advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

খুশির ঈদে এবার মন ভার শিশুদের

লুৎফর রহমান কাকন
২৩ মে ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ২৩ মে ২০২০ ০১:১২
advertisement

খুশির ঈদেও এবার মন ভার শিশুদের। ঈদ উপলক্ষে নতুন জামা কেনা, ঘোরাঘুরির কত পরিকল্পনা থাকে তাদের। এবার ঈদ এসেছে কিন্তু নতুন জামা নেই, শিশুপার্ক-চিড়িয়াখানায় ঘুরতে যাওয়ারও উপায় নেই। এমনিতেই প্রায় আড়াই মাস হতে চলল শিশুরা ঘরবন্দি। স্কুল বন্ধ। বন্ধুদের সঙ্গে দেখা নেই। ঈদেও মিলছে না মুক্তি। আনন্দ উৎসবের ঈদে করোনা ভাইরাসের এমন থাবা শিশুদের মনের ওপর আরও চাপ বাড়িয়েছে।

ঈদুল ফিতরে শিশুরা নতুন জামা পরে পরিবারের বড়দের সঙ্গে ঘুরে বেড়ায়। নতুন জামা এই ঈদে শিশুদের সবচেয়ে বড় আনন্দের উপলক্ষ। তবে এবারের ঈদ বিগত শতবছরের মধ্যে আলাদা। করোনা মহামারীর কারণে মানুষ ঘরবন্দি। দেখা দিয়েছে আর্থিক সংকট। যাদের টাকা আছে তারাও অধিকাংশ ক্ষেত্রে করোনা সংক্রমণের শঙ্কায় মার্কেটে যাচ্ছেন না।

অন্যদিকে কয়েক কোটি শ্রমজীবী মানুষ বেঁচে থাকার সংগ্রাম করছে। কাজ নেই, রোজগার নেই। সরকারি-বেসরকারি সহায়তার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে তাদের। ফলে ঘরে থাকা ছোট্ট শিশুটির জন্য নতুন জামা কেনার কথা ভাবতেও পারছেন না তারা।

বাসচালক কালু মিয়া বলছিলেন, তার জীবনে এমন ঈদ আর আসেনি। অন্যান্য বছর ঈদের আগে যাত্রীর চাপ সামলাতে দিনরাত বাস চালাতেন। পরিশ্রম যেমন হতো উপার্জনও হতো প্রচুর। পরিবারের সবার জন্য নতুন জামা কেনার পর দুয়েকজন আত্মীয়স্বজনকে সাহায্যও করতে পারতেন। এবার করোনা ভাইরাসের কারণে দুই মাসের বেশি সময় ধরে গণপরিবহন বন্ধ।

নিজেরই চলতে হচ্ছে অন্যের সহায়তায়। ছোট্ট মেয়েটির দিকে তাকালেই মনটা খারাপ হয়ে যাচ্ছে। তাকে একটা জামাও কিনে দিতে পারছেন না। কালু মিয়ার মতো কোটি কোটি শ্রমজীবী মানুষের ঘরে আজ একই চিত্র। মন ভার শিশুদেরও।

গত বৃহস্পতিবার নারায়ণগঞ্জে ‘ইনস্পায়রেশন’ নামে একটি ফেসবুকভিত্তিক সংগঠন দুই শতাধিক শিশুর মধ্যে নতুন জামা বিতরণ করেছে। সংগঠনের অ্যাডমিন হাসান সারোয়ার মা’মূর বলেন, শিশুদের কাছে ঈদের খুশি মানে নতুন জামা। যারা সচ্ছল তারা হয়তো তাদের শিশুদের জন্য নতুন জামা কিনবেন। কিন্তু দরিদ্র পরিবারের ছেলেমেয়েরা সাধারণত বছরে একবারই জামা কাপড় কেনে।

এবারের ঈদটা শ্রমজীবী মানুষের কাছে খুবই কষ্টের। ফলে আমরা চেষ্টা করেছি, তেমন পরিবারের কিছু শিশুদের কাছে নতুন জামা পৌঁছে দিতে। একটি নতুন জামা পেয়ে শিশুদের চোখেমুখে কী আনন্দের ঝিলিক সেটি প্রকাশ করা কঠিন। শিশুদের সঙ্গে আসার তাদের পরিবারের বড়রাও দুঃখ ঘুচিয়েছেন জামা পেয়ে। তারা তাদের বাচ্চাদের বলছিলেনÑ এটি তোমাদের ঈদের জামা।

শিশুরা ঘরবন্দি। নতুন জামা নেই। বিনোদন নেই। তাদের মনের ওপর কী প্রভাব পড়বে জানতে চাইলে চিকিৎসা মনোবিজ্ঞানী নাঈমা জান্নাত আমাদের সময়কে বলেন, দীর্ঘমেয়াদি লকডাউনের ফলে শিশুরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ তার অতিপরিচিত পারিপার্শ্বিক সামাজিকতা থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন। গতানুগতিক রুটিনের বাইরেও চলতে গিয়ে তারা নানামুখী পারিবারিক দ্বন্দ্ব, আর্থিক অনটন, বাবা-মায়ের নানা সমস্যা সামনে থেকে প্রত্যক্ষ করছে। এ কারণে তাদের মধ্যে অতিরিক্ত চঞ্চলতা, মোবাইল ও টিভি আসক্তি, অসহায় ও একাকিত্ব বোধ, মেজাজের দ্রুত পরিবর্তন ইত্যাদি সমস্যা বাড়ছে।

নিম্ন ও নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের শিশুদের নতুন কাপড়ের একমাত্র উৎস ঈদ উৎসব। এই ব্যতিক্রমী ঈদে তারা আর্থিক অনটন ও লকডাউন পরিস্থিতির কারণে নতুন জামা পাচ্ছে না। উৎসবভিত্তিক অন্যান্য সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আয়োজন থেকেও এবার শিশুরা বঞ্চিত। এসব কিছুই তাদের মনে দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। শিশুদের জন্য এটি খুবই কষ্টের। লকডাউন পরিস্থিতি যেহেতু এখনই শেষ হওয়ার নয়; তাই পরিবর্তিত জীবনধারার সঙ্গে শিশুদের মানিয়ে নিতে সহযোগিতা করতে হবে। সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিশুদের স্বাভাবিক জীবনযাপনের রুটিন এবং শিক্ষা ও বিনোদনের ব্যবস্থা অব্যাহত রাখতে হবে।

গার্মেন্টস ব্যবসায়ী আলী আহম্মদ বলেন, তার একটি ছোট ছেলে রয়েছে। নতুন জামার বিষয়টি সেভাবে তাকে না টাচ করলেও দীর্ঘদিন বাইরে যেতে না পারার বিষয়টি সে অনুভূব করতে পারছে। ফলে তার মধ্যে চঞ্চলতা দেখা দিয়েছে। মোবাইল ফোনে আসক্তি বেড়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, দীর্ঘমেয়াদি লকডাউনের খারাপ প্রভাব পড়ছে, সেটি বুঝতে পারছি; কিন্তু কিছু করার নেই। চেষ্টা করছি সময় দিয়ে স্বাভাবিক রাখার।

advertisement
Evall
advertisement