advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

করোনাকালে সর্বোচ্চ টাকায় ফিতরা দিন

মুফতি আবুল আহসান
২৩ মে ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ২২ মে ২০২০ ২৩:৩৯
advertisement

অবচেতনভাবে যেসব ত্রুটি-বিচ্যুতির কারণে রোজা ভঙ্গ না হলেও দুর্বল হয়ে পড়ে, হাদিসে সদকাতুল ফিতরকে তার কাফফারা বা ক্ষতিপূরণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। পবিত্র রমজানের ইবাদতের মধ্যে সদকাতুল ফিতর আদায় করাও একটি অন্যতম ইবাদত। এ বছর জনপ্রতি সর্বনি¤œ ৭০ টাকা এবং সর্বোচ্চ দুই হাজার ২শ টাকা হারে সদকাতুল ফিতরের হার নির্ধারণ করেছে জাতীয় ফিতরা নির্ধারণ

কমিটি। সর্বনিম্ন অঙ্ক দান করলেই ফিতরা আদায় হয়ে যাবে। কিন্তু এই করোনা মহামারীকালে আমাদের মাঝে যারা সামর্থ্যবান রয়েছেন, সকলের জন্য কর্তব্য হলো সর্বোচ্চ টাকায় ফিতরা আদায় করা। এর মধ্য দিয়ে যেমন অধিক সওয়াব মিলবে, তেমনি কর্মহীন দুস্থ মানুষের প্রতি অধিক ভালোবাসাও প্রকাশ পাবে। সামান্য বাড়তি এই অর্থদান হৃদয়ের বড়ত্বেরও প্রকাশ। কঠিন বিচার দিবসে এইটুকু দানই হতে পারে নাজাতের উসিলা, যদি আপনি তা এখলাসের সঙ্গে আল্লাহতায়ালাকে রাজি ও খুশি করার জন্য আদায় করেন।

সদকাতুল ফিতর আরবি বাক্য। সদকা মানে দান, আর ফিতর মানে রমজানের সমাপন। ইসলামি পরিভাষায় একে জাকাতুল ফিতরও বলা হয়ে থাকে। সদকাতুল ফিতর আদায় করা ওয়াজিব। হজরত ইবনে ওমর (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনÑ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সদকাতুল ফিতর ওয়াজিব করেছেন। এর পরিমাণ হলো, এক সা জব বা এক সা খেজুর। ছোট-বড়, স্বাধীন-পরাধীন সবার ওপরই এটি ওয়াজিব। (বোখারি)।

সদাকাতুল ফিতরের অন্তর্নিহিত আরেকটি তাৎপর্য হলোÑ ঈদের আনন্দে দরিদ্রজনদেরও অন্তর্ভুক্ত করে নেওয়া। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনÑ রাসুলুল্লাহ (স) সদকাতুল ফিতরকে অপরিহার্য করেছেন, অনর্থক অশালীন কথা ও কাজে রোজার যে ক্ষতি হয়েছে, তা পূরণের জন্য এবং নিঃস্ব লোকের আহার জোগানোর জন্য। (আবু দাউদ শরিফ)।

ফিতরা ওয়াজিব হয় ঈদের দিন সুবহে সাদিক থেকে। নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিকÑ এমন ব্যক্তির জন্য নিজের এবং নিজের নাবালেগ সন্তানের পক্ষ থেকে সদাকাতুল ফিতর আদায় করা ওয়াজিব। অর্থাৎ কারও কাছে সাড়ে সাত ভরি স্বর্ণ বা সাড়ে বায়ান্ন ভরি রুপা অথবা সমমূল্যের নগদ অর্থ বা নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের অতিরিক্ত সম্পদ ঈদুল ফিতরের দিন সুবহে সাদিকের সময় বিদ্যমান থাকলে তার ওপর সদকাতুল ফিতর ওয়াজিব হবে। স্ত্রী ও প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের ফিতরা তারা নিজেরাই আদায় করবে। তবে অন্য কেউ আদায় করে দিলেও তা জায়েজ। ইসলামি শরিয়তের হুকুম অনুযায়ী ঈদের দিন ফজরের নামাজের আগে কোনো শিশু জন্মগ্রহণ করলে তারও ফিতরা আদায় করা ওয়াজিব। আর এক ব্যক্তির ফিতরা এক মিসকিনকে দেওয়া উত্তম।

রোজা কবুলের জন্য সদকাতুল ফিতরা দেওয়া আবশ্যক। হজরত জারির (রা) থেকে বর্ণিত হজরত রাসুলুল্লাহ (স) এরশাদ করেন, রমজানের রোজা সদকাতুল ফিতর আদায় করার পূর্ব পর্যন্ত আসমান-জমিনের মাঝে ঝুলন্ত থাকে। (আত তারগিব ওয়াত তারহিব)।

রোজা-সংক্রান্ত মাসআলা

ছুটে যাওয়া রোজার কাজা সম্ভব না হলে মৃত্যুর আগে ফিদয়া দেওয়ার অসিয়ত করে যাওয়া আবশ্যক। অসিয়ত না করে গেলে ওয়ারিশরা যদি মৃতের পক্ষ থেকে ফিদয়া আদায় করে, তবে আশা করা যায়, দয়াময় প্রভু তা কবুল করবেন। তবে মৃত ব্যক্তি অসিয়ত না করে গেলে সে ক্ষেত্রে মিরাসের যৌথ সম্পদ থেকে ফিদয়া আদায় করা যাবে না। একান্ত কেউ দিতে চাইলে প্রাপ্তবয়স্ক ওয়ারিশরা তাদের অংশ থেকে দিতে পারবেন।

advertisement
Evall
advertisement