advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

‘কখনো ভাবিনি ১৬ কোটি মানুষের অধিনায়ক হব’

সাইফুল ইসলাম রিয়াদ
২৩ মে ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ২৩ মে ২০২০ ০১:১০
জামাল ভূঁইয়া
advertisement

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে বেড়ে ওঠা জামাল ভূঁইয়া এখন ফুটবলে ১৬ কোটি বাংলাদেশির প্রতিনিধি। ২০১১ সালে লাল-সবুজের জার্সিতে খেলার আশায় এসেও স্বপ্নপূরণ হয়নি। তার দুই বছর পরই ২০১৩ সালে ডাচ কোচ লোডভিক ডি ক্রুইফের হাত ধরে শুরু হয় তার পথ চলা। অভিষেকের পর থেকে জামাল হয়ে উঠেছেন দেশের ফুটবলের মধ্যমণি। তার কাঁধেই এখন বাংলাদেশ ফুটবলের নেতৃত্ব।

সেই কোপেনহেগেনের জামাল ভূঁইয়া কখনো স্বপ্ন দেখেছিলেন ১৬ কোটি বাংলাদেশির অধিনায়ক হবেন? ‘জীবনেও কখনো ভাবিনি। যে সময় আমি কোপেনহেগেনে খেলেছি ছোট বেলায়, জীবনেও আমি ভাবিনি আমি বাংলাদেশের অধিনায়ক হব। সত্যি কথা বলতে, আমি চিন্তা করেছি একদিন বাংলাদেশের জন্য খেলব। এই স্বপ্ন এখন পূরণ হয়েছে। এখন আমি গর্ব করি বাংলাদেশের অধিনায়ক হতে পেরে’Ñ বাংলাদেশ ফুটবল ফেডাররেশনের (বাফুফে) আয়োজনে ফেসবুক লাইভ আড্ডায় ঠিক এভাবেই বলছিলেন তিনি। আড্ডাটি সঞ্চালনা করেছেন বাফুফের এক্সিকিউটিভ খালিদ মাহমুদ নাওমি।

তার পর কীভাবে সম্ভব হয়েছিল নেতৃত্ব পাওয়া? জামাল ভূঁইয়া বলেন, ‘আমি গত পাঁচ-ছয় বছর টানা খেলছি বাংলাদেশের হয়ে। খেলা শুরুর পর থেকে আমি নিয়মিত সদস্য হয়ে দাঁড়াই। এর কিছুদিন পর আমি ভাবলাম আমি যদি আরও পরিশ্রম করি, আরও চেষ্টা করি তা হলে আমি বাংলাদেশের অধিনায়ক হতে পারব। আলহামদুলিল্লাহ, আমি অধিনায়ক নির্বাচিত হয়েছি এবং এটা আমার ক্যারিয়ারের জন্য পজিটিভ।’

বাংলাদেশ ফুটবলের মধ্যমণি জামাল খেলেনও মাঝ মাঠে। ধীরে ধীরে হয়ে উঠেছেন ভরসার প্রতীক হয়ে উঠেছেন। শুরু থেকেই কি মাঝ মাঠে খেলার পরিকল্পনা ছিল? জামালা ভূঁইয়া বলেন, না, শুরুতে আমি মনে করছি রোনাল্ডোর মতো খেলব। মানে ব্রাজিলের রোনাল্ডোর মতো। তখন ভাবতাম একদিন আমি স্ট্রাইকার হব। কিন্তু যখন বড় হয়েছি তখন ভেবেছি একজন মাঝ মাঠের খেলোয়ার হব। এখন তা-ই আছি। মাঝ মাঠে আমার কাছে আইকন খেলোয়াড় জিনেদিন জিদান।

বাংলাদেশের জার্সি গায়ে জামাল ভূঁইয়ার কাছে সেরা ম্যাচ হলো এশিয়ান গেমসে কাতারের বিপক্ষে ২০১৮ সালের ম্যাচটি। এই ম্যাচে বাংলাদেশ ১-০ তে জিতেছিল। কাতারের বিপক্ষে এদিন জামালের গোলেই বাংলাদেশ জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছিল। এ ছাড়া তিনি কথা বলেছেন ভারতের বিপক্ষে বিশ্বকাপের বাছাইপর্বের ম্যাচটি নিয়েও। তিনি বলেন, ২০১৮ সালে কাতারের বিপক্ষে এশিয়ান গেমেসই আমার এখন পর্যন্ত সবসময় সেরা ম্যাচ। আর ভারতের ম্যাচে অনেক হাইপ ছিল। কারণ এটা বিশ্বকাপের কোয়ালিফাই ম্যাচ ছিল। দুইটা প্রতিবেশী দেশ; বাংলাদেশ নাকি ভারতÑ কে সেরা এ নিয়ে অনেক হাইপ ছিল।

কিশোরগঞ্জের ২৯ বছর বয়সী জামাল হ্যারিস ভূঁইয়া ১৯৯০ সালে ডেনমার্কে জন্মগ্রহণ করেন এবং সেখানেই বেড়ে ওঠেন। ২০১৩ সালের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের মাধ্যমে ঢাকায় ফুটবলে পা রাখেন তিনি। এখন তিনি খেলছেন সাইফ স্পোর্টিং ক্লাবের হয়ে। এ বছরের শুরুতে তিনি বিয়ের পিঁড়িতে বসেন। বিবাহিত জীবন ও ব্যাচেলর জীবনের মধ্যে পার্থক্য কী? এমন প্রশ্নে জামাল ভূঁইয়া বলেন, যখন আপনি বিবাহিত তখন আপনাকে একজনের প্রতি আপনার মনোযোগ দিতে হবে। দিনে সর্বনিম্ন দুই তিনবার তার খোঁজ নিতে হবে। যখন আপনি অবিবাহিত, তখন কোনো কিছুর খবর না নিলেও চলে। তখন আপনি স্বার্থপরও হতে পারেন। কিন্তু যখন আপনার জীবনে কেউ আসবে তখন তার প্রতি আপনার মনোযোগ দিতে হবে। আর অনেক কিছুই রয়েছে যেগুলো বিবাহিত জীবনে করা যায় না। এগুলো হলো বড়দের আলোচনার বিষয়।

স্ত্রী তাকে সব সময় উৎসাহ দেন জানিয়ে জামাল ভূঁইয়া বলেন, আমি তো সবসময় ওনাকে বলি, আমার কখন খেলা থাকে। উনি সবসময় আমাকে উৎসাহ দেন। উনি সব সময় বলে বেস্ট অব লাক। আরও বলেন, আই উইশ ইউ অল দ্য বেস্ট।

 

advertisement