advertisement
advertisement

‘প্রভাবশালীদের ভয়ে’ ১৭ ক্লিনিকে চিকিৎসাসেবা বন্ধ

নিজস্ব প্রতিবেদক,বগুড়া
২৫ মে ২০২০ ১৭:৫২ | আপডেট: ২৫ মে ২০২০ ২০:১৫
শেরপুরের মাহবুব ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার
advertisement

করোনাভাইরাসের ক্রান্তিকালে বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় বেসরকারি ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে পাঁচ দিন ধরে চিকিৎসাসেবা বন্ধ রয়েছে। এসব ক্লিনিক থেকে করোনাভাইরাস ছড়ানোর অভিযোগ তুলে স্থানীয় কয়েকজন যুবক চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধ করে দেন। ফলে প্রতিদিন শত শত রোগী চিকিৎসাসেবা বঞ্চিত হয়ে চরম বিপাকে পড়ছেন। 

জানা গেছে, উপজেলায় বেসরকারি ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সংখ্যা ১৭টি। এখানকার ক্লিনিকগুলোতে শেরপুর, ধুনট, নন্দীগ্রাম, রায়গঞ্জ, তাড়াশ ও কাজিপুর উপজেলাসহ পাশের এলাকার শত শত রোগী প্রতিদিন চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেন। এসব ক্লিনিকে নিম্ন আয়ের মানুষেরা কম খরচে চিকিৎসাসেবা পেয়ে থাকেন। ক্লিনিকগুলোতে বিভিন্ন রোগের অপারেশন করা হয়।

গত ১৮ মে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স রোড়ের ভিআইপি জেনারেল হসপিটালের ল্যাব টেকনোলজিস্ট ও ভিশন ল্যাব অ্যান্ড হসপিটালের পরিচালক করোনায় আক্রান্ত হন। উপজেলা প্রশাসন ওই দুটি ক্লিনিক লকডাউন ঘোষণার পর এলাকায় করোনাভাইরাস সংক্রমণের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তাই করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে স্থানীয় কয়েকজন যুবক ক্লিনিকগুলোতে চিকিৎসাসেবা বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

গত ২০ মে প্রতিটি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারেগুলোতে তারা হানা দিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে চিকিৎসাসেবা বন্ধ করে দেন। এ সময় রোগী দেখতে থাকা চিকিৎসকদের হুমকি দিয়ে ক্লিনিক থেকে বের করে দেওয়া হয়। ফলে ওই দিন থেকে ক্লিনিকগুলোতে চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক জানান, করোনা ক্রান্তিকালে সরকারি নির্দেশ মেনে ক্লিনিকগুলো খোলা রাখা হয়েছে। কিন্তু স্থানীয় প্রভাবশালীদের নানামুখী হুমকির কারণে চিকিৎসকরা ক্লিনিকে আসছেন না। তারা রোগীও দেখছেন না। ফলে এলাকাবাসী চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এ বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।

শেরপুর আল-রাজি ক্লিনিকের চিকিৎসক আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘বুধবার (২০ মে) বিকেলের দিকে ক্লিনিকে রোগী দেখার সময় স্থানীয় ৮-১০ জন যুবক হকিস্টিক ও লাঠি হাতে ক্লিনিকে এসে ভয়ভীতি দেখিয়ে চিকিৎসাসেবা বন্ধ করে দেন। তারপর থেকে নিরাপত্তাহীনতার কারণে ক্লিনিকে রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিতে পারছি না।’

শেরপুর মাহবুব ক্লিনিকের চিকিৎসক আমিরুল হোসাইন চৌধুরী বলেন, ‘স্থানীয় কতিপয় যুবকদের হুমকির মুখে চরম নিরাপত্তাহীনতার মাঝে দিনযাপন করছি। তাদের ভয়ে ক্লিনিকে রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।’

শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘এ বিষয়ে ক্লিনিকের মালিকপক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ করেনি। তারপরও ক্লিনিকের মালিক সমিতির নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছি। বর্তমানে সবগুলো ক্লিনিক খোলা রয়েছে। তবে কোনো কোনো ক্লিনিকে ডাক্তারা চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন না।’

advertisement