advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

করোনা ঠেকাতে এবার রেওয়াজে ছেদ
ঈদে বাড়ির রান্না খাবার পাবেন না কারাবন্দিরা

ঈদের তিন দিন থাকছে বিশেষ ভোজ

হামিদ উল্লাহ চট্টগ্রাম
২৩ মে ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ২২ মে ২০২০ ২৩:৪০
advertisement

ঈদে কারাবন্দিরা সাধারণত বাড়ির রান্না করা খাবার খাওয়ার বিশেষ সুযোগ পেয়ে থাকেন। এ ধর্মীয় উৎসবের সময় স্বজনরা কারাগারে গিয়ে বন্দিদের সঙ্গে দেখা করে খাবার দিয়ে আসেন। কারাবিধিতে না থাকলেও এটি বহু বছরের রেওয়াজ। তবে করোনা ভাইরাসজনিত পরিস্থিতিতে এবার ঈদে এ সুযোগ রাখছে না চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষ।

দেশের কয়েকটি কারাগারে বন্দিদের মধ্যে করোনা ভাইরাস ধরা পড়লেও এখনো চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার বিপদমুক্ত রয়েছে। এ কারাগারে ধারণক্ষমতার চারগুণেরও বেশি বন্দি থাকায় এখানে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা সম্ভব নয়।

এ অবস্থায় ঈদে আগত স্বজনদের কারো মাধ্যমে কারাগারে করোনা ভাইরাস প্রবেশ করলে তা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হবে। সেই উদ্বেগ থেকেই এবার ঈদে বন্দিদের বাসায় রান্না করা খাবার দিতে মানা করছে কারা কর্তৃপক্ষ। এর পরিবর্তে ঈদ উপলক্ষে তিন দিন কারাগারেই রান্না করে বন্দিদের ভালো খাবারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

চট্টগ্রামের সিনিয়র জেল সুপার কামাল উদ্দিন বলেন, নিয়ম অনুযায়ী বাইরে থেকে কিছু এনে বন্দিদের খাওয়ানো নিষেধ। তবে প্রতিবছর ঈদের সময় তিন দিন স্বজনরা বাসা থেকে রান্না করা খাবার এনে বন্দিদের খাওয়াতে পারতেন। সেই সুুযোগ এবার আর থাকছে না। এটি শুনতে কিছুটা বেদনাদায়ক মনে হতে পারে। তবে সবার সামগ্রিক মঙ্গলের কথা চিন্তা করে আমরা কারাগারে ভিন্নভাবে ঈদ উদযাপনের চেষ্টা করছি। এ জন্য কারাগারে বন্দিদের জন্য তিন দিন উন্নতমানের ভোজের ব্যবস্থা করা হবে। অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাও থাকবে।

তিনি বলেন, করোনা সংক্রমণের আশঙ্কা থেকে ইতোমধ্যে বন্দিদের সঙ্গে স্বজনদের দেখা করার সুযোগও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এর পরিবর্তে প্রত্যেক বন্দি সপ্তাহে দুবার মোবাইল ফোনে কারাগার থেকে স্বজনদের সঙ্গে কথা বলতে পারছেন। কারাগারে বন্দিদের জন্য টাকা পাঠানোর পদ্ধতিতেও

এসেছে পরিবর্তন। আগে কারাগারে গিয়ে টাকা দিয়ে রসিদ সংগ্রহ করতে হতো। এখন নির্দিষ্ট বিকাশ নম্বরের মাধ্যমে টাকা পাঠানো যাচ্ছে। তিনি বলেন, কারাগারে বন্দিদের তৈরি করা মাস্ক সবার মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। সবার মাস্ক পরা বাধ্যতামূলকও করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম কারাগারকে করোনা সংক্রমণ থেকে দূরে রাখতে বাজার ব্যবস্থাপনাতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন নিয়মে একজন ডেপুটি জেলারের নেতৃত্বে কেবল দুজন নির্দিষ্ট ব্যক্তি কারাগারের সব বাজার করে আনেন। বাইরে থেকে আসার পর তারা স্বাস্থ্যবিধি মেনে নিজেদের জীবাণুমুক্ত করেন। কিন্তু তাদের কারাগারের ভেতরে যেতে দেওয়া হয় না। বাজারের সব পণ্যও স্বাস্থ্যবিধি মেনে কারা অভ্যন্তরে প্রবেশ করানো হচ্ছে।

চট্টগ্রাম কারাগারে কর্মকর্তা-কর্মচারী ও কারারক্ষী ৪১৭ জন। অনেকে সপরিবারে থাকেন। সব মিলিয়ে এ সংখ্যা প্রায় ৫০০। করোনা সংক্রমণ শুরুর পর থেকে তারা সবাই এক প্রকার লকডাউন অবস্থায় আছেন।

জানা যায়, প্রতিবছর ঈদের সময় শাস্তির মাত্রা বিবেচনা করে কিছু বন্দিকে মুক্তি দেওয়া হয়। কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এবার তা করা হচ্ছে না। করোনা সংক্রমণ শুরু হলে এমনিতেই শাস্তি ও অন্যান্য বিষয় বিবেচনায় কিছু বন্দিকে সরকার মুক্তি দিয়েছে। ফলে নতুন করে আর কাউকে মুক্তি দেওয়া হচ্ছে না।

advertisement
Evall
advertisement