advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

শ্বাসকষ্টের সঙ্গে বাড়ছে হার্টঅ্যাটাকে মৃত্যু

তৈয়ব সুমন,চট্টগ্রাম
২৩ মে ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ২৩ মে ২০২০ ০১:০৯
প্রতীকী ছবি
advertisement

চট্টগ্রামে করোনা আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত মারা গেছেন ৪৯ জন। এর মধ্যে প্রথম দিকে মারা যাওয়া অধিকাংশেরই ছিল শ্বাসকষ্টের সমস্যা। কারণ করোনা মুখ কিংবা নাক দিয়ে প্রবেশ করে প্রথম আক্রমণ করে গলায়। কিন্তু চিকিৎসকরা বলছেন, চট্টগ্রামে এখন করোনা আক্রান্তরা শ্বাসকষ্টের চেয়ে মস্তিষ্কে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে বেশি মারা যাচ্ছেন। চট্টগ্রাম জেলায় এখন পর্যন্ত ১৩১৮ জন আক্রান্ত হয়েছেন।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, করোনা আক্রান্ত অনেকেরই হার্টঅ্যাটাকের ঘটনা ঘটছে। একই সঙ্গে মস্তিষ্কে সমস্যা দেখা দিচ্ছে। মস্তিষ্ক ফুলে যাচ্ছে, খিঁচুনি হচ্ছে এবং একপর্যায়ে স্ট্রোক করে মৃত্যু হচ্ছে অনেকের। যারা গন্ধ নেওয়ার অনুভূতি হারিয়ে ফেলছেন, তাদের মস্তিষ্ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণে এ ধরনের ঘটনা ঘটছে।

চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. আবদুর রব আমাদের সময়কে বলেন, এক সপ্তাহ ধরে চট্টগ্রামে করোনা ভয়ঙ্কর আচরণ করছে। আগে করোনা সংক্রমণের পর শ্বাসকষ্টে মৃত্যুর হার ছিল বেশি। এখন রক্ত জমাটবেঁধে হার্টঅ্যাটাকে ও মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণে মৃত্যু বাড়ছে।

গত বৃহস্পতিবাব চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের বয়সভিত্তিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, শূন্য থেকে ১০ বছর পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছে ৩ শতাংশ, ১১-২০ বছরের মধ্যে ৭, ২১-৩০ বছরের মধ্যে ২৪, ৩১-৪০ বছরের ২৮, ৪১-৫০ বছরের ১৬, ৫১-৬০ বছরের ১৪ ৬০ বছরের ৮ শতাংশ। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন ২১ থেকে ৪০ বছর বয়সীরা।

চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন শেখ ফজলে রাব্বী বলেন, বৃহস্পতিবার ৪৬২ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৯০ জনের পজিটিভ এসেছে। এর মধ্যে নগরীর ৭৭, উপজেলার ১৩ জন। এ নিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা গিয়ে দাঁড়িয়েছে ১৩১৮ জনে। এদিকে বৃহস্পতিবার ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছে চারজন। এখন চট্টগ্রাম জেলায় নিহতের সংখ্যা ৪৯ জন। তিনি বলেন, ২১ মে পর্যন্ত চট্টগ্রামে শনাক্ত ১৩১৮ জনের মধ্যে ৯৯৭ চট্টগ্রাম মহানগরীর ও ৩২১ বিভিন্ন উপজেলার। সংখ্যার বিচারে ৭৫ শতাংশ রোগী নগরীর, ২৫ শতাংশ গ্রামাঞ্চলের। আক্রান্তদের মধ্যে মহানগরীর কোতোয়ালি, খুলশী, পাঁচলাইশ, হালিশহর, ইপিজেড, গ্রামাঞ্চলে পটিয়া, সীতাকু-, সাতকানিয়া, লোহাগাড়া উপজেলা এর মধ্যে বিপজ্জনক জোন হয়ে উঠেছে। গতকাল শুক্রবার গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে। চারজনই নগরীর বাসিন্দা। তারা হলেনÑ নগরীর কোতোয়ালির মোড়ের ৫১ বছর বয়সী একজন, বায়েজিদের ৬৫ বছর বয়সী একজন, ফিরিঙ্গীবাজারের ৫০ বছর বয়সী একজন ও সাগরিকার ৪৫ বছর বয়সী একজন। মৃত চারজনের মধ্যে একজন মারা গেছেন হার্টঅ্যাটাকে। এর আগে গত ২০ মে চট্টগ্রামে বায়তুশ শরফের পীর মাওলানা কুতুবউদ্দিন মারা যাওয়ার পর নমুনায় করোনাভাইরাস পাওয়া যায়। তার ছেলে সালাহউদ্দিন বেলালের অভিযোগ, হার্টঅ্যাটাকে তার পিতার মৃত্যু হয়েছে।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. হাসান শাহরিয়ার কবির বলেন, চট্টগ্রামে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার পেছনে অসচেতনতা ও অবাধ মেলামেশাকে দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, ঈদের ছুটিতে অনেকে লাইন ধরে বাড়ির দিকে ছুটছেন। এভাবে হলে তো করোনা ঠেকানো কঠিন হবে।

 

advertisement