advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

আগুন লাগার পর হামাগুড়ি দিয়ে বেরিয়ে যান ডাক্তার-নার্স

জনি রায়হান
২৮ মে ২০২০ ০১:৪৩ | আপডেট: ২৮ মে ২০২০ ১২:০৭
ইউনাইটেড হাসপাতালে আগুন। ছবি : সংগৃহীত
advertisement

রাজধানীর গুলশানে ইউনাইটেড হাসপাতালের অগ্নিকাণ্ডে করোনা ইউনিটে চিকিৎসাধীন পাঁচজন রোগী মারা গেছেন। সব রোগীদের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইউনাইটেড হাসপাতাল।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মকর্তা দৈনিক আমাদের সময় অনলাইনকে বলেন, ‘করোনা ইউনিটে পাঁচজন রোগী ছিল। তাদের সবার লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।’

‘পাঁচ করোনা রোগীর সাথে একজন চিকিৎসক ও একজন নার্স সে সময়ে ডিউটিতে ছিলেন। আগুন লাগার পর তারা হামাগুড়ি দিয়ে সেখান থেকে বেরিয়ে এসেছেন। এই মোট সাতজন ছিল সেই করোনা ইউনিটে’, যোগ করেন ইউনাইটেড হাসপাতালের এই কর্মকর্তা।

অগ্নিকাণ্ডে নিহতরা হলেন—মো. মাহবুব (৫০), মো. মনির হোসেন (৭৫), ভারনন এ্যান্থনী পল (৭৪), খাদেজা বেগম (৭০) এবং রিয়াজ উল আলম (৪৫)। এখন পর্যন্ত মৃত ব্যক্তিদের বিস্তারিত পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।

এর আগে গতকাল বুধবার রাত ৯টা ৪৫ মিনিটের দিকে হাসপাতালে আগুনের সূত্রপাত হয়। হাসপাতালের আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে রাত ১০টা ২৫ মিনিটে। হাসপাতালের ভেতর থেকে পাঁচটি মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস। নিহতদের মধ্যে চারজন পুরুষ ও একজন নারী রয়েছেন।

হাসপাতালের নিচ তলার এসি বিস্ফোরণে এই আগুন লাগে জানিয়ে কামরুল আহসান আরও জানান, প্রচণ্ড ধোঁয়ায় ওই পাঁচ রোগীর মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করছে ফায়ার সার্ভিস।

পাঁচ রোগীর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ইউনাইটেড হাসপাতালের কমিনিউকেশনে অ্যান্ড বিসনেস ডেভেলপমেন্টেরের হেড ডা. সাগুফতা আনোয়ার।

রাজধানীর গুলশানে ইউনাইটেড হাসপাতালের অগ্নিকাণ্ডে ঘটনায় দুঃখপ্রকাশ করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বুধবার রাতে এক বিবৃতি দিয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, গভীর দুঃখের সাথে জানাচ্ছি ২৭ মে আনুমানিক রাত সাড়ে নয়টার দিকে হাসপাতাল সংলগ্ন মূল ভবনের বাইরে ইউনিটে সম্ভবত বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটের মাধ্যমে আগুনের মধ্যে অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয় এবং আগুন আইসোলেশন ইউনিটের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে।

বিবৃতিতে বলা হয়, সেই সময় আবহাওয়া খারাপ ছিল ও বিদ্যুৎ চমকাচ্ছিল। বাতাসের তীব্রতায় আগুন প্রচণ্ড দ্রুততার সাথে জড়িয়ে পড়ার ফলে দুর্ভাগ্যবশতভাবে সেখানে ভর্তি পাঁচজন রোগীকে বাইরে বের করে আনা সম্ভব হয়নি এবং ভেতরে থাকা এই পাঁচজন রোগী মৃত্যুবরণ করেন। এই আইসোলেশন ইউনিটের পাঁচজনের সবাই করোনা উপসর্গ নিয়ে ভর্তি ছিলেন।

বিবৃতিতে বলা হয়, তাদের মধ্যে চারজন পুরুষ একজন নারী। তারা হলেন—রিয়াজুল আলম (৪৫), খোদেজা বেগম (৭০), ভেরুন এন্থনি পল (৭৪), মো. মনির হোসেন (৭৫), মো. মাহবুব (৫০)।

বিবৃতিতে বলা হয়, দমকল বাহিনীকে তাৎক্ষণিক খবর দেওয়া হয়। হাসপাতালের নিজস্ব অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা ও দমকল বাহিনীর সহায়তায় ১৫ থেকে ২০ মিনিটের মধ্যেই আগুন নিভিয়ে ফেলা হয়। অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধানে দমকল বাহিনী তদন্ত করছেন এবং ইউনাইটেড হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এই সম্পর্কে তাদেরকে সহায়তা প্রদান করছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, এই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনায় পাঁচজন রোগীকে আমরা হারিয়েছি। তাদের শোকসন্তপ্ত পরিবারকে আমরা ইতিমধ্যে ঘটনা সম্পর্কে অবহিত করেছি। এই ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও আমাদেরকে যথেষ্ট সহায়তা করছেন। ইউনাইটেড হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স কর্মকর্তা-কর্মচারী পক্ষ থেকে আমরা এই ঘটনায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করছি।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সকল রোগীর নিরাপত্তার ব্যাপারে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নিয়েছে।

হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের পরিবারকে ঘটনায় আতঙ্কিত না হতে বিবৃতিতে অনুরোধ করে ইউনাইটেড হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

advertisement