advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

নির্দেশ অমান্য করায় নির্যাতনের পর স্ত্রীর চুল কেটে দিলো স্বামী

নিজস্ব প্রতিবেদক
২৮ মে ২০২০ ১১:২০ | আপডেট: ২৮ মে ২০২০ ১৩:২৯
স্ত্রীর মাথার চুল কেটে দিলো লম্পট স্বামী। ছবি : সংগৃহীত
advertisement

নওগাঁর সাপাহার উপজেলায় স্বামীর অনৈতিক হুকুম অমান্য করায় জেসমিন বেগম (৩০) নামে এক গৃহবধুর ওপর নির্যাতন চালিয়ে মাথার চুল কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনার পর থেকে ওই গৃহবধূর স্বামী রফিকুল ইসলাম (৪০) ও শাশুড়ি রাজিয়া বেগম (৭০) পলাতক রয়েছে।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার হাপানিয়া বেলডাঙ্গা গ্রামের হোসেন আলীর ছেলে রফিকুল ইসলামের সঙ্গে প্রায় এক বছর আগে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার চাঁনপুর সাহেব গ্রামের নূরল ইসলামের মেয়ে জেসমিন বেগমের বিয়ে হয়। বিয়ের পর তাদের দাম্পত্য জীবন কিছুদিন ভালো কাটলেও পরে ওই সংসারে তিক্ততা বাড়তে থাকে। স্বামী ও শাশুড়ি মিলে জেসমিনের ওপর শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন চালাতে থাকে।

গৃহবধূ জেসমিনের অভিযোগ, গত শনিবার তাকে দিয়ে গ্রামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বানোয়াট অপবাদ রটানোর জন্য স্বামী রফিকুল ইসলাম নির্দেশ দেয়। কিন্তু এই নির্দেশে রাজি না হওয়ায় রফিকুল ও তার মা মিলে তার ওপর নির্যাতন চালায়।

শারীরিক নির্যাতনের একপর্যায়ে তার মাথার সব চুল কাচি দিয়ে কেটে ফেলে ও যৌনাঙ্গে মরিচের গুড়ো ছিটিয়ে দেয় স্বামী রফিকুল। পরে ঘটনা ধামাচাপা দিতে তাকে বিভিন্ন প্রকার ভয়-ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন ওই গৃহবধূ।

বর্তমানে সাপাহার হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন জেসমিন। তিনি জানান, স্বামী ও শাশুড়ির হুমকির মুখে প্রাণের ভয়ে গত তিনদিন ধরে তার নির্যাতনের ঘটনা গোপন রাখেন তিনি। পরে গত সোমবার বিকেলে গ্রামের অন্য নারীরা তার মাথার চুলের বিষয়ে জানতে চায়। এ সময় তিনি সবার কাছে নির্যাতনের ঘটনা প্রকাশ করেন। পরে গ্রামের লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে উঠলে স্বামী ও শাশুড়ি কৌশলে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়।

এ বিষয়ে সাপাহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হাই জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত হয়েছেন। জেসমিনের বাবা নুরল ইসলাম বাদী হয়ে সাপাহার থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে একটি মামলা দায়ের করেছেন। আসামিরা পলাতক থাকায় তাদেরকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।

advertisement