advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

কর্মস্থলে ঈদেও আফসোস নেই কর্মকর্তাদের

ইউসুফ আরেফিন
২৩ মে ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ২৩ মে ২০২০ ০০:৪২
advertisement

সময়মতো বেতন-বোনাস, এক সপ্তাহের অধিক সময় ছুটি সব মিলিয়ে প্রতিবছর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ঈদ আনন্দটা একটু বেশিই হয়। ছুটি পেলেই তারা ছুটতেন গ্রামের বাড়িতে প্রিয়জনের কাছে। কিন্তু এবারের চিত্রটা সম্পূর্ণ ভিন্ন। বিশ^ব্যাপী করোনার প্রাদুর্ভাবে তাদের এবার যেতে পারছেন না গ্রামে। কর্মস্থলেই ঈদ করতে ১৪ মে আদেশ জারি করে সরকার। ফলে ছুটিতে কর্মস্থলেই থাকতে হচ্ছে প্রায় ১৩ লাখ সরকারি চাকরিজীবীকে। পরিবার-পরিজনের সাথে ঈদ করার সুযোগ না পাওয়ায় অনেকেরই মন খারাপ। আবার কেউ কেউ বলেন, প্রতিবছরই তো পরিবারের সঙ্গে ঈদ করি; কিন্তু এবারের পরিস্থিতির কারণে বাড়িতে ঈদ করতে পারছি না বলে আফসোসের কিছু নেই।
সরকারের এক উপসচিব আমাদের সময়কে বলেন, এবারের পরিস্থিতিতে আসলে কারও বাড়িতে গিয়ে ঈদ করা সমীচীন নয়। করোনার বিস্তার ঠেকাতে সরকার সব গণপরিবহন বন্ধ রাখা হয়েছে। কারণ মানুষ শহর ছেড়ে গ্রামে ছোটাছুটি করলে করোনার প্রাদুর্ভাব আরও বাড়বে। এসব বিষয় মাথায় রেখেই মূলত সরকারি চাকরিজীবীদের কর্মস্থল ত্যাগে বিধিনিষেধ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া এ পরিস্থিতিতে যে কোনো সময় যে কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীকেই কর্মস্থলে দরকার হতে পারে। এসব কিছু বিবেচনায় নিয়েই কর্মস্থল ছাড়তে নিষেধ করা হয়েছে। তবে
এর মধ্যেও যেসব কর্মচারী আগেই কর্মস্থল ছেড়ে গ্রামে চলে গেছেন, তারা সেখানেই অবস্থান করছেন। অবশ্যই কর্মস্থলে উপস্থিত নেই, এমন কর্মকর্তা-কর্মচারীর তালিকা করতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, বাড়িতেই ঈদ করতে হবে এমন মনোভাব ত্যাগ করা দরকার। মানুষের জন্য কাজ করতে হলে কর্মকর্তাদের অনেক ত্যাগ স্বীকার করতে হয়।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন নিয়োগ-১ শাখার প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. শফিকুর রহমান আমাদের সময়কে বলেন, প্রতিবছরই সন্দ্বীপে গ্রামের বাড়িতে স্বজনদের সঙ্গে ঈদ করি। কিন্তু এবার করোনা পরিস্থিতির কারণে সেটি সম্ভব হচ্ছে না। কারণ সরকার কর্মস্থলেই ঈদের আদেশ জারি করেছে। আমরা সাধারণ ছুটির মধ্যেও

অফিস করছি। যে কোনো সময় আমাদের অফিসে যেতে হতে পারে। সুতরাং এবার ঢাকায়ই ঈদ করব। তবে করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে ঈদের পর সুযোগ পেলে বাড়িতে যাব। এ ছাড়া বর্তমান পরিস্থিতিতে ছোটাছুটি করা মানেই বিপদ ডেকে আনা বলে মন্তব্য করেন শফিকুর।
কর্মকর্তারা জানান, করোনায় কার্যত পুরো দেশ অচল। এমন অবস্থায় মানুষের ছোটাছুটি বন্ধ করে ঘরে থাকার বিকল্প নেই। এতে করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হবে। কিন্তু সাধারণ মানুষ যেভাবে গ্রামে যাওয়ার উৎসবে মেতেছে তাতে করোনার প্রাদুর্ভাব গ্রামেও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়বে।
কর্মস্থলে ঈদ করার আদেশে বলা হয়, ঈদুল ফিতরের সরকারি ছুটিতে কেউ কর্মস্থল ত্যাগ করতে পারবে না। শুধু তা-ই নয়, সরকারি আরেক আদেশে বলা হয়, করোনার মহামারীর মধ্যে এবার রোজার ঈদের সময় আন্তঃজেলা যাত্রী পরিবহন বন্ধ থাকবে। এ ছাড়া চলমান সাধারণ ছুটির সময় এক জেলা থেকে আরেক জেলা এবং এক উপজেলা থেকে আরেক উপজেলায় জনসাধারণের চলাচল কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষকারী বাহিনীকে নির্দেশ দেয় সরকার।
এ বিষয়ে জনপ্রশাসন সচিব শেখ ইউসুফ হারুণ বলেন, সরকারি আদেশে শুধু সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ঈদের ছুটিতে কর্মস্থলে অবস্থানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
চাঁদ দেখাসাপেক্ষে ২৫ মে রোজার ঈদ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আর যদি রোজা ২৯টি হয় তা হলে আগামীকাল রবিবারই (২৪ মে) ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে। দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর বিশ^ব্যাপী মুসলিম সম্প্রদায় সৌহার্দ ও সম্প্রীতির এই ঈদ উদযাপন করে থাকে।
দেশে করোনা ভাইরাস দেখা দিলে সরকার প্রথম দফায় ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সব অফিস আদালত বন্ধ ঘোষণা করে। সেই সঙ্গে সারাদেশে সব ধরনের যানবাহন চলাচলেও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। এর পর সাধারণ ছুটি কয়েক দফা বাড়ানো হয়। ঈদের ছুটি ও সাধারণ ছুটি মিলিয়ে আগামী ৩০ মে পর্যন্ত বন্ধ থাকছে সরকারি-বেসরকারি অফিস।

advertisement