আদায়ের সুযোগ নেই। ফলে হাইকোর্ট প্রাঙ্গণে জাতীয় ঈদগাহেও কোনো আয়োজন নেই। তবে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে যথারীতি এবারও পাঁচটি জামাত হবে। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২৫ মে ঈদুল ফিতরের সম্ভাবনা। আর যদি রোজা ২৯টি হয় তা হলে আগামীকাল রবিবারই ঈদ। দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর বিশ্বব্যাপী মুসলিম

সম্প্রদায় সৌহার্দ ও সম্প্রীতির এই ঈদ উদযাপন করে থাকে। আর প্রতিবছরই জাতীয় ঈদগাহে রাষ্ট্রপতি, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, উচ্চপর্যায়ের সব কর্মকর্তা ও রাজনীতিবিদসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ ঈদের নামাজ পড়েন। তবে এবার সে দৃশ্যের দেখা মিলছে না। এমনকি দেশের সবচেয়ে বড় ঈদগাহ কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়াতেও এবার জামাত হচ্ছে না। শুধু তাই নয়, সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতে ঈদের নামাজ শেষে কোলাকুলি এবং হাত না মেলাতেও অনুরোধ জানানো হয়েছে। মহামারী ঠেকাতেই সরকার এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে গত ১৪ মে আদেশ জারি করে ধর্ম মন্ত্রণালয়।

ইসলামিক ফাউেন্ডশন জানিয়েছে, পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে প্রতি বছরের মতো এবারও বায়তুল মোকাররমে পর্যায়ক্রমে ঈদের নামাজের পাঁচটি জামাত হবে। প্রথম জামাত সকাল ৭টায়, এতে ইমামতি করবেন মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম হাফেজ মুফতি মাওলানা মিজানুর রহমান। মুকাব্বির থাকবেন মুয়াজ্জিন হাফেজ কারী কাজী মাসুদুর রহমান। দ্বিতীয় জামাত সকাল ৮টায়, ইমামতি করবেন মসজিদের পেশ ইমাম হাফেজ মুফতি মুহিবুল্লাহিল বাকী নদভী। তৃতীয় জামাত সকাল ৯টায়, এতে পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা এহসানুল হক ইমামতি করবেন। সকাল ১০টার চতুর্থ জামাতে ইমামতি করবেন পেশ ইমাম মাওলানা মহিউদ্দিন কাসেম। পঞ্চম ও সর্বশেষ জামাত বেলা পৌনে ১১টায়। এ জামাতের ইমামতি করবেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মুহাদ্দিস হাফেজ মাওলানা ওয়ালিয়ুর রহমান খান। এই পাঁচটি জামাতে কোনো ইমাম অনুপস্থিত থাকলে বিকল্প হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মুফতি মাওলানা মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ।

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছিল, ইসলামি শরিয়তে ঈদগাহ বা খোলা জায়গায় ঈদের নামাজ পড়তে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে সারা বিশ^সহ আমাদের দেশে করোনা ভাইরাস পরিস্থিতিজনিত ওজরের কারণে মুসল্লিদের জীবন ঝুঁকি বিবেচনা করে এ বছর নিকটস্থ মসজিদে জামাত আদায়ের অনুরোধ করা হলো। এ ক্ষেত্রেও রয়েছে বেশ কিছু শর্ত।

জামাতের সময় কার্পেট বিছানো যাবে না। নামাজের আগে সম্পূর্ণ মসজিদ জীবাণুনাশক দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে। সবাই নিজ দায়িত্বে জায়নামাজ নিয়ে মসজিদে যাবেন। প্রবেশদ্বারে হ্যান্ড-স্যানিটাইজার অথবা হাত ধোয়ার ব্যবস্থাসহ সাবান-পানি রাখতে হবে। নিজের বাসা থেকে ওজু করে মসজিদে যাবেন প্রত্যেকে এবং ওজুর সময় কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে নেবেন। ঈদের জামাতে অংশ নিতে সবাইকে অবশ্যই মাস্ক পরতে হবে। মসজিদে সংরক্ষিত জায়নামাজ বা টুপি ব্যবহার করা যাবে না। নামাজের কাতারে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে দাঁড়াতে হবে। আর কাতার হবে এক কাতার অন্তর অন্তর। শিশু, বয়োবৃদ্ধ যে কোনো অসুস্থ ব্যক্তি এবং অসুস্থদের সেবায় নিয়োজিত ব্যক্তিরা জামাতে অংশ নিতে পারবেন না। সবার সুরক্ষা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ, স্থানীয় প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণকারী বাহিনীর নির্দেশনা অবশ্যই অনুসরণ করতে হবে। সংক্রমণ রোধে ঈদের জামাত শেষে সবাই কোলাকুলি এবং হাত মেলানো পরিহার করার অনুরোধ করা হয়েছে। এসব নির্দেশনা অমান্য করা হলে স্থানীয় প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলেও সতর্ক করে ধর্ম মন্ত্রণালয়।

দেশে এর আগে করোনার প্রাদুর্ভাব শুরু হলে ৬ এপ্রিল মসজিদে মুসল্লি ঢোকার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে ধর্ম মন্ত্রণালয়। ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ ওয়াক্তিয়া নামাজে সর্বোচ্চ ৫ জন এবং জুমার নামাজে সর্বোচ্চ ১০ জনকে নামাজ পড়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। রমজানে সর্বোচ্চ ১২ জন নিয়ে তারাবিহ পড়ার অনুমতি দেওয়া হয়। পরবর্তীতে অবশ্য কিছু শর্ত দিয়ে তুলে নেওয়া হয় সেই নিষেধাজ্ঞা।

advertisement
Evall
advertisement