advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

ঈদে দুশ্চিন্তায় পরিবহন শ্রমিকরা
৫০ লাখ পরিবারের ঘরে ঈদ নেই

তাওহীদুল ইসলাম
২৩ মে ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ২৩ মে ২০২০ ১০:১৭
advertisement

করোনার বিস্তার রোধে ৩০ মে পর্যন্ত গাড়ি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এরই মধ্যে উদযাপন করতে হবে ঈদুল ফিতর। আসলে এবার করোনার কারণে ঈদ সেভাবে উদযাপিত হচ্ছে না। চিরায়ত ঐতিহ্য অনুযায়ী এবার সেভাবে দেখা যাচ্ছে না ঘরমুখী মানুষের ঢল। সরকারি নির্দেশনায় গত ২৫ মার্চ মধ্যরাত থেকে বন্ধ রয়েছে গণপরিবহন। এ অবস্থায় পরিবহন শ্রমিকরা কি পারবে ঈদের আনন্দ পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ভাগাভাগি করতে?

সড়ক পরিবহন আইনে চালক ও শ্রমিককে মাসিক বেতনে নিয়োগ দেওয়ার বিধান থাকলেও তা আদৌ মানা হয়নি। কাজ না থাকলে টাকা পান না। এ কারণে করোনা পরিস্থিতিতে শ্রমিকরা খুবই সংকটে আছেন। পরিবহন সেক্টরে অন্তত ৫০ লাখ শ্রমিক পরিবার রয়েছে। প্রায় ২ মাস ধরে বেকার থাকা শ্রমিকরা মানবেতর জীবনযাপন করছে। চালক, হেলপার, কন্ডাক্টর প্রায় সবার একই অবস্থা। বাসা ভাড়া, স্ত্রী-সন্তানের অন্নের জোগান দিতে ধারদেনা করে ইতোমধ্যে অসহায় অবস্থায় পড়ে গেছেন। এরই মধ্যে ঈদ চলে আসায় দৈনদশা ঘোচানোর পথ খুঁজে পাচ্ছেন না এ খাতের সাধারণ শ্রমিক। সাধারণ ছুটি ঘোষণার পরপরই সরকার দিনমজুরদের জন্য ৭৬০ কোটি টাকার সহায়তার ঘোষণা দেয়।

তবে পরিবহন খাতের মালিক, শ্রমিকনেতাসহ সাধারণ শ্রমিকরা বলছেন, এ সহায়তা পরিবহন শ্রমিকরা পাচ্ছেন না। কীভাবে তালিকা হচ্ছে তা-ও তারা জানেন না। বাস, মিনিবাস, সিএনজি অটোরিকশাসহ গণপরিবহনের সব শ্রমিকের অবস্থাই করুণ। পণ্য পরিবহনের সম্পৃক্ত শ্রমিকদের অবস্থাও খুব ভালো নয়। নুন আনতে পান্তা ফুরানোর মধ্যেই ঈদের আবির্ভাব হওয়ায় কষ্টের মাত্রা বেড়ে গেছে। অবুঝ সন্তানের মুখে কীভাবে ঈদের হাসি ফোটাবে, তার উপায় খুঁজে পাচ্ছেন না তারা। সংসার চলছে না বলে দূরপাল্লার বাস চালুর দাবিতে গত কয়েক দিন পরিবহন শ্রমিকরা ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় রাস্তায় নেমেছেন।

বেশ কিছু স্থানে ত্রাণের দাবিতে কর্মসূচি পালনও করেছেন। সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনে নিবন্ধিত চালক ও শ্রমিকের সংখ্যা প্রায় ৫০ লাখ। তাদের মধ্যে প্রায় ৩০ লাখ সরাসরি চালক ও গাড়ির শ্রমিক। এর বাইরে পরিবহন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন খাতে আরও ২০ লাখ শ্রমিক রয়েছেন। লকডাউনে তারা সবাই বেকার হয়ে গেছেন। সাধারণত প্রতিটি যাত্রীবাহী বাসে চালক, সুপারভাইজার, হেলপারসহ অন্তত তিনজন শ্রমিক কাজ করেন। ‘লকডাউন’ শুরুর পর বাসমালিকরা একজন শ্রমিককে গাড়ি পাহারায় রেখে বাকি দুজনকে বাদ দিয়েছেন। যিনি পাহারায় রাত-দিন বাসে থাকছেন, তাকে ৩০০ টাকা খোরাকি বাবদ দেওয়া হচ্ছে মালিক সমিতির সিদ্ধান্তে। কোথাও এই টাকার পরিমাণ ২০০। বাকি দুজন কিছুই পাচ্ছেন না।

সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলী জানান, পরিবহন শ্রমিকরা মানবেতর জীবনযাপন করছে। তারা দৈনিক ট্রিপভিত্তিক কাজ করে। ফলে কাজ বন্ধ থাকায় অনাহারে দিনাতিপাত করছে এসব মানুষ। শ্রমিকরা বলেছেন, টার্মিনাল থেকে কয়েকজন মাত্র ১০ কেজি করে চাল পেয়েছেন। আর কেউ কোনো সহায়তা পাননি। এ দুর্দিনে পাশে পাচ্ছেন না মালিকদের।

এ অভিযোগ অস্বীকার করে সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্যাহ বলেন, তিনি নিজে দুই দফায় তার মালিকানাধীন পরিবহন কোম্পানিতে কর্মরতদের ৩৫ লাখ টাকা অনুদান দিয়েছেন। বাকি কোম্পানিগুলোও কম-বেশি দিচ্ছে।

advertisement