advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

বিদেশি ক্রেতাদের আচরণে কারখানা মালিকের চোখে পানি

নিজস্ব প্রতিবেদক
২৩ মে ২০২০ ১১:০৪ | আপডেট: ২৩ মে ২০২০ ১৭:৫৯
মোস্তাফিজ উদ্দিন। ছবি : সংগৃহীত
advertisement

করোনাভাইরাসের কারণে বিদেশি ক্রেতাদের অর্ডার বাতিল, স্থগিত ও পাওনা টাকা আটকে দেওয়ায় বাংলাদেশি এক পোশাক কারখানা মালিকের কান্নার ছবি ভাইরাল হয়েছে। তার কান্নার ছবি দিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম অ্যাপারেলইনসাইডার ডটকম।

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী ইপিজেড এলাকায় ডেনিম এক্সপার্ট কারখানার ওই মালিকের নাম মোস্তাফিজ উদ্দিন। তার পোশাক কারখানায় প্রায় দুই হাজার শ্রমিক কাজ করেন। তাদের বেতন-বোনাস দেওয়া নিয়ে উদ্বিগ্ন এই কারখানা মালিক বিদেশি ক্রেতাদের কাছ থেকে পাওনা টাকা না পেয়ে শেষ পর্যন্ত কেঁদেই ফেলেছেন। 

মোস্তাফিজ উদ্দিন বলেন, ঈদের আগে শ্রমিকদের হাতে বেতন-বোনাস আর ঈদ উপহার তুলে দেওয়ার জন্য টানা ১০ দিনের বেশি বিদেশি ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ চালিয়ে আসছিলেন। শেষ দিন সকাল ১০টায় ব্যাংকে বসেই তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে থাকেন।

কিন্তু বিকেল ৩টার দিকে ব্যাংক থেকে জানানো হয়, ইউরোপ কিংবা আমেরিকা কোনো দেশ থেকেই টাকা আসেনি। তাই আজকে আর কোনো লেনদেনের সুযোগ নেই।

তিনি বলেন, ‘এ কথা শোনার পর আমার মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ল। আগের রাতে একটুও ঘুমাতে পারিনি। বুধবার সকালে শেষ কর্মদিবসে শ্রমিকদের কী করে খালি হাতে বিদায় করব তা ভাবতেই আমার কান্না চলে আসে। কিছুক্ষণের জন্য নিজের ওপর থেকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলি।’

ইউরোপ-আমেরিকার দেশগুলোতে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার পর গত ফেব্রুয়ারি থেকেই সংকটের শুরু হয়। বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের সবচেয়ে বড় বাজার পশ্চিমা বিশ্বে পোশাকের চাহিদাও কমে যায়।

এমন পরিস্থিতিতে বিভিন্ন ক্রেতা কোম্পানি আকস্মিকভাবে একের পর এক কার্যাদেশ বাতিল করতে থাকে। অনেকে পণ্য হাতে পেয়েও সেগুলোর দাম আটকে রেখেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

পোশাক কারখানা মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ’র হিসাবে, করোনাভাইরাসের কারণে দেশের ১ হাজার ১৫০ কারখানার ৩১৮ কোটি ডলারের পোশাকের ক্রয়াদেশ বাতিল বা স্থগিত হয়েছে। তাতে প্রায় ২২ লাখ পোশাকশ্রমিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এই সংকটের শিকার মোস্তাফিজ বলেন, গত ফেব্রুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত বিদেশি ক্রেতাদের কাছে প্রায় ৫৪ কোটি টাকা বকেয়া পড়েছে।

প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, ‘হাতে গোনা দুই-চারটি কারখানা হয়ত এমন ধাক্কা সমলাতে পারবে। কিন্তু আমার মতো ছোট কারখানাগুলো কী করে টিকে থাকবে।’

যদিও শেষ মুহূর্তে পরিচিত বন্ধু-স্বজনদের কাছ থেকে ধার-দেনা করে এবারের ঈদের বোনাস শ্রমিকদের হাতে তুলে দিয়েছেন তিনি।

বিদেশি ক্রেতাদের অসহযোগিতার কথা তুলে ধরে মোস্তাফিজ বলেন, ‘মহামারি শুরু হওয়ার পর ক্রেতারা কোনো আলোচনা ছাড়াই একতরফাভাবে অর্ডারগুলো বাতিল করে দিলো, কিছু শিপমেন্ট স্থগিত করে দিল। তারা অর্ডার করল, আমরা পণ্য তৈরি করলাম। এখন তারা টাকা না দিয়ে অর্ডার স্থগিত করল, এটা তো কোনো ব্যবসার পদ্ধতি হতে পারে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার আমেরিকার ক্রেতারা ফেব্রুয়ারি মাস থেকে টাকা দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। কিন্তু আমাকে তো শ্রমিকের বেতনসহ অন্যান্য খরচ চালিয়ে নিতে হচ্ছে। তাদের উত্তর হচ্ছে, তারা সময় হলে টাকা দেবে। কিন্তু তাদের কখন সময় হবে? সে পর্যন্ত আমার শ্রমিকরা কি না খেয়ে থাকবে? তারা যদি অস্থিরতা শুরু করে?’

বাংলাদেশের অধিকাংশ রপ্তানিমুখী পোশাক কারখানার সঙ্গে ক্রেতারা একই ধরনের আচরণ করছে বলে অভিযোগ করেন মোস্তাফিজ। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকার স্বল্প সুদে ঋণ সহায়তা নিয়ে শ্রমিকদের পাশে দাঁড়ালেও বিশ্ব সংস্থাগুলো ‘নীরব ভূমিকা’ পালন করায় হতাশা প্রকাশ করেন তিনি।

মোস্তাফিজ উদ্দিন বলেন, ‘বিদেশি ক্রেতাদের সঙ্গে আমাদের দ্বিপক্ষীয় চুক্তিগুলো দুর্বল। কারখানা মালিকরা এক্ষেত্রে ভয় পায়। ফলে ক্রেতারা কারখানাগুলোর সঙ্গে যা ইচ্ছা তাই করে বেড়াতে পারে। তারাই আবার শ্রমিকের অধিকার ইস্যুতে কারখানাগুলোকে চাপ দেয়। তারাই টাকা বকেয়া রেখে শ্রমিকদের বিপদে ফেলে।’

advertisement