advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

ঢামেকের করোনা ইউনিটে ২১ দিনে ১৬৭ জনের মৃত্যু

ইউসুফ সোহেল
২৩ মে ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ২২ মে ২০২০ ২৩:৩৯
advertisement

কোভিড-১৯ রোগে আক্রান্তদের পরীক্ষাসহ চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে করোনা ইউনিটের কার্যক্রম শুরু হয়েছে গত ২ মে। প্রথমে হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে স্থাপন করা হয় এর একটি ইউনিট। পরে রোগীর চাপ বাড়লে সম্প্রতি খোলা হয় আরও একটি। ঢামেকে এই দুই করোনা ইউনিট চালুর দিন থেকে শুরু করে গতকাল শুক্রবার বিকাল পর্যন্ত সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন ১৬৭ জন। এরই মধ্যে পরীক্ষায় তাদের ৩১ জনের শরীরে মিলেছে করোনা ভাইরাসের অস্তিত্ব। গতকাল পর্যন্ত ৮০০ বেডের দুটি ইউনিটে ভর্তি ছিলেন ৩১২ জন নারী, পুরুষ ও শিশু।

ঢামেকের করোনা ইউনিট সূত্র জানায়,

গত ২ থেকে ২২ মে পর্যন্ত ২১ দিনে দুটি ইউনিটে মারা যাওয়া রোগীর সংখ্যা ২০০ ছাড়িয়েছে। যাদের প্রত্যেকের শরীরেই ছিল করোনা উপসর্গ। গত বৃহস্পতিবার বিকাল থেকে গতকাল বিকাল পর্যন্ত করোনা ইউনিটে মৃত্যু হয়েছে ১০ জনের। পরীক্ষায় তাদের মধ্যে দুজনের শরীরে করোনার অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। তারা হলেনÑ তথ্য কমিশনের সাবেক সচিব তৌফিকুল আলম ও গোবিন্দ বিশ্বাস।

ঢামেক সূত্র বলছে, সন্দেহভাজন ও আক্রান্ত রোগীদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা থেকে শুরু করে সব ধরনের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে হাসপাতালের দুটি করোনা ইউনিটে। এখানে আইসোলেশনের ব্যবস্থা ছাড়াও আইসিইউ, এইচডিইউসহ সব ব্যবস্থা আছে। এখানে নিউরো সার্জারি, অর্থোপেডিক্স, শিশু রোগসহ সব চিকিৎসাই পাচ্ছেন রোগীরা। এমনকি কোভিডে আক্রান্ত অন্তঃসত্ত্বারাও সব ধরনের চিকিৎসা পাচ্ছেন করোনা ইউনিটে।

সূত্রটি আরও জানায়, গত ১০ মে ঢামেক হাসপাতালে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত শিশুদের জন্য চালু হওয়া ইউনিটে বর্তমানে ১০টি শিশু চিকিৎসাধীন আছে। প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত এইচডিইউতে (হাইডিপেন্ডেন্সি ইউনিট) স্থাপিত এই ইউনিটে তীব্র শ্বাসকষ্ট নিয়ে এ পর্যন্ত মারা গেছে তিনটি শিশু। চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছে অনেকেই। প্রথমদিকে ১৪টি বেড নিয়ে শুরু হলেও পরে ইউনিটটিতে আরও ১০টি বেড সংযুক্ত করা হয়। যার প্রায় প্রতিটির সঙ্গেই মনিটর থেকে শুরু করে হেড বক্স অক্সিজেনের ব্যবস্থা রয়েছে।

ঢামেক পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল একেএম নাসির উদ্দিন আমাদের সময়কে বলেন, ‘করোনা ইউনিটে ভর্তি রোগীদের বাঁচাতে সর্বোচ্চ চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করছি আমরা। এখানে কোভিড পজিটিভ ও নেগেটিভ দুই ধরনের রোগী ছাড়াও হার্টের সমস্যা, কিডনি-শ্বাসকষ্টসহ নানা রোগে আক্রান্ত রোগীরা আসছেন। ফলে ৬টি অপারেশন থিয়েটার, পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ড, ১০ বেডের আইসিইউ, এইচডিইউর প্রায় সবগুলোই এখন পূর্ণ। তারপরও যারা ভর্তি আছেন তাদের চিকিৎসা অব্যাহত আছে। এর মধ্যে অনেকেই সুস্থ হয়েও ফিরে গেছেন।’

দ্রুত সময়ে এত মৃত্যুর বিষয়ে ঢামেক পরিচালক বলেন, ‘দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে করোনা উপসর্গ নিয়ে বহু মানুষ এখানে আসছে, যাদের খুব অল্প সংখ্যকই কোভিড-১৯ রোগে আক্রান্ত। করোনা আতঙ্কে স্থানীয় হাসপাতালগুলো ভর্তি না নেওয়ায় বহুদিন ধরে মাল্টিপল ডিজিজে আক্রান্ত এসব রোগী চিকিৎসা পেতে শেষে আসছেন ঢামেকের করোনা ইউনিটে। কিন্তু তখন আর কিছুই করার থাকছে না চিকিৎসকদের। ফলে হঠাৎ করে দেখা যাচ্ছেÑ মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। মারা যাওয়া এই ব্যক্তিদের মধ্যে ৪৫ থেকে ৬৫ বছর বয়সীরাই বেশি। তারপরও আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করে যাচ্ছি রোগীদের সারিয়ে তুলতে।

advertisement
Evall
advertisement