advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

চীনের যে প্রস্তাবিত আইনের বিরুদ্ধে হংকংয়ে বিক্ষোভ

অনলাইন ডেস্ক
২৪ মে ২০২০ ১৯:২৮ | আপডেট: ২৪ মে ২০২০ ২০:২৫
পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ওপর টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করে
advertisement

হংকংয়ের ওপর চীনের একটি নতুন নিরাপত্তা আইন চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টার প্রতিবাদে গণতন্ত্রপন্থী বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীদের অনেককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। 

আধা-স্বায়ত্বশাসিত চীনা অঞ্চল হংকংয়ের নগর কেন্দ্রে কর্তৃপক্ষের সতর্কবাণী উপেক্ষা করে হাজার হাজার বিক্ষোভকারী সমবেত হন। তারা ব্যানার দোলাতে থাকেন এবং সরকারবিরোধী শ্লোগান দেন।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, বিক্ষোভকারীরা আবর্জনার বিন এবং নানা জিনিসের টুকরো দিয়ে রাস্তা বন্ধ করে দেয়। কেউ কেউ পুলিশের দিকে ছাতা এবং পানির বোতল ছুড়ে মারে। পুলিশ তাদের ওপর টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করে। এ সময় প্রায় ১২০ জনকে গ্রেপ্তার করে ‍পুলিশ। 

চীনের প্রস্তাবিত আইনে কী আছে?

যে আইনটি পাস করার চেষ্টা হচ্ছে তাতে হংকংয়ে ‘রাষ্ট্রদ্রোহ, বিচ্ছিন্নতাবাদ, ও ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপ’ নিষিদ্ধ করা হবে। চীনের জাতীয় গণকংগ্রেসে অনুমোদনের আগে প্রস্তাবিত আইনটিকে ‘খসড়া সিদ্ধান্ত’ বলে আখ্যায়িত করা হচ্ছে। এতে একটি ধারায় বলা হয়, হংকংকে অবশ্যই ‘জাতীয় নিরাপত্তা উন্নত করতে হবে’।

এতে আরও বলা হয়, ‘যখন প্রয়োজন হবে, তখন কেন্দ্রীয় সরকারের প্রাসঙ্গিক জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলো হংকংয়ে এজেন্সি স্থাপন করবে, যাতে জাতীয় নিরাপত্তা সুরক্ষিত করতে আইন অনুয়ায়ী দায়িত্ব পালন করা যায়।’

এর অর্থ হচ্ছে, হংকংয়ের নিজস্ব সংস্থার পাশাপাশি চীন সেখানে তার নিজস্ব আইন প্রয়োগকারী সংস্থা রাখতে পারবে। এই আইনের ফলে হংকংয়ের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক কেন্দ্রের বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে, এমন আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে চীন যেসব দেশ এ বিষয়ে ‘নাক গলাচ্ছে’, তাদের সমালোচনা করেছে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও বলেছেন, এই পরিকল্পনা হবে হংকং নগরীর স্বাধীনতার মৃত্যুঘণ্টা।

তবে হংকংয়ের নেতা ক্যারি ল্যাম প্রস্তাবিত আইনকে পুরোপুরি সমর্থন করে বলেছেন, এই নগরীর স্বাধীনতা অক্ষুণ্ন থাকবে।

২০০ রাজনীতিবিদের বিবৃতি

এর আগে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ২০০ নেতৃস্থানীয় রাজনীতিবিদ চীনের আনা খসড়া বিলটির সমালোচনা করে এক বিবৃতি দেন। তারা সরকারগুলোর প্রতি এটা স্পষ্ট করে দেওয়ার আহ্বান জানান যে, হংকংয়ের স্বায়ত্বশাসন কোনোভাবে ব্যাহত করাকে বরদাস্ত করা হবে না।

ওই বিবৃতিতে স্বাক্ষরদাতাদের অন্যতম ছিলেন হংকংএর শেষ ব্রিটিশ গভর্নর ক্রিস প্যাটেন।

ওই বিবৃতিতে বলা হয়, চীন যে নতুন নিরাপত্তা আইনের পরিকল্পনা করেছে, তা দুই দশকেরও বেশি সময় আগে যে চীন-ব্রিটিশ যৌথ ঘোষণার মাধ্যমে হংকংয়ের স্বায়ত্বশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, তার নগ্ন লঙ্ঘন।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এ আইন হংকংয়ের স্বায়ত্বশাসন, আইনের শাসন এবং মৌলিক স্বাধীনতার ওপর এক সর্বাত্মক আক্রমণের শামিল।  

advertisement