advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

লালমনিরহাটে ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

লালমনিরহাট প্রতিনিধি
২৭ মে ২০২০ ০৯:০৭ | আপডেট: ২৭ মে ২০২০ ১১:৩২
লালমনিরহাটে ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ফসলের ক্ষতি। ছবি : আমাদের সময়
advertisement

লালমনিরহাটের পাঁচটি উপজেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে পাকা ধান, ভুট্টা ক্ষেতসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এ ছাড়া বেশকিছু বাড়িঘরেরও ক্ষতি হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে শিলাবৃষ্টি শুরু হলে এ ক্ষয়ক্ষতি হয়।

স্থানীয়রা জানান, রাত ৯টার দিকে হঠাৎ আকাশ কালো মেঘে ছেয়ে যায়। কিছুক্ষণের মধ্যে প্রচণ্ড বেগে ঝড় শুরু হলে অনেক গাছপালা ভেঙে যায়। এর পরপরই শুরু হয় শিলাবৃষ্টি। বড় বড় আকারের শিলার আঘাতে অনেক হালকা ও পুরাতন টিনের ঘর ফুটো হয়ে গেছে।

তারা আরও জানান, বোরা ধান মাড়াই মৌসুমে এমন ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে পাকা ও আধাপাকা ধান ছিঁড়ে মাটিতে পড়েছে। লণ্ডভণ্ড হয়েছে ধান গাছ। জেলায় ৫০ শতাংশ জমির ধান কৃষকের ঘরে পৌঁছলেও বাকি অর্ধেক মাঠেই পড়ে রয়েছে। মাঠে থাকা পাকা ধানের অভাবনীয় ক্ষতি হয়েছে। ফলে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে খাদ্য সংকটের শঙ্কায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা।

হাতীবান্ধা, কালীগঞ্জ, আদিতমারী ও সদর উপজেলায় শিলাবৃষ্টির পরিমাণ বেশি হওয়ায় কৃষিতে ক্ষতির পরিমাণও বেশি বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন কৃষকরা। বোরোসহ নানা জাতের সবজিতে ভরে রয়েছে জেলার কৃষকদের ফসলের মাঠ। যা এই ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে লন্ডভন্ড হয়েছে।

কৃষক আমজাদ আলী বলেন, ‘প্রায় এক বিঘা জমির বোরো ধান পাকার উপযোগী হয়েছে। যে বড় বড় পাথর পড়েছে তাতে গাছে একটা ধানও থাকার কথা নয়। ক্ষতির পরিমাণ এখনো বোঝা যাচ্ছে না। ধান ঘরে আনতে না পারলে করোনাকালে না খেয়ে মরতে হবে।’

চলবলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মিজু জানান, মঙ্গলবার রাতে টানা চার-পাঁচ মিনিট ধরে তার এলাকায় শিলাবৃষ্টি হয়েছে। পাথরের আকারও ছিল বেশ বড়। বেশকিছু পুরাতন টিনের ঘরের ছাউনি ফুটো হয়েছে। এ এলাকায় ৫০ শতাংশ জমিতে পাকা বোরো ধান পড়ে রয়েছে। যা এ ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে।

লালমনিরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক শামীম আশরাফ বলেন, শিলাবৃষ্টিতে পাকা ধান ও ভুট্টার কিছুটা ক্ষতি হতে পারে। যেসব স্থানে শিলাবৃষ্টি হয়েছে সকালে পাঁচ উপজেলার কর্মকর্তাকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পরিদর্শন করতে পাঠানো হবে।

জানতে চাইলে লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক আবু জাফর জানান, জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে খোঁজখবর নিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রবিউল হাসানকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই উপজেলা প্রশাসন ও ইউনিয়ন পরিষদ যৌথভাবে ১৭৩টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা করেছে।

এর আগে জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার চলবলা ইউনিয়নে ঈদের দিন ঝড়ের তাণ্ডবে ২৫৯টি পরিবারের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ওই সময় চলবলার নিথক গ্রামে ঘরের ওপর গাছের ডাল পড়ে দুই শিশুসহ আটজন আহত হয়।

advertisement