advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

ক্ষত সারতে সময় লাগবে

নিজস্ব প্রতিবেদক
২৩ মে ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ২৩ মে ২০২০ ০৯:১০
আম্পানের আঘাতে ভেঙে পড়েছে গাছ
advertisement

করোনা ভাইরাস মহামারীর মধ্যেই ঘূর্ণিঝড় আম্পানের হানা যেন ঈদের আনন্দ শুষে নিয়েছে প্রান্তিক মানুষের। অনেক জেলায় ভেঙে গেছে মানুষের ঘরবাড়ি, উপকূল-রক্ষা বাঁধ, ব্রিজ, রাস্তা; ধ্বংস হয়ে গেছে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা। করোনা ভাইরাস পরিস্থিতির মধ্যেই এত বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগে ব্যক্তিগত সম্পদের ক্ষতির পাশাপাশি মুখ থুবড়ে পড়েছে ক্ষুদ্র ও মৌসুমি ব্যবসাও।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এমনিতেই করোনা ভাইরাস মহামারীর কারণে ব্যবসা-বাণিজ্যে অস্বাভাবিক স্থবিরতা চলছে। উৎপাদিত পণ্য বিক্রি করতে না পারায় অনেক চাষি ও খামারি তুমুল আর্থিক অনটনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। এর মধ্যেই আম্পানের তা-ব যেন তাদের গলা টিপে ধরেছে। সব মিলিয়ে এই ভয়াবহতা কাটিয়ে উঠতে বেশ বেগ পেতে হবে। আম্পানের তা-বে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন মৎস্যচাষিরা।

জলোচ্ছ্বাসেরতোড়ে অনেক ঘের তলিয়ে গেছে। কোনোটিতে লবণপানি ঢুকে পড়ায় মড়ক লেগেছে মাছে। বাগেরহাটে অস্বাভাবিক জোয়ারে তলিয়ে গেছে ৪ হাজার ৬৩৫টি মাছের ঘের। খুলনা জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, সেখানে ২১ হাজার ২৮৮টি চিংড়ি ও মাছের ঘের ভেসে গেছে। বরিশালে ১৯ হাজার ২৪টি মাছের খামার, ঘের ও পুকুর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

পিরোজপুরের বিভিন্ন উপজেলায় তলিয়ে গেছে ৬ হাজার ৭৫৫টি ঘের ও পুকুর। সাতক্ষীরায় ৫ হাজার ঘেরের ৬০ কোটি টাকার মাছ গেছে ভেসে। বরগুনায় ১২১টি মাছের এবং ১০টি চিংড়ির ঘের ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সব মিলিয়ে মৎস্য বিভাগের ক্ষতির পরিমাণ কয়েকশ কোটি টাকা।

ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাবে প্রচ- ক্ষতি হয়েছে কৃষি খাতেও। ঝড়ে সারাদেশে ১ লাখ ৭৬ হাজার হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক। তবে ইতোমধ্যে হাওরে শতভাগ, উপকূলীয় অঞ্চলে ১৭ জেলায় ৯৬ ভাগসহ সারাদেশে গড়ে ৭২ শতাংশ বোরো ধান কাটা সম্পন্ন হওয়ায় এই ক্ষতি খাদ্য উৎপাদনে প্রভাব ফেলবে না বলে জানিয়েছেন তিনি। এদিকে সাতক্ষীরায় ৭০ শতাংশ আম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

লিচু নষ্ট হয়েছে প্রায় ৩০০ কোটি টাকার। আশার কথা হচ্ছেÑ ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের তালিকা করে আমন মৌসুমে বিনামূল্যে সার, বীজ ও নগদ সহায়তাসহ বিভিন্ন প্রণোদনা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। এ ছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক, ফল ও পানচাষিদের মাত্র ৪ শতাংশ সুদে অন্তর্ভুক্ত করা হবে কৃষি ঋণের আওতায়।

এদিকে দুর্যোগ মোকাবিলায় সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী সার্বিক ত্রাণ, উদ্ধার এবং চিকিৎসা সহায়তা কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। এর মধ্যে সেনাবাহিনীর ১৪৬টি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দল কাজ করছে বিভিন্ন এলাকায়। এ ছাড়া চিকিৎসাসেবা দিচ্ছে ৭৬টি টিম, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের জন্য ১৬টি পানি পরিশোধনাগার প্ল্যান্ট ও ১৪টি ওয়াটার বাউজার প্রস্তুত করা হয়েছে।

উপকূলীয় এলাকায় ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত জেলা ভোলা ও হাতিয়ার দুর্গত এলাকায় ত্রাণ সহায়তা নিয়ে যাচ্ছে নৌবাহিনীর দুটি জাহাজ। অন্যদিকে খুলনা নৌ-অঞ্চল থেকে সাতক্ষীরার গাবুরা ইউনিয়নে ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের ত্রাণ ও পুনর্বাসন কাজে সহায়তা দিতে ২২ সদস্যের একটি নৌবাহিনী কন্টিনজেন্ট এবং উদ্ধার অভিযান পরিচালনার জন্য সাত সদস্যের একটি ডাইভিং টিম সাতক্ষীরায় আছে। বিমানবাহিনী ছয়টি পরিবহন বিমান এবং ২৯টি হেলিকপ্টার প্রস্তুত রেখেছে।

 

 

 

advertisement